চাঁদপুরে নিরাপদ সড়ক তৈরি করা হবে

জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় জেলা প্রশাসক


এস এম সোহেল
চাঁদপুর জেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুর জেলার সব উপজেলার সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা আগামি আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় তাদের তথ্য জানাতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য হলেন প্রান্তিক জনগণের কাছাকাছি মানুষ। তার রোলটা কি, সে ওখানে রোল প্লে করছে কিনা তা জানা প্রয়োজন। আগামি মিটিং থেকে তা আমরা জানতে চাই। বিভিন্ন সময় যখন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ মাথাচারা দিয়ে উঠে তখন দেখা যায় সিনিয়র লেবেলে যারা কাজ করা হয়। জনপ্রতিনিধি, এমপি ও মন্ত্রীরা এসব নিয়ে দৌঁড়াদৌড়ি করে। কিন্তু প্রান্তিক যে লোকটি সত্যিকার অর্থে টাইম মতো এড্রেস করার কথা ছিলো সে করছে না, করলে ঐ বিষয়টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায় থেমে যাওয়ার কথা ছিলো। ঐ বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায় চলে যায়। বিষয়গুলো উপজেলা চেয়ারম্যানরা কঠোরভাবে দেখবেন।
নিরাপদ সড়কের বিষয়ে তিনি বলেন, চাঁদপুর জেলার জন্য ২১ জন ট্রাফিক পুলিশ রয়েছে। ২১ জন ট্রাফিক পুলিশ জেলার ২৬ লাখ মানুষের যাতায়াতে নিশ্চিত করা কোনভাবেই সম্ভব না। যেখানে যে যে দায়িত্বে আছে সবাইকে কাজ করতে হবে। ট্রাফিক পুলিশের সাথে সহযোগিতা করে নিরাপদ সড়ক তৈরি করতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সবাইকে কাজ লাগাতে হবে। অনেক যানবাহন আছে যা অন্য জায়গায় চলে না, তবে চাঁদপুরে চলে। অবৈধ যানবাহন চলতে দেয়া হবে না। ইদানিং পনিতে ডুবে মৃত্যু ও নারী-শিশু নির্যাতন বেড়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সচেতন করার জন্য বিভিন্ন সংগঠনকে কাজ করতে হবে। সরকারের সামনে এ ধরনের ইস্যু আমরা দেখতে চাই না। সবাইকে সচেতন ও সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের মহাউন্নয়নের জোয়ারে কিছু দুষ্টক্ষত আমাদের বিভিন্নভাবে প্রতারিত ও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। সব জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। সত্যিকার অর্থে সবাইকে শান্তির জন্য দেশটাকে উন্নয়নের এবং সোনার বাংলাদেশ বিনির্মানে কাজ করবে। বসে থাকার দিন এখন আর নেই। সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর ভিশন বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে। বর্তমান সরকারের ইমেজ ও সরকার দেশবাসীর প্রতি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে। সরকার যা বলছেন তাই করছেন। এতে করে বাংলাদেশের উন্নয়ন হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ সারা বিশ্বের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে। আসুন সবাই জাতির জনকের সোনার বাংলা গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।
সভায় বিদ্যুতের বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, প্রি-পেইড মিটার লাগানোর আগে গ্রাহকদের আগের বকেয়া বিলের বিষয়ে অবগত করার প্রয়োজন। কারণ গ্রহকরা জানে না তাদেরে বকেয়া রয়েছে কিনা। বকেয়া বিল পরিশোধ করে প্রি-পেইড মিটার লাগানো উচিত ছিলো। প্রি-পেইড মিটার লাগানোর পর মাত্র ২৩ টাকা বিলের জন্য বিদ্যুৎ চলে যায়, এটি দুঃখজনক। দ্রুত বিদুৎ বিভাগের অভিযোগ সমাধান করে জনগণের ভোগান্তি কমানোর নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।
পুলিশ সুপার মো. জিহাদুল কবির তার বক্তব্যে বলেন, গত এপ্রিল মাসে কিছু অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য মাসের তুলনায় একটু খারাপ ছিলো। তবে গত মাসে মাদকের অপরেশন বেশি ছিলো। গত মাসে ১৫৩টি মাদকের মামলায় ১৮৭ জন আটক হয়েছে। অন্যান্য মাসের তুলনা অনেক বেশি। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থার জোরদার থাকবে। আগামি মাসে বেশকিছু মাদক ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। লঞ্চে আনসার বা নিরাপত্তাকর্মী নেই। একটি লঞ্চে হাজার-হাজার যাত্রী যাতায়াত করে সেখানে নিরাপত্তাকর্মী রাখা প্রয়োজন। লঞ্চে নিরাপত্তাকর্মী রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। রোজা ও ঈদের জন্য আলাদা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যানজট নিরসনে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পৌরসভার পক্ষ থেকে লোক নিয়োগের জন্য পৌর মেয়রের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
তিনি আরো বলেন, গত মাসে হাইমচরে পুলিশ সদস্য পানিতে ডুবে মারা যায়। এ ঘটনায় যে যেভাবে জড়িত আছে তাদের সনাক্ত করা হয়েছে। তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় আসামি আটক করা হয়েছে। এটা নিয়ে আতঙ্ক হওয়ার কিছু নেই। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, কিছু জায়গা ছাড়া শহরে তেমন কোন যানজট নেই। ১৮ বছরের নিচে চাঁদপুর পৌরসভা থেকে কাউকে লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে না। প্রতিদিন অটোরিক্সার চলাচলে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। শহরকে নিরাপদ রাখায় চাঁদপুর পৌরসভা কাজ করছে। চাঁদপুরে ৫ হাজার রিক্সা চলাচল করতো। ৪ হাজার উঠিয়ে বর্তমানে ১ হাজারের লাইসেন্স পৌরসভা থেকে দেয়া হয়েছে। নির্বিঘেœœ মানুষ যাতে ঈদ উদযাপন করতে পারে সেদিকে পৌরসভা কাজ করবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বলেন, আমরা চাঁদপুর শহরটাকে পরিস্কার করতে চাই। বর্তমানে সমাজে শিশু ও নারী নির্যাতন আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। আমরা কারো বিরুদ্ধে নই। আমরা চাই সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এম এ ওয়াদুদ, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এএইএম গিয়াস উদ্দিন, বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম ইকবাল প্রমুখ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনএসআই’র উপ-পরিচালক এবিএম ফারুক, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফরিদ উল্যাহ চৌধুরী, জেলা মৎস্য অফিসার মো. আসাদুল বাকী, চাঁদপুর পাসপোর্ট বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তাজ বিল্লাহ, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়–য়া, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আফরোজ, হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী বেগম, কচুয়া উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা নিলীমা আফরোজ, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম, শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিন আক্তার, চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আলহাজ জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, সাবেক সভাপতি সুভার চন্দ্র রায় প্রমুখ।