ড্যাফোডিলের অর্জন, চাঁদপুরবাসীর অর্জন
…….. মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
গত শনিবার (৩০ জানুয়ারি) চাঁদপুরে ড্যাফোডিল এডুকেশন নেটওয়ার্কের একযুগ পূর্তি উপলক্ষে এক অনলাইন সেমিনার অনুষ্ঠিত
হয়েছে। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল।
সেমিনারে অংশ নেন ড্যাফোডিল ফ্যামিলির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ও চিফ অপারেটিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইমরান হোসেন। সেমিনারে চাঁদপুরে ড্যাফোডিল এডুকেশন নেটওয়ার্কের কার্যক্রম এবং অর্জন ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে অতিথিদের সামনে প্রদর্শন করা হয়।
সেমিনারে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, চাঁদপুরের অধ্যক্ষ মো. নূর খান, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ, চাঁদপুরের অধ্যক্ষ মো. জামসেদুর রহমান এবং বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট, চাঁদপুরের অধ্যক্ষ মো. সেলিম মিয়া তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং অর্জন তুলে ধরেন। ড্যাফোডিল ফ্যামিলির সামগ্রিক বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ড্যাফোডিল ফ্যামিলির চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান এবং চিফ অপারেটিং অফিসার ড. মোহাম্মদ ইমরান হোসেন।
পৌর মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল তার বক্তব্যে ড্যাফোডিল ফ্যামিলির কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি ড্যাফোডিল ফ্যামিলির চেয়ারম্যান ড. মো. সবুর খানের সংগ্রামী জীবনের ওপর আলোকপাত করেন এবং তাকে একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি চাঁদপুরের শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানে বিশেষ ভূমিকা পালনের জন্য চাঁদপুর বাসীর পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠানটির নিকট কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি ড্যাফোডিলের মানুষগুলোকে চাঁদপুরের সম্পদ বলে মনে করেন।
তিনি আরও বলেন, ড্যাফোডিল চাঁদপুরের মানুষকে আধুনিক শিক্ষার সাথে সংমিশ্রিত ডিজিটাল শিক্ষার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি ড্যাফোডিল এডুকেশন নেটওয়ার্ককে সর্বাঙ্গীন সহায়তার আশ^াস দেন।
পৌর মেয়র বলেন, বাংলাদেশে যখন তথ্যপ্রযুক্তির যাত্রা মাত্র শুরু হয়েছে তখনই ড. মো. সবুর খান দেশের মানুষকে কম্পিউটার, ল্যাপটপ এসবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তিনি ঢাকার ফার্মগেটে ছোট্ট একটি দোকান থেকে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। আজ তিনি দেশের শীর্ষ উদ্যোক্তাদের একজন। বাংলাদেশে এখন কম্পিউটারকে ঘিরে বৃহৎ শিল্প গড়ে উঠেছে সেখানে ড. মো. সবুর খান অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।
মেয়র আরও বলেন, আমরা চাঁদপুরবাসী হিসেবে আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ, কারণ তিনি চাঁদপুরের বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। ড্যাফোডিলকে তিনি শুধু ঢাকাতেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি চাঁদপুরেও ড্যাফোডিলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এতে চাঁদপুরের মানুষ ডিজিটাল শিক্ষার সঙ্গে পরিচিত হতে পারছে।
মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নের সঙ্গে সমন্বয় ঘটিয়ে ড্যাফোডিল তার সকল প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ও আধুনিক করে গড়ে তুলেছে। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ উদ্যোগের সুফল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে ড্যাফোডিল অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা নিয়ে ড্যাফোডিল যুগান্তকারী কাজ করছে। ড্যাফোডিল এডুকেশন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী প্লে গ্রুপ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত গ্রহণ করতে পারে। এমন একটি শিক্ষা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তাছাড়া ড্যাফোডিল তার শিক্ষা কারিকুলামে অনেক ইনোভেটিভ বিষয় যুক্ত করেছে। তারা কর্মমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়েছে। এসবরে মাধ্যমে দক্ষ ও যোগ্য জনবল গড়ে উঠছে। এসব প্রশংসাযোগ্য কাজ।
ড্যাফোডিল গ্রপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরুজ্জামান বলেন, চাঁদপুরে ড্যাফোডিলের যাত্রার ১২ বছর পূর্তি হয়েছে। এই এক যুগে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এটা সম্ভব হয়েছে ড. মো. সবুর খানের সুযোগ্য নেতৃত্ব ও শিক্ষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে। আমরা চাই ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থী শুধু চাঁদপুর কিংবা চট্টগ্রাম বিভাগে নয়, সারা বাংলাদেশে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের মেধা ছড়িয়ে দেবে।
তিনি বলেন, করোনা মহামারির কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো বন্ধ আছে। কিন্তু ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রেখেছি। ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থায় ড্যাফোডিল এডুকেশন নেটওয়ার্ক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছে। ড্যাফোডিলের চাঁদপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এই ডিজিটাল ব্যবস্থার বাইরে নয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অনেক উৎসাহী ছিলেন। ফলে করোনার কারণে আমাদের শিক্ষা ব্যাহত হয়নি।
মোহাম্মদ নূরুজ্জামান বলেন, ড্যাফোডিলের ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে চাঁদপুরে। ক্রমান্বয়ে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও বাড়বে। আমরা বিএলসি ও এলএমএস নামে দু’টি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রেখেছি। ড্যাফোডিলের এই অগ্রযাত্রা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। এই অগ্রযাত্রায় চাঁদপুরবাসী যেভাবে ড্যাফোডিলর পাশে অতীতে ছিলেন, সেভাবে ভবিষ্যতেও থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
০১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।
