চাঁদপুরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ৮৬, চিকিৎসাধীন ২৪


ঢাকা থেকে এডিস মশা আসছে লঞ্চ ও বাসে

এস এম সোহেল
ঢাকায় যাওয়া-আসার কারণেই চাঁদপুরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছে। সেইসঙ্গে লঞ্চ ও বাসে করে এডিস মশা চাঁদপুরে আসার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে লঞ্চ ও বাসে মশানাশক স্প্রে না করায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগীরা ঢাকা থেকে এসে চাঁদপুরে চিকিৎসা নিচ্ছে।
এদিকে চাঁদপুরে বেড়েই চলছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ৮৬ জন রোগী চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী ২৪ জন। এর মধ্যে ১০ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ১১ জন রোগী চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের শাহতলী মুন্সি বাড়ির জাহিদুল ইসলাম জাহিদ (২৮) নামের একজন ঢাকার উত্তরা বাংলাদেশ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। অবশ্য সেও ঢাকায় বসবাস করতো এবং সেখানে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যুবরণ করে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরে আগে ডেঙ্গু রোগী তেমন দেখা যায়নি। গত জুন মাসে মাত্র ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ছিলো ৪ জন। কিন্তু জুলাই থেকে একে একে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হতে শুরু করেন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে। চলতি মাসে এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮৬ রোগী। যাদের বেশিরভাগই ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে বাড়ি ফিরে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬২ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২৪ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আক্রান্ত কয়েকজন রোগী জানিয়েছেন, শরীর ও মাথা ব্যাথা, জ্বর এবং বমি-বমি ভাব হচ্ছে তাদের। সাথে সাথে তারা চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এসে ডাক্তারদের পরামর্শ মতে পরীক্ষা-নিরিক্ষা করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল ঘুরে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই পাওয়া যায় নিম্নআয়ের মানুষ। সরকারি হাসপাতালে সরকারি কিছু ওষুধ এবং বিনামূল্যে সিট ভাড়া সুবিধার সঙ্গে নিজেদের পকেট থেকে ডেঙ্গু চিকিৎসায় চলে যাচ্ছে হাজার হাজার টাকা। বেশিরভাগ পরীক্ষাই করিয়ে আনতে হচ্ছে হাসপাতালের বাইরে থেকে। কোনো কোনো রোগীর ডেঙ্গুর সঙ্গে দেখা দিয়েছে টাইফয়েডসহ অন্যান্য জটিলতা। ফলে তাদের চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়ছে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল জানান, এখন বর্ষা মৌসুম হওয়ায় দেখা গেছে যে টানা কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে ফুলের টবসহ বিভিন্ন গর্ত, ডোবা ও নালায় পানি জমে থাকে। আর ওইসব জমে থাকা নোংরা পানি থেকে দেখা গেছে এডিস মশার উৎপত্তি ঘটে। এসব মশার কামড়ে অনেকেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন।
তিনি আরো জানান, ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে এই হাসপাতালে। দেয়া হচ্ছে সব ধরনের ওষুধপত্র, মশারী। ভর্তিকৃত রোগীদের বেশিরভাগ ঢাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চাঁদপুরে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এই রোগ প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রোগের প্রাথমিক লক্ষণ দেখামাত্র চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে চাঁদপুর পৌরসভার কয়েকজন বাসিন্দা বলছেন, চাঁদপুরে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে না করায় এডিস মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। আর ওইসব মশার কারণে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন মানুষজন।

৩১ জুলাই, ২০১৯।