চাঁদপুরে ইলিশ আহরণে মধ্যরাত থেকে নদীতে নেমেছে জেলেরা

অভিযানে ৩৯৯ জেলে আটক

স্টাফ রিপোর্টার
ইলিশের প্রজনন রক্ষায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার অভয়াশ্রমে নিষেধাজ্ঞা শেষে সব ধরনের মাছ আহরণ শুরু হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর ২২ দিন নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ রেখেছিলো সরকার। রোববার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণে আর বাঁধা নেই।
জেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, চাঁদপুর পদ্মা-মেঘনার ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে রোববার রাত ১২টায়। সেজন্য নদীতে মাছ আহরণের জন্য জেলেরা প্রস্তুতি নিচ্ছে। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত নৌ-সীমানায় ৪৩ হাজার ৭৭৫ জন নিবন্ধিত জেলে রোববার মধ্যরাতে মাছ আহরণ করতে নদীতে নামবে। তবে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তা জেলেরা সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। জেলা টাস্কফোর্স জানিয়েছে, এবছর মা ইলিশ রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল।
জেলা মৎস্য অফিস আরো জানায়, অভিযানকালে অসাধু জেলেদের আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ও ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এবার জেলা টাস্কফোর্স ৫০৩টি অভিযান, ৬৫টি মোবাইল কোর্ট, ২১২টি মামলা ও ৩৯৯ জনকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। ১৫ লাখ ১৮৫ মিটার কারেন্টজাল জব্দ করে পুড়িয়েছে এবং ২,৪৩১ কেজি ইলিশ আটক করে গরিব-দুঃস্থ ও এতিমদের মাঝে বিতরণ করেছে।
চাঁদপুর পদ্মা-মেঘনা উপকুল এলাকায় অধিকাংশ মানুষ মৎস্য আহরণ ও কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। জেলেরা অধিকাংশই গুল্টিজাল ব্যবহার করে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ আহরণ করে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ নিধন করায় তাদের আটক করে মামলা ও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়। ২২ দিন বেকার থাকার পর নৌকা ও জাল মেরামত করে জেলেরা মাছ ধরার প্রস্তুতি নিয়েছে। তাদের স্বপ্ন নিষেধাজ্ঞা শেষে কাক্সিক্ষত ইলিশের দেখা মিলবে।
সদর উপজেলার রঘুনাথপুর, আনন্দ বাজার, রণাগোয়াল এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, জাল ও নৌকা মেরামত কাজে জেলেরা ব্যস্ত সময় পার করছে। শাহজাহান মাঝি ও আনোয়ার মাল বলেন, সরকার মা ইলিশ রক্ষায় যে অভিযান দেয় তা আমরা মানি। তবে মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর এলাকার কিছু অসাধু জেলে এসে অনেক মাছ ধরে নিয়ে যায়। যে কারণে অভিযান শেষে নদীতে নেমে আমরা মাছ পাই না। আমাদের ঋণ করে নতুন জাল ও নৌকা মেরামত করে নদীতে নেমে মাছ না পেলে খুবই খারাপ পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। আর নিষেধাজ্ঞা সময়কালে যে পরিমাণ খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়, তা দিয়ে কিছুই হয় না। এখনকার বাজারে যে অবস্থা, জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি, সন্তানদের পড়ালেখার খরচ চালানো অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
চাঁদপুর মাছ ঘটের ব্যবসায়ীরা জানান, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার ২২ দিনের যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, এবার তা অনেকটাই সফল বাস্তবায়ন হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকায় কোন জেলেই নদীতে নামতে পারেনি। আমরা লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে বসে আছি। দেখা যাক অভিযান শেষে কি পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যায়!
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, ইলিশ সামুদ্রিক মাছ। ডিম ছাড়ার জন্য এ সময়টাতে মিঠাপানিতে ছুটে আসে। জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় সরকার ২২ দিনের যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স তা সর্বাত্মক সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। অভিযানকালে জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল সরকার দিয়েছে।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, কোস্টগার্ড ও জেলা টাস্কফোর্সের যৌথ অভিযানে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল হওয়ায় এবছর ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জনসাধারণ ইলিশ কিনতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

০৪ নভেম্বর, ২০২৪।