চাঁদপুরে করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনক

আরটি পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার সক্ষমতার অভাব

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। সাথে যোগ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলও। আর করোনার উপসর্গের রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে ব্যাপকহারে। করোনা সনাক্তের পরীক্ষার জন্য জেলার সবগুলো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৪শ’ থেকে ৫শ’ ব্যাক্তি স্যাম্পল দিচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেগুলো হতে কালেকশান করা এসব স্যাম্পল চাঁদপুর ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ আরটি পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। আর এই ল্যাবের ২টি শিফটে পরীক্ষার সক্ষমতা হচ্ছে ১শ’ ৮০টি স্যাম্পলের।
এমন পরিস্থিতিতে প্রতিদিন ২শ’ থেকে ৩শ’ স্যম্পেল পরীক্ষা করার জন্য চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও নোয়াখালীতে প্রেরণ করতে হচ্ছে বলে চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। এতে করে ঐসব স্যাম্পেলের রিপোর্ট আসতে সময় লাগছে ৪-৬দিন। এত দীর্ঘ সময় লাগার কারণে করোনার উপসর্গ বহনকারী এসব ব্যক্তিরা হাটে-বাজারে অবাধে বিচরণ করায় জেলায় করোনা সংক্রমণের হার দেশের সব রেকর্ডকেই ছাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ রোগীরা পড়ছেন বেকায়দায়। তারা না পারছেন স্বাভাবিক চিকিৎসা নিতে, না পারছেন করোনার চিকিৎসা নিতে।
এ যখন অবস্থতা তখন চাঁদপুর ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ আরটি পিসিআর ল্যাবের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য আরো কয়েকটি মেশিন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন জেলার কর্মরত চিকিৎসকরা। অন্যথায় সংক্রমণের হার চলমান অব্যাহত থাকলে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা চিকিৎসকদের।
পরিস্থিতি কতটা নাজুক তা চাঁদপুর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের বর্তমান চিত্রই জানিয়ে দিচ্ছে। হাসপাতালটি ইতোমধ্যে করোনা রোগীর জন্য ৩৫০ শয্যার বেড ঘোষণা করছে। তাতেও যদি রোগী ধারণ ক্ষমা নিয়ন্ত্রের বাহিরে চলে যায় তাহলে ফিল্ড হাসপাতালের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা, বলে জানা গেছে।
এদিকে ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ আরটি পিসিআর ল্যাবের সক্ষমতার অভাবের কারণে রেপিড এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে করোনা রোগী সনাক্তের চেষ্টা অব্যহত রাখছে জেলার চিকিৎসকরা। রেপিড এন্টিজেন টেস্টের জন্য যে পরিমাণ জনবল প্রয়োজন তা আবার নেই সংশ্লিষ্টদের। এমন পরিস্থিতিতে পরিবেশ যে উদ্বেগ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে, তা অনেকটাই অনুমান করা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ও চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সার্জন ডা. মাহমুদুন নবী মাসুম ইল্শেপাড়কে জানান, দৈনিক ৯০ জন করে ২ শিফটে ১শ’ ৮০ জনের স্যাম্পেল পরীক্ষা করা হচ্ছে ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ আরটি পিসিআর ল্যাবে। রোগীর চাপ বৃদ্ধির কারণে আমারা ল্যাবটিতে ৩ শিফটে পরীক্ষার চেষ্টা করি। এতে ল্যাবের মেশিন গরম হয়ে যায়। বিকল্প হিসেবে আমরা স্যাম্পল নোয়াখালী প্রেরণ করি। তাদের রিপোর্ট প্রদানে কিছুটা দেরি হচ্ছে। বর্তমানে স্যাম্পল চট্টগ্রামে প্রেরণ করা হচ্ছে। তারা চেষ্টা করছে দ্রুত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট প্রদান করতে।
ডা. মাহমুদন নবী মাসুম আরো জানান, বিকল্প হিসেবে আমারা চাঁদপুরে রেপিড এন্টিজেন টেস্ট করছি। এতে করে দ্রুত সনাক্ত ও রিপোর্ট প্রাদান করা সম্ভব হলেও তা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত জনবল সঙ্কট রয়েছে বলে, বিএমএ’র এই নেতা জানান। তবে তিনি আশার বাণী হিসেবে জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ আরটি পিসিআর ল্যাবের মেশিন বৃদ্ধির জন্য জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ডা. মাহমুদন নবী মাসুম জানান, রেপিড এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহের পর তাৎক্ষণিক রিপোর্ট প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। যা রোগী শনাক্তে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কার্যকর বলে এই চিকিৎসক জানান। এতে করে আরটি পিসিআর ল্যাব ও রেপিড এন্টিজেন টেস্টের মাধ্যমে চাঁদপুরের অধিকাংশ রোগীর পরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এদিকে চাঁদপুর সিভিল সার্জন অফিস জানিয়েছে, গত সোমবারে আরটি পিসিআর ও রেপিড এন্টিজেন টেস্টসহ ৮শ’ ৬১ নমুনা পরীক্ষায় ৩শ’ ৩৫ জন করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে। যা মোট পরীক্ষার ৩৮.৯০ শতাংশ। সোমবার পর্যন্ত চাঁদপুরে ১০ হাজার ৫শ’ ৫৩ জন করোনা পজিটিভ রোগী সনাক্ত হয়েছে, আর মৃত্যু হয়েছে ১শ’ ৭৩ জনের।
উল্লেখ্য, চাঁদপুরে ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ আরটি পিসিআর ল্যাবটি ২০২০ সালের ২৭ জুলাই উদ্বোধন করা হয়েছিলো। গত এক বছরে ল্যাবটিতে ৩১ হাজার ৬৮ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। আর করোনা পজিটিভ সনাক্ত হয় ৫ হাজার ৭শ’ ১৩জনের।

০৪ আগস্ট, ২০২১।