চাঁদপুরে চরাঞ্চলে সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া

স্টাফ রিপোর্টার
‘প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার গ্রাম হবে শহর’ বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ছিলো। এটি এখন বাস্তবে রূপান্তর হচ্ছে। শহরতলী ও গ্রামের উন্নয়নের পাশাপাশি চরাঞ্চলেও সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।
চাঁদপুর জেলা সদর থেকে বিচ্ছিন্ন মেঘনা নদীর পশ্চিমে বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা হচ্ছে। যা সেখানকার লোকজন কখনও কল্পনাও করেনি। সরেজমিন সদর উপজেলার রাজরাজেশ^র ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার আগ থেকেই লোকজন সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক পাখা, বাল্ব, মোবাইলে চার্জ দেয়া ইত্যাদি কাজে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে।
এছাড়া এখন নতুন করে শরীয়তপুর জেলা থেকে সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে নদীর তলদেশ দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন নেয়ার কাজ চলছে।
পদ্মা-মেঘনার বহুবারের ভাঙনের শিকার মানুষগুলো নতুন করে বাড়ি ঘর তৈরী করেছেন। সেখানে এখন নতুন করে তৈরী হচ্ছে সড়ক। ভাঙনের শিকার প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় আবার নতুন করে তৈরী করা হচ্ছে। নাগরিক সুবিধার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চরাঞ্চলে পর্যায়ক্রমে সংযোজিত হচ্ছে।
চরাঞ্চলের বয়স্ক লোকজন এখন আর বয়স্কসহ বিভিন্ন ভাতা নেয়ার জন্য পদ্মা-মেঘনা পাড়ি দিয়ে শহরে আসতে হবে না। ইউনিয়ন পরিষদেই ২০২০ সাল থেকে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতা গ্রহণ করছেন তারা। ডিজিটাল সেন্টারের সুবিধা গ্রহণ করছেন গত কয়েক বছর ধরে।
তবে চরাঞ্চলের মানুষগুলো খুবই সাহসী। তারা বার-বার প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়েও আবার ঘুরে দাঁড়ান। তাদের পাশে সরকারের পাশাপাশি অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা এগিয়ে আসছেন। যার কারণে এখন সেখানকার লোকজন পিছিয়ে নেই। মৎস্য ও কৃষি কাজের পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম পড়া-লেখায় এগিয়ে আসছেন।
ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিউল্লাহ সরকার বলেন, চরাঞ্চলে ১শ’ শিক্ষার্থী ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলে দশম শ্রেণিতে গিয়ে ১০জন থাকে। বাকিরা ঝরে পড়ে। আবার এর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যাই বেশি। কারণ ছাত্ররা বেশিরভাগই অভিভাবকের সাথে বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়ে। তারপরও এখন ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৫ শতাধিক।

০৭ জুন, ২০২১।