এস এম সোহেল
ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আনন্দের বন্যায় ভাসলো চাঁদপুরবাসী। গত শনিবার ঈদের জামাত শেষে চলে কোলাকুলি আর সৌহার্দ্য বিনিময়। চাঁদপুরের প্রধান জামাত পৌর ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়। এখানে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইমতিয়াজ হোসেন, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হেদায়েত উল্লাহসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ নামাজ আদায় করেন।
ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন হাজী শরীয়াত উল্লাহ্ (রহ.) ৭ম পুরুষ ও বাহাদুরপুরের পীর আলহাজ মাও. আব্দুল্লাহ্ মোহাম্মাদ হাসান। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহসহ সব ধর্মাবলম্বী এবং দেশের সব মানুষের উন্নতি, সমৃদ্ধি, সুখ-শান্তি, আখেরাতের নাজাত ও মুক্তি কামনা করে মহান আল্লাহ তাল্লার দরবারে মোনাজাত করা হয়।
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সারাদেশে মুসলমানরা তাদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন করেন। এই আনন্দের আমেজ মূলত রমজান শুরুর সঙ্গে সঙ্গে ছড়াতে থাকে। আর এর পূর্ণতা আসে ঈদ উদযাপনের মধ্য দিয়ে। চাঁদপুর শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় মুসলমানরা মেতে উঠে ঈদের আনন্দে। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ও আধাসরকারি ভবনগুলোতে আলোকসজ্জা করা হয়।
সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় শহরের বাবুরহাট পুলিশ লাইনস্ ময়দানে। সেখানে পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ ও উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা নামাজ আদায় করেন। নামাজে ইমামতি করেন পুলিশ লাইনস্ জামে মসজিদের খতিব মাও. আব্দুস সালাম।
এছাড়া সকাল ৮টায় ঈদের অনুষ্ঠিত হয় চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামে। সেখানে ইমামতি করেন সদর উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মুফতি কেফায়েত উল্লাহ। একই সময়ে ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে। সেখানে ইমামতি করেন কলেজ মসজিদের খতিব মাও. নিজামুল হক। সকাল ৮টায় ঐতিহাসিক বেগম জামে মসজিদ, সকাল ৮টায় প্রথম ও সকাল ৯টায় দ্বিতীয় ঈদের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয় শহরের চিশতিয়া জামে মসজিদ ও হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, সকাল সাড়ে ৮টায় পুরান বাজার মধুসুধন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, এমদাদিয়া মাদ্রাসা, পুরান বাজার হাফেজিয়া মাদ্রাসা, দক্ষিণ গুনরাজদী আহম্মদিয়া ঈদগাহ্ ময়দান, পূর্ব শ্রীরামদী ৩নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, টেকনিক্যাল হাই স্কুল মাঠ, রামদাসদী বায়তুন নুর জামে মসজিদ, শহরের বাস স্ট্যান্ড গৌর-এ-গরীবা জামে মসজিদ, পুরান বাজার ঐতিহাসিক চৌধুরী বাড়ী জামে মসজিদ, সকাল ৮টায় বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, জেলা কারাগার জামে মসজিদ, ওসমানিয়া কামিল মাদ্রাসা জামে মসজিদ, সোয়া ৮টায় রেলওয়ে বায়তুল আমিন জামে মসজিদ, সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় সংলগ্ন চেয়ারম্যান ঘাটা জামে মসজিদের ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
পুরান বাজার ৩নং বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করেন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।
অপরদিকে জেলার ঐতিহাসিক হাজীগঞ্জ বড় মসজিদে ৩টি ঈদুল ফিতরের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টা, সকাল ৮টা ও সকাল ১০টায় সর্বশেষ ঈদ জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাতে ইমামতি করেন বড় মসজিদের খতিব হাফেজ মুফতি আব্দুর রউফ। ঈদের জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রেখেছে।
ঈদ মুসলিম বিশ্বের জন্য এক আনন্দঘন উৎসব। ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করার জন্য একসঙ্গে নামাজ আদায় করে শিশু বৃদ্ধ সবাই শামিল হয় মসজিদগুলোতে। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করেন একে অপরের সঙ্গে। মুহূর্তে গোটা এলাকা সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতির মিলন মেলায় পরিণত হয়। দোয়া ও মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহসহ সব ধর্মাবলম্বী এবং দেশের সব মানুষের উন্নতি, সমৃদ্ধি, সুখ-শান্তি, আখেরাতের নাজাত ও মুক্তি কামনা করে মহান আল্লাহতাল্লার দরবারে মোনাজাত করা হয় চাঁদপুরের ঈদের জামাতগুলোতে।
ঈদে প্রত্যেক বাড়িতে সেমাইয়ের সঙ্গে থাকে ফিরনি, পিঠা, পায়েস, কোরমা, পোলাওসহ সুস্বাদু সব খাবারের সম্ভার। রোগীদের জন্য হাসপাতাল এবং এতিমখানা ও বন্দিদের জন্য জেলখানায় থাকে বিশেষ খাবারের আয়োজন।
এ দিন ধনী-গরিব, আশরাফ-আতরাফ নির্বিশেষে সবাই এক কাতারে শামিল হন এবং ঈদের আনন্দ ভাগভাগি করে নেন। তাই শান্তিপূর্ণ ও সৌহাদ্যপূর্ণ সমাজ গঠনে ঈদুল ফিতরের আবেদন চিরন্তন। ঈদুল ফিতরের শিক্ষা আমাদের সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে উদ্বুদ্ধ করা। অপরদিকে ঈদের নামাজ শেষে নিজ নিজ ঘরে সাধ্যমত খাবার খেয়ে ঘুরতে বের হয় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নারী-পুরুষ। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছে চাঁদপুরবাসী।
২৯ এপ্রিল, ২০২৩।
