চাঁদপুরে ধনে পাতার কেজি ১০ টাকা

কেনার লোক নেই, ফেলা হচ্ছে ডাস্টবিনে

মানিক দাস
চাঁদপুরের হাটবাজারে এ বছর প্রচুর পরিমাণ শীতকালীন সবজির সাথে ধনে পাতার আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বিগত বছরের তুলনায় মূল্য খুব কম হওয়া সত্ত্বেও কেনার লোক না থাকায় ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়তই মণে মণে ধনে পাতা ডাস্টবিনে ফেলছে।
চাঁদপুর জেলা সদরের আশপাশের চরাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে প্রতিদিন বিকেল থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে মণে মণে ধনেপাতা পদ্মা মেঘনা পাড়ি দিয়ে চাঁদপুর শহরের বাজারগুলোর আড়তদারদের কাছে নিয়ে আসছে। ন্যায্য মূল্য না পেয়ে অনেক ব্যবসায়ী বস্তাভর্তি ধনে পাতা চাঁদপুর শহরের রাস্তা-ঘাটে এমনকি উন্মুক্ত স্থানে এবং জনসম্মুখে প্রকাশ্যে মাত্র ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার জন্য ফেলে রাখছে। ধনে পাতা কেনার ক্রেতা না থাকায় ব্যবসায়ীরা অনেক সময় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে চাঁদপুর পৌর ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন চাঁদপুর পৌরসভার সর্ববৃহৎ ময়লা রাখার স্থানে (ডাস্টবিন) রিক্সা ভ্যান যোগে পালবাজারের ব্যবসায়ীরা ক্রেতা না থাকায় ও আগের দিনের ধনেপাতাগুলো এখানে ফেলে দিচ্ছে।
এই বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সাথে আলাপ করলে তারা জানান, চলতি বছরে শীতের শুরুতে ধনে পাতার প্রচুর আমদানি হয়েছে। এসব ধনে পাতা চাঁদপুর জেলা সদরের রাজরাজেশ্বরের বিভিন্ন চরাঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী শরীয়তপুর জেলার কাচিকাটা চর এলাকা থেকে আনা হচ্ছে। বিগত বছর এই সময়ে ধনে পাতার কেজি ছিল একশ’ টাকার উপরে। কিন্তু এ বছর ১০ টাকা কেজি দরে ধনেপাতা ক্রেতা সাধারণ কিনতে চাচ্ছে না। যার ফলে প্রতিদিন সকাল হলে কয়েকশ’ মণ ধনেপাতা ডাস্টবিনে ফেলতে হচ্ছে। এসব ধনেপাতা গবাদি পশুও খাচ্ছে না। চাঁদপুরের হাটবাজারগুলোতে ধনেপাতার প্রচুর আমদানি হলেও মূল্য না থাকায় ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত।
কাচিকাটা চরের ধনেপাতা চাষিরা জানান, ১ কেজি ধনে পাতা জমিন থেকে তুলতে মজুরি দিতে হচ্ছে ৮ টাকা। লাভের আশায় চাঁদপুরের পালবাজারে এনে বিক্রি করার জন্য আড়ৎ ঘরে নিলে পাইকাররা পর্যন্ত কিনতে চাচ্ছে না। যার ফলে আমরা এখন রাস্তার পাশে বসেই ১০টাকা দরে বিক্রি করছি।