স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর, মতলব ও হাইমচরের প্রায় এক ডজন স্থানে স্থায়ী ও ভাসমান লঞ্চঘাট করা হয়েছে। কিন্তু এসব ঘাটের অধিকাংশের নেই বিআইডব্লিউটি’র কোনো অনুমোদন। তারপরও যাত্রী চলাচলের সুবিধায় যাত্রীরা এসব ঘাট দিয়েই উঠা-নামা করছে এবং বিভিন্ন লঞ্চে করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ যাতায়াত করছে।
চাঁদপুর সদরের কানুদী, আমিরাবাদ, মতলবের এখলাসপুর, মোহনপুর, ষাটনল, বেলতলী, হাইমচরের কাটাখালী, হাইমচর, নীলকমল ও চরভৈরবী লঞ্চঘাটে প্রতিদিন ছোট-বড় প্রায় ১৫টি লঞ্চ ভিড়ছে। এসব ঘাট দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ এবং চাঁদপুর যাতায়াত করে। অথচ একটি লঞ্চঘাটেও নেই যাত্রীদের জন্য সামান্যতম সুবিধা। কোনো পন্টুন নেই। যাত্রীদের বিশ্রাম নেয়ার জন্য নেই কোনো যাত্রীছাউনি কিংবা টয়লেট ব্যবস্থা। প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা না থাকায় যাত্রীদের লঞ্চে ওঠানামা করতে হচ্ছে একরকম দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই।
সরেজমিনে কয়েকটি লঞ্চঘাটে ঘুরে দেখা যায়, লঞ্চ থেকে সরু কাঠের গ্যাংওয়ের ওপর দিয়ে যাত্রীরা নদীর পাড়ে নেমে আসা- যাওয়া করছে। যাত্রীদের সবচেয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয় চাঁদপুর সদরের কানুদী, আমিরাবাদ মতলবের এখলাশপুর ও হাইমচর অঞ্চলের ভাসমান ঘাট গুলোতে। সেখানে লঞ্চে উঠতে এবং নামতে যাত্রীদের অবর্ণনীয় কষ্ট হয়। বর্ষা মৌসুমে মতলব ও হাইমচরে ঘাটগুলোতে মেঘনার ভাঙন প্রতিরক্ষা বাঁধের সঙ্গে নোঙ্গর করে লঞ্চ ভেড়াতে হয়। এতে করে একদিকে যেমন তীররক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তেমনি ওই সময় যাত্রীদেরকে পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন পন্টুন না থাকায় যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হলেও পন্টুন করার উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। অনেক সময় লঞ্চ থেকে নামতে গিয়ে পানিতেও পড়ার ঘটনা ঘটে বলে তারা জানান।
হাইমচরের চরাঞ্চলের মরিয়মেরনেছা নামে এক বৃদ্ধা বলেন, অনেক কষ্টে লঞ্চ থেকে নেমেছি। চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে লঞ্চে উঠতে কোনো কষ্ট হয়নি, এখন চরভৈরবী ঘাটে নামতে গিয়ে এতো কষ্ট পেয়েছি যে, তা ভুলতে পারব না।
কয়েকটি লঞ্চের সুপারভাইজার জানান, পন্টুন ও যাত্রী ছাউনির জন্য তারা লঞ্চ মালিকসহ অনেকবারই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। কিন্তু আজও পন্টুন কিংবা যাত্রীছাউনি করা হয়নি।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ’র উপ-পরিচালক একেএম কায়সারুল ইসলাম বলেন, আসলে হাইমচর নদীভাঙন কবলিত এলাকা। তাছাড়া অন্য ঘাটগুলো সম্পর্কে কিছুটা জেনেছি যে, স্থানীয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নদী ভাঙন অথবা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওইসব এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ পন্টুন নির্মাণের ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। তারপরও সহসাই আমি ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে সম্ভাব্যতা দেখে কর্তৃপক্ষকে জানাবো।
১৮ জানুয়ারি, ২০২২।
