চাঁদপুরে পানিসম্পদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির মতবিনিময় সভা


নদী ভাঙন সমস্যা গবেষণা করে স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা করা হবে
…….সচিব কবির বিন আনোয়ার

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর জেলা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটি, জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকাল সাড়ে ৪টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুরের ভাঙন সমস্যা দীর্ঘদিনের। কেন এত ভাঙন, এটিও একটি প্রশ্ন। এখানে পদ্মা-যমুনার অনেক পানি ¯্রােত নিয়ে নেমে আসে। পরে পদ্মা মেঘনার মোহনায় এসে এটি ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়। অনেক পানি এখান দিয়ে প্রবাহিত হয়। চাঁদপুর রক্ষায় যে ছোট-খাটো রক্ষা ব্যবস্থা কতটুকু কার্যকর হয়, সেটা আমরা গত বহু বছর দেখে আসছি, কিন্তু বার-বার আমরা ব্যর্থ হচ্ছি। এখন আমাদের কাজ জরুরিভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানো। পরবর্তীতে স্থায়ী কাজ করা হবে। আর এজন্য আমরা হাইড্রোলজিক যন্ত্রপাতি নিয়ে এসেছি। প্রধান প্রকৌশলীও এসেছেন। ওই স্থানটি গবেষণা করে দেখা হবে, কোথায় কতটুকু গভীরতা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী আমরা ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থাগ্রহণ করবো।
তিনি আরো বলেন, পুরাণবাজারে যে স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেখানে চিহ্নিত জায়গাগুলো নির্ধারণ করে আপাতত জিও ব্যাগ ও সিসি ব্লক দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করবো। জরুরিভাবে কাজ চলমান রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আজ এবং আগামিকাল চাঁদপুর থেকে পুরো বিষয়টির অবস্থান সম্পর্কে জানবেন। আশা করি আমরা ভাঙন প্রতিরোধ করতে পারবো। যেহেতু আমরা একটু সময় পাওয়ার কারণে আগ থেকেই কাজ শুরু করতে পেরেছি।
সচিব বলেন, চাঁদপুরের এই ভাঙন প্রতিরোধে একটি স্থায়ী সমাধান করতে হবে। আপনারা জানেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডেল্টা প্ল্যান ঘোষণা করেছেন। সেই ডেল্টা প্ল্যানের মধ্যে মোহনা ব্যবস্থাপনাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। চাঁদপুর ও ভোলার এই মোহনাগুলো নিয়ে আমরা আলাদা চিন্তা-ভাবনা করছি। এখানে পাড় রক্ষার জন্য শক্তিশালী ব্যবস্থা করা হবে। যাতে করে পানির ¯্রােত এসে ক্ষতি না করতে পারে। তবে এটি একটু সময়সাপেক্ষ। এখন যাতে করে শহরের ক্ষতি না হয় আমরা সেই ব্যবস্থা করছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে এখানে কাজ করতে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। আমাদের যারা কর্মকর্তা এবং আপনারা যারা রয়েছেন, শ্রমিক যোগাড় করার জন্য সহযোগিতা করবেন। আরেকটি সমস্যা হচ্ছে জরুরি কাজে শ্রমিকদের মজুরি পাওয়া নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়। কিন্তু এখন এই বিষয়ের পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে আমরা কাজের ২০% বিল প্রদান করি। সারাদেশের পাশাপাশি চাঁদপুরে দেয়া হয়েছে।
কবির বিন আনোয়ার বলেন, সারাদেশে যেসব স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে, সেইসব স্থানে আমরা প্রতিরোধের চেষ্টা করবো। আপনাদের অবগতির জন্য বলছি, সারাদেশে আমাদের প্রায় ১৭ হাজার কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৬শ’ ৬৫ কিলোমিটার রয়েছে সাগর এলাকায়। হাওড় এলাকায় বাঁধ রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ২২ কিলোমিটার। বর্ষা মৌসুুম এলে হাওড় এলাকার বাঁধ পাহারা দিয়ে রাখতে হয়। ওইসব এলাকার বন্যার পানিই এইসব নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ বছর বাঁধ এবং নদী ভাঙন মিলিয়ে সারাদেশে ৫শ’রও বেশি স্থানে ভেঙেছে। তার সাথে এখন চাঁদপুরেও যোগ হলো। এসব এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে আমরা গত বছর থেকেই সারাদেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়গুলোতে জিও ব্যাগসহ সরঞ্জামাদি প্রস্তুত রেখেছি। এসব ভাঙন রোধে আমরা কোনভাবেই পিছপা হবো না। সারাদেশে কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কারণ সামনে ঈদ রয়েছে। কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শওকত ওসমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী মোতাহার হোসেন ও ডিজাইনার মো. মোতাহের হোসেন।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. রফিক উল্যাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান, সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ জামাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. শফিউদ্দিন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকি, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কানিজ ফাতেমা, চাঁদপুর নৌ বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শহীদ পাটওয়ারী, সাবেক সভাপতি ইকরাম চৌধুরী, গোলাম কিবরিয়া জীবনসহ স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

০৫ আগস্ট, ২০১৯।