শাহ্ আলম খান
মা ইলিশ সংরক্ষণে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্টজাল ও ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে। এসময় ১২ জেলেকে আটক করা হয়। তবে অভিযানকারীদের ধাওয়া খেয়ে অন্য জেলেরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। সোমবার (২ নভেম্বর) ভোর ৩টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার আখনেরহাট, হরিণা, বহরিয়া, রনাগোয়াল, আলুরবাজারসহ আশপাশের এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে ইলিশ সংরক্ষণে গঠিত জেলা টাস্কফোর্স। এতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড ও পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য অংশ নেন।
এসময় নদীতে অভিযান চালিয়ে ১২ জেলেকে আটক করা হয়। পরে আটক জেলেদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এছাড়া জব্দ করা প্রায় ৬ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্টজাল আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়। আর জব্দ করা ইলিশ দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
অভিযান শেষে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে নদীতে এর সফলতা নিয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্ত মো. আসাদুল বাকী। তারা জানান, অভিযানে আকাশপথে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার অংশ নেয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে তা না আসলেও নদীপাড়, জেলে পল্লী এবং নদীতে কোস্টগার্ড, জেলা ও নৌ পুলিশের শতাধিক সদস্য নিয়ে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে।
এদিকে, গত ২০ দিনে মা ইলিশ সংরক্ষণে গঠিত জেলা টাস্কফোর্সের সদস্যরা দুই শতাধিক জেলেকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানা করেছেন। একই সঙ্গে তিন শতাধিক মাছ ধরার নৌকা, সাতকোটি মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল এবং ৫ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া নৌ পুলিশের পৃথক অভিযানে ৫ কোটি মিটার অবৈধ কারেন্টজাল ও আড়াই শতাধিক মাছ ধরার নৌকা জব্দ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর থেকে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনাসহ দেশের উপকূলীয় ১৯টি জেলায় মা ইলিশ সংরক্ষণে এই অভিযান শুরু হয়। এসময় ইলিশ বিচরণের নদীগুলোতে সবধরণের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। একই সঙ্গে ইলিশ বিক্রি, পরিবহন ও মজুদও নিষিদ্ধ রয়েছে।
০৩ নভেম্বর, ২০২০।
- Home
- চাঁদপুর
- চাঁদপুর সদর
- চাঁদপুরে টাস্কফোর্সের অভিযানে বিপুল পরিমাণ কারেন্টজাল ও ইলিশ জব্দ