আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আ.লীগের পরাজয়
ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সরকার দলীয় সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের চরম ভরাডুবি নিয়ে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ জেলার অন্যতম আলোচিত পেশাজীবী সংগঠন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মাত্র দুইজন প্রার্থী ছাড়া বাকি সব প্রার্থীর পরাজয়ে হতবাক দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। গত ২৫ জানুয়ারি আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৫টি পদের জন্য লড়ে মোট ৩০ জন প্রার্থী।
নির্বাচনে দু’টি প্যানেলের মধ্যে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ (আওয়ামী লীগ) ও বিএনপি সমর্থিত সমমনা আইনজীবী ঐক্য প্যানেল অংশ নেয়। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ছিলো ৩শ’ ৪০ জন। যাদের প্রত্যক্ষ ভোটে আগামি এক বছরের জন্য তাদের পছন্দের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়। যদিও আগে কোন দলেই এককভাবে নিরঙ্কুশ জয়লাভ না করলেও ভাগাভাগি জয় নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে দেখা গেছে উভয় প্যানেলকেই।
এছাড়া সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোন এক দলের প্রার্থী জয়লাভ করলে বাকি অধিকাংশ পদে বিপরীত প্যানেলের প্রার্থীরা জয়লাভ করতো। কিন্তু এবারেই সংখ্যাগরিষ্ট ভোট থাকা সত্বেও সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের ভরাডুবিতে হতবাক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
আইনজীবী সমিতির সদস্যরা বলছে, সমমনা আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের চেয়ে ভালো ও যোগ্য প্রার্থী দিয়েছে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ। তারপরও তাদের ফলাফলের চিত্র বলে দেয় তাদের অভ্যন্তরীণ ঐক্য না থাকায় এই পরাজয় দেখতে হয়েছে। তবে নবীন আইনজীবীরা বলছেন, সিনিয়র আইনজীবীরা ইচ্ছাকৃতভাবেই দলের পরাজয় নিশ্চিত করেছেন।
তবে কি কারণে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সিনিয়র আইনজীবীরা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা সম্পর্কে নবীন আইনজীবীরা বলছেন, জেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিরোধের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে এই ফলাফল।
এছাড়া গেল বছরে চাঁদপুর জেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল সিদ্ধান্ত ও একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর একক প্রভাবের কারণে ত্যাগী নেতারা এখন ইশারা-ইঙ্গিতে নিজেদের দলের অবস্থানের হতাশার বার্তা দিচ্ছেন বলে আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে। যদিও কেউ কেউ বলছেন, চাঁদপুরের আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বরাবরই টাকার খেলা হয়। এই খেলায় যে প্যানেল এগিয়ে থাকে দিন শেষে সেই প্যানেলের জয়ের পাল্লা ভারী হয়। এবারের নির্বাচনে এর বিপরিত কিছু হয়নি।
তবে সমমনা আইনজীবী ঐক্য প্যানেলের সমর্থকরা বলছেন, এবারের ধারাবাহিক ঐতিহ্য হচ্ছে কোন প্যানেলেই টানা বা দীর্ঘমেয়াদী ধারবাহিকতা রক্ষা করতে পারে না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ক্লিন ইমেজ ও পরিক্ষিত আইনজীবীরা আগে খুবই ভাল করতে সক্ষম হতেন। এখন ঐসব আইনজীবীরা বয়সের কারণে আর নেতৃত্বে আসতে চান না। যার কারণে নবীন ও প্রবীণ মিলে উভয় দল প্যানেল দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেয়।
আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা বলছেন, যদি এই পরাজয়কে জেলা আওয়ামী লীগ দলের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আর অনৈক্যের বিষয়টিকে ছোট করে দেখে তাহলে আগামি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আরো বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। তবে অধিকাংশ আইনজীবীই বলছেন, আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে এখন একটি গোষ্ঠীর প্রভাব ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় দলের নিবেদিত ও সাবেক সিনিয়র নেতদের মূল্যায়ন ও কদর ঐ গোষ্ঠিটির মাঝে নেই। যার কারণে তারা কেবল বার্তা দিয়েই দলকে সতর্ক করছেন- অতি সম্প্রতি তাদের কর্মকান্ডে।
যা এখনি খতিয়ে দেখার দাবি দলটির নেতাকর্মীদের। বেশি দেরি হয়ে গেলে আসছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার প্রভাব পড়বে বলে মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা মনে করছেন। যা দলটির জন্য চাঁদপুরে কোন ভালো বার্তা দিতে সক্ষম হবে না।
উল্লেখ্য, এবারের চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে অ্যাড. এটিএম মোস্তফা কামাল ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এজেডএম রফিকুল হাসান রিপনসহ আরো ১১টি পদে সমমনা আইনজীবী ঐক্য প্যানেল নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্যানেল থেকে জয়লাভ করেন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে অ্যাড. মেহরাজ আহমেদ সিদ্দিকী ও সদস্য পদে অ্যাড. মুনতাসির রিয়াদ।
০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।
