
স্টাফ রিপোর্টার
গহীন জঙ্গলে ও পাহাড়ে বাস করা ৫টি বিষাক্ত রাসেল ভাইপার সাপ চাঁদপুরে ধরা পড়েছে। এছাড়া এ প্রজাতির প্রায় ৫টির মত সাপ গত ২ মাসে এলাকার কিশোর ও যুবকদের হাতে ধরা পড়ার পর মেরে ফেলেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যায়। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসনের সহায়তায় সরকারের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ভেনম রিচার্জ সেন্টারের কর্মকর্তারা এ পর্যন্ত ৪টি সাপ তাদের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম নিয়ে যায়। গত শুক্রবার ধরা পড়া সাপটিও নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ধরা পরার পর সাপ দেখার জন্য স্থানীয় অনেক নারী ও পুরুষ ভিড় জমায়।
চাঁদপুরে পঞ্চমবারের মতো ধরা পড়েছে ভয়ংকর বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ সাপ। এ বিষধর সাপের আবির্ভাবে শহরবাসী আতংকিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নদীর পাড়ের মানুষ নির্ঘুমে রাত কাটাচ্ছে বলে নদী পাড়ের বসবাসকারী অনেক অধিবাসীর সাথে আলাপকালে তারা জানান।
চাঁদপুরে নদী পাড় এলাকার ৫টি স্থান থেকে এ পর্যন্ত ৫টি জীবন্ত রাসেল ভাইপার ধরা পড়ে। পাহাড়ি ঢল অথবা বর্ষার পানি চাঁদপুর দিয়ে বঙ্গোপসাগরে নেমে যাওয়ার সময় এ বিষধর সাপ চাঁদপুরে অবস্থান নেয় বলে অনেকের মতামত। এলাকাবাসী, ওঝা ও সাপুড়েদের ধারণা চাঁদপুরে এ প্রজাতির বহু সাপ পানির সাথে এসেছে। এ বিষধর সাপগুলোর বসবাস শুকনো জায়গায়। এরা দীর্ঘদিন নদীতে থেকে তাদের খাওয়ার উপযোগী খাদ্য না পেয়ে ডাঙ্গায় অথবা মানুষের বাড়ি ঘর-বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার জন্য নদী থেকে উপরে উঠে আসছে।
এ রাসেল ভাইপার বড় আকারের গুলো মানুষের চোখে পড়ায় ধরা পড়ছে অথবা মারা পড়ছে। এদের মধ্যে ছোট আকারের গুলো মানুষের ঘরে প্রবেশ করলে ও মানুষকে দংশন করলে কাউকে বাচাঁনো যাবে না এ ভয়ংকর আতংকে চাঁদপুর নদী পাড়ের মানুষদের। নদী পাড়ের মানুষের ঘরের নিচ দিয়ে ফাঁকা থাকে, এতে করে যখন-তখন এ সাপ প্রবেশ করার আতংকে অনেকে রাত্রি কাটায় নির্ঘুমে। এলাকাবাসীর দাবি স্থানীয় প্রশাসন নদী পাড়ে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে এ বিষাক্ত রাসেল ভাইপারের সন্ধান করে ধরে অথবা মেরে ফেলা প্রয়োজন।
জানা গেছে, ভয়ংকর বিষধর রাসেল ভাইপার এক ছোবলেই মৃত্যু নিশ্চিত। কারণ রাসেল ভাইপারে কামড়েছে অথচ বেঁচে গেছেন এমন উদাহরণ নেই বললেই চলে। আবার কেউ ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও এ সাপের বিষ ‘হেমোটক্সিন’ হওয়ায় মাংস পঁচে-পঁচে পড়ে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার পশ্চিম শ্রীরামদী রওনাগোয়াল এলাকার সংবাদকর্মী বিমল চৌধুরীর বাড়ি সংলগ্ন মেঘনা নদীর পাড়ে কচুরিপানার ওপর থেকে ধরা হয়েছে প্রায় ৭ ফুট লম্বা ভয়ংকর বিষধর ও বিরল প্রজাতির রাসেল ভাইপার সাপ, বাংলায় যাকে বলা হয় চন্দ্রাবোড়া। এ পর্যন্ত সব সাপেরই আকারে ৫ থেকে ৭ ফুট লম্বা।
নদীতে গোসল করতে গিয়ে স্থানীয় কিশোররা সাপটি দেখতে পেয়ে হাত দিয়ে ধরে ফেলে বস্তায় ঢুকিয়ে পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহিদ হোসেনকে খবর দেন। পরে পুলিশ সাপটি উদ্ধার করে চাঁদপুরের বন বিভাগের কর্মকর্তা কামরুল হাসানের হাতে তুলে দেন।
এর আগে গত ১৯ আগস্ট দুপুরে চাঁদপুরে শহরের কোড়ালিয়া এলাকায় মেঘনা নদীর পাশে একটি পুকুর থেকে সবুজ নামের এক যুবক এ ধরনের আরেকটি সাপকে উদ্ধার করে। ঐ সময় জানা যায়, কয়েকদিন আগে এলাকার যুবকরা ২টি এ প্রজাতির সাপ মেরে ফেলেছে। তারপর শহরের গুণরাজদী এলাকা থেকে রাসেল ভাইপার একটি সাপ উদ্ধার করা হয়। ঐ দিনই শহরের মাদ্রাসা রোড টিলাবাড়ি এলাকায় একটি সাপ ধরা পড়ে। এছাড়া গত ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শহরের পর্যটন এলাকা খ্যাত মেঘনা নদীর মোলহেডের নদীরক্ষা বাঁধের ব্লকের কাছ হতে কচুরীপানার উপর থেকে যুবক সোবান হোসেন একটি রাসেল ভাইপার সাপ দেখতে পেয়ে সেটিকে ধরে বাড়িতে নিয়ে খাচায় বন্দি করে রাখে। পরে চট্টগ্রাম থেকে সংশ্লিষ্টরা এসে সেটিকে নিয়ে যায়।
এ পর্যন্ত ৪টি সাপ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ভেনম রিসার্চ সেন্টারের প্রতিনিধিদের হাতে হস্থান্তর করা হয়। শুক্রবার ধরা পড়া রাসেল ভাইপার সাপটি নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
চন্দ্রবোড়া সাপটি অনেক বিষধর। এটি ভারত, চীন, থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশে আছে। বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু জেলায় এবং দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় রাসেল ভাইপার সাপটির অস্তিত্ব মিললেও চাঁদপুরে এটি এ বছর পাওয়া যাচ্ছে। বন্যার পানির সাথে ভেসে সাপগুলো এখানে এসে থাকতে পারে। হয়তো এটি কোন কারণে ফিরে যেতে পারেনি।
চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইমরান হোসাইন সজীব জানান, আমরা রাসেল ভাইপার নামের ৪টি বিষধর সাপ এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ভেনম রিচার্জ সেন্টারের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করি। এর আগেও স্থানীয়রা এক মাস আগে একই প্রজাতির কয়েকটি সাপ পিটিয়ে মেরে ফেলা হয় বলে জানা যায়।
০১ অক্টোবর, ২০১৯।
