চাঁদপুরে করোনা ভাইরাস নিয়ে গুজবে যুবক আটক


স্টাফ রিপোর্টার
রোগ-শোক, মহামারী এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে গুজব ছড়ানো এবং অপপ্রচারে লিপ্ত হওয়া কুচক্রী মহল আবারো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বর্তমানে বিশ^ব্যাপী মহামারী আতংক করোনা ভাইরাস নিয়েও ওই চক্রটি এখন আবার সক্রিয়। এদের অন্যতম খাজা মোহাম্মদ মাকসুদকে চাঁদপুরের গোয়েন্দা পুলিশ আটক করেছে। গতকাল সোমবার বেলা পৌনে ১টার সময় তাকে চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডস্থ ফয়সালা শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত তার মালিকানাধীন সাইমন ডিজিটাল হাউজ এন্ড অফসেট প্রেস থেকে আটক করা হয়।
তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ডা. ইফতেখার আদনান কর্তৃক মোবাইলে করোনা ভাইরাসে একদিনে চট্টগ্রামে মৃতের সংখ্যা ১৮/১৯ জন উল্লেখ করে যে গুজব রটানো হয়েছিল, এই ভিডিও ক্লিপটি খাজা মাকসুদ তার নিজস্ব ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করে জনমনে আতংক সৃষ্টি করে। খাজা মাকসুদের গ্রামের বাড়ি হচ্ছে চাঁদপুর সদর উপজেলা বাগাদী ইউনিয়নস্থ ইসলামপুর গাছতলা। তার বাবার নাম খাজা মোহাম্মদ অলি উল্লাহ।
জেলা গোয়েন্দা শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমানের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ নূর হোসেন মামুনের নেতৃত্বে এসআই মো. রেজাউল করিম গতকাল সোমবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। তখন তার মোবাইলে করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানো এবং অপপ্রচারকারী ডা. ইফতেখার আদনানের ভিডিও ক্লিপটি পাওয়া যায়। যেটি খাজা মাকসুদ গত ২১ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ১০মিনিটের সময় শেয়ার করে জনমনে আতংক সৃষ্টি, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা চালায়। তাকে আটকের সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল সেটটিও উদ্ধার করা হয়। যেটির মধ্যে ডা. ইফতেখার আদনানের সেই গুজবটি আপলোড করা ছিল। তার বিরুদ্ধে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় গতকাল সোমবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ -এর ৩১(২) ধারায় রুজু করা হয়।
উল্লেখ্য, আটক আসামি খাজা মাকসুদের বিরুদ্ধে ৪টি নাশকতা মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলাগুলো হলো- চাঁদপুর সদর মডেল থানা মামলা নং-৬, তারিখ: ৩/১২/২০১৩ খ্রিঃ ধারা ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/ ৩৩২/৩৩৩/৩০২/৪২৭/৩৪ পেনাল কোড। চাঁদপুর সদর মডেল থানার মামলা নং-৪৪, তারিখঃ ২২/০২/২০১৩ খ্রিঃ, ধারা- ১৪৩/৩৫৩/৩৩২/৩০৭/৩৩৪/৩৪ পেনাল কোড। চাঁদপুর সদর মডেল থানার মামলা নং- ৪৫, তারিখঃ ২২/০২/২০১৩ খ্রিঃ, ধারা-১৯৭৪ সনের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ (২)। চাঁদপুর সদর মডেল থানার মামলা নং-০৭, তারিখঃ ০৩/১২/২০১৩ খ্রিঃ, ধারা- ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৩/৬।