চাঁদপুরে ক্লাবের নামে চলে জুয়া আর মাদকের কারবার


কথিত নেতা ও সুশীলদের আইনের আওতায় আনার দাবি

ইলশেপাড় রিপোর্ট
সারা দেশের মতো চাঁদপুরেও দাবি উঠছে বিভিন্ন ক্লাবের নামে চলমান জুয়ার আসর আর মাদকের হাট বন্ধের। শহরে রাতের নিস্তব্ধতা শুরু না হতেই কথিত রাজনৈতিক নেতা আর সুশীল সমাজের তত্ত্বাবধানে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে জুয়া আর মাদকের হাট। অভিযোগ আছে এই মহলটি যেমন প্রভাবশালী তেমনি বিত্তবান। যার ফলে ক্লাবের নামে মাদক, জুয়া আর নারীদের নিয়ে চলে প্রমোদ আসর। তা আবার দেখার কেউ নেই। যদিও সংশ্লিষ্টদের দাবি প্রশাসন আর কথিত গণমাধ্যমকর্মীদের মাসিক বখরা দিয়েই করা হচ্ছে এসব অপকর্ম।
চাঁদপুর শহরবাসীর দাবি, শহরের বেশ কয়েকটি ক্রীড়া সংগঠনের আড়ালে চলছে এসব অপকর্ম। তাদের মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সোনালী অতীত ক্লাব, মোহামেডান ক্লাব, ভাই ভাই স্পোর্টিং ক্লাব, নতুন বাজার ক্রীড়া চক্র ও পূর্ব শ্রীরামদী ক্লাবসহ বেশ কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চেম্বার। এসব ক্লাবের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছে বেশ কিছু চিহ্নিত রাজনৈতিক ও কথিত সুশীল নামধারী ব্যক্তি। আর এ কারণেই বছরের পর বছর তারা নিরাপদে অপরাধ জগতের মতো তাদের নিজস্ব বলয় গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
এদিকে চাঁদপুরের নয়া পুলিশ সুপারের সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে গত শুক্রবার রাতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সোনালী অতীত ক্লাব, ভাই ভাই স্পোর্টিং ক্লাব, নতুন বাজার ক্রীড়া চক্র ও পূর্ব শ্রীরামদীসহ শহরের বেশ কয়েকটি ক্লাবে পুলিশি অভিযান ও তল্লাশি চালানো হয়েছে। যদিও এই অভিযানে কোন আটক কিংবা মাদক উদ্ধার হয়নি। তবুও সতর্ক বার্তা হিসেবে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ক্লাবগুলোর চিহ্নিত পৃষ্ঠপোষকদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে গাডাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠছে।
এমন পরিস্থিতিতে শহরসবাসী বলছে, পুলিশের নির্ধারিত সোর্সের মাধ্যমে অভিযান শুরুর আগেই সংশ্লিষ্টদের সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়। যাতে করে অভিযানের খবরটি চাউর হয় সর্বমহলে। তবে এমন অপরাধীদের আইনের আওতায় না আনলে শহরবাসী পুলিশ প্রশাসনের উপর তাদের আস্থা হারাবে বলে কেউ কেউ দাবি করছেন।
অপরদিকে শহরবাসীর দাবি, এসব ক্লাবের অন্তরালে শহরের অভ্যন্তরে দেশীয় অস্ত্রবাহিনী গড়ে উঠছে। আর সেজন্য মাঝে-মাঝে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেখতে হয় তাদের। এতে করে সাধারণ মানুষ প্রায়ই আতঙ্কের মধ্যে থাকে। তবে অস্ত্রের মহড়াধারীরা ২/১ বছর অনেকটাই নিস্ক্রিয়। আর এসব ক্লাবগুলোতে মাসোয়ারা দিতে হয় বেশ কিছু ব্যবসায়ী ও কিছু প্রবাসী ব্যক্তিদের। ফলে এদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য কেউ মুখ খুলতে পারছে না।
বর্তমানে রাজধানী ঢাকায় বেশ কয়েকটি ক্যাসিনোতে র‌্যাবের অভিযানে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক কারবার, জুয়ার আসরসহ টর্চার সেলের সন্ধান পাওয়া টনক নড়েছে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে অভিযানে আটক হয়েছে যুবলীগের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা। তাদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আটকদের পেছনে কারা আছে তাদেরও চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে দেশের শীর্ষ গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।
তবে রাজধানীবাসীসহ সারা দেশের মানুষ এমন অভিযানে খুশি হয়েছে। তারা এই অভিযানকে সরকারের একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবেই চিহ্নিত করছে। ফলে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে পেছনে যারা রয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি বেশ জোড়ালো হয়েছে। সর্বসাধারণ বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে এইসব অপরাধ জগৎ ধ্বংস করে দিতে হবে, একটি সুন্দর আগামির বাংলাদেশের জন্য।
তারই ধারাবাহিকতায় চাঁদপুরেও এমন দাবি সর্বমহলের। পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা, কথিত সুশীলদেরও আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবি শহরবাসীর। তারা নয়া পুলিশ সুপারের কাছে এমনটাই প্রত্যাশা করছেন। এখন দেখার বিষয় জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা শেষ পর্যন্ত কি করেন, শান্তির শহর খ্যাত চাঁদপুর শহরবাসীর জন্য।

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।