চাঁদপুরে আ.লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল্লাহ খুন

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কোম্পানী (৭০) নিজ বাড়িতে ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন। তার শরীরের বিভিন্নস্থানে ৫টি ছুরির আঘাত পাওয়া যায়। তবে কে বা কারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এ ঘটনাটি ঘটে। তবে ঘটনার পর হাসপাতাল থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কেয়ারটেকার মিরাজকে ডিবি পুলিশ নিয়ে যায়।
রফিকুল ইসলাম কোম্পানী চাঁদপুর শহরের নতুনবাজার এলাকার মৃত হেদায়েত উল্ল্যাহ ছেলে ও চাঁদপুরের প্রথম শহীদ জাবেদের ছোট ভাই। তিনি শহীদ জাবেদ মুক্ত স্কাউটের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি অবিবাহিত ছিলেন।
জানা যায়, রফিকুল্লাহ নিজ বাসায় শহরের নতুন বাজারস্থ সফিনা বোডিং বিল্ডিংয়ের পাশের ভবনের ২য় তলায় বিশ্রামে ছিলেন। মাগরিবের নামাজের পর তাঁর বাসার কেয়ারটেকার মিরাজ বাসায় এসে দেখেন কে বা কারা রফিকুল ইসলাম কোম্পানীকে ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। এরপর মিরাজ রফিকুল্লাহর কাছে গিয়ে দেখেন শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত ও একটি ছুরি তাঁর শরীরের বাম অংশে গেথে রয়েছে। পরে তার ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে দ্রুত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করে।
এদিকে তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে আসেন কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আসিফ মহিউদ্দিনসহ দলীয় নেতাকর্মী ও শত শত জনগণ।
খুন হওয়া রফিকুল্লাহর বাসার কেয়ারটেকার মিরাজ জানায়, যে ছেলেটি দৌঁড়ে বাসা থেকে পালিয়ে যায় শুনেছি তার বাসা ওয়ারলেস এলাকায়। কাকা কখনো তার নাম আমাকে বলেননি। প্রায়ই সে কাকার বাসায় ও অফিসে আসতো। সে যে এ ধরনের কাজ করবে, আমি জানতাম না। যদি জানতাম, তাহলে আমি বাসা থেকে বাইরে যেতাম না। আমি মাগরিবের নামাজ পড়তে গিয়েছি। আর বাসায় ফিরে এসে কাকাকে এমন দেখতে হতো না।
হাসপাতালের কর্তব্যরত ডা. সাগর মজুমদার বলেন, তার শরীরে বেশ কয়েকটি ধারালো ছুরির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এমনকি একটি ছুরি তার বুকের বাম পাশে গেঁথে আছে। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি খুন মনে হচ্ছে। আরো তদন্তের বিষয় রয়েছে। তদন্ত শেষে বাকি তথ্য জানানো হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল খুনির কঠিন শাস্তির দাবি জানান।
সুজিত রায় নন্দীর শোক : চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিক উল্ল্যাহ কোম্পানী গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তার বাসায় সন্ত্রাসী হামলায় শিকার হন। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন (ইন্নালিল্লাহে—-রাজিউন)।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী।
তিনি এক শোক বার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২।