চাঁদপুরে গ্রাম থেকে শহর সর্বত্রই করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ

ডেল্টাকে আরও শক্তিশালী করেছে টি-১৯ আর, সদর হাসপাতালে ‘ঠাঁই নাই’ অবস্থা

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর জেলার সবক’টি গ্রামে এখন করোনা সংক্রমণের উপসর্গ বিরাজ করছে। এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সর্বসাধারণের মাঝে। গ্রাম পর্যায়ে করোনার উপসর্গকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না সাধারণ মানুষ। এতে করে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে এ জেলায়। জ্বর কিংবা কাশি হলে গ্রামাঞ্চলের মানুষ ভাবছে এটা মৌসুমী অসুস্থতা। স্থানীয়ভাবে ওষুধ গ্রহণ করলেই ঠিক হয়ে যাবে সবকিছু। এতে করে গ্রামাঞ্চলের মানুষজন করোনা পরীক্ষা করছেন না। যার কারণে প্রতিদিনই সংক্রমণ বেড়েই চলছে এ জেলায়। সাথে মৃত্যুর রেকর্ডও।
এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফের করোনা তার রুপ পরিবর্তন করে আরো শক্তিশালী হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন, করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ ধরন হলো ভারতীয় ডেল্টা। তবে এ ধরনকে আরও শক্তিশালী করেছে টি-১৯আর নামের আরেক মিউটেশন। এমন তথ্য জানিয়েছেন, বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত অণুবিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল।
তিনি বলেন, ডেল্টা ধরনের ভয়াবহতার জন্য অন্যান্য মিউটেশনের (পর্যায়ক্রমে রুপান্তর) সঙ্গে টি-১৯আর মিউটেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এতে সংক্রমণ বেড়েই চলছে।
এদিকে চাঁদপুরে গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালের আইশোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন করোনা রোগীসহ উপসর্গে আরো ৮ ব্যাক্তির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে করোনা আক্রান্তে ৩ জন ও বাকি পাঁচজন উপসর্গে মারা যান।
শনিবার (৭ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে করোনা বিষয়ক ফোকালপার্সন ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন- মিসেস আনোয়ারা বেগম (৬৫), খলিলুর রহমান (৫৪) ও কলমতর খান (৭০)। উপসর্গে মৃতরা হলেন, শেফালী (৬০), আমেনা বেগম (৮০), ফজিলাতুন্নেসা (৭০), জুলেখা বেগম (৬৫) ও অনু মিয়া পাটোয়ারী (৮০)।
চাঁদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত শুক্রবার চাঁদপুর জেলায় ১শ’ ৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এ দিন ৩শ’ ৭ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়। আক্রান্তের হার ৪২.৩৪ শতাংশ। আর শুক্রবার পর্যন্ত করোনায় এ জেলায় মৃত্যু হয় ১শ’ ৯০ ব্যাক্তির।
চাঁদপুর সদর উপজেলার পর জেলায় দ্বিতীয় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শাহরাস্তির অবস্থান রয়েছে। এ উপজেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২শ’ ৭৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের। আক্রান্ত বিবেচনায়ও চাঁদপুর জেলায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঝুকিঁপূর্ণ হিসেবে শাহরাস্তি উপজেলা অবস্থান করছে।
করোনার উপসর্গ জেলাব্যাপী বেড়ে যাওয়ায় রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিদিনই। এতে করেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে জনমনে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠান কিংবা সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় জীবন সুরক্ষার সামগ্রী বিতরণ করতে অনেককেই এগিয়ে আসতে দেখা গেছে। এতে করে আতঙ্ক কিছুটা কম থাকলেও উদ্বেগ কমছে না জনমন থেকে।
অপরদিকে কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠান কিংবা সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরবরাহকৃত অক্সিজেন সেবা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে এসব প্রতিষ্ঠান ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ প্রদানের গুরুত্ব আরোপ করছেন কেউ কেউ।
এছাড়া চলমান ভ্যাকসিন কার্যক্রমকে গতিশীল করতে সবাইকে সচেতন করা জরুরি বলে অভিমত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একে অপরকে সহযোগিতাসহ সামাজিক পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প এই মুহূর্তে নেই বলে মনে করেন সচেতন মহল।
০৭ আগস্ট, ২০২১।