যুদ্ধের সময়ে প্রথম আঘাত হয়েছিল পুলিশের উপর………পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ
স্টাফ রিপোর্টার
পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ বলেছেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাতে আমি গর্ববোধ করি। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে প্রথম আঘাত ও বুলেটটি ছোঁড়া হয়েছিল পুলিশ বাহিনীর উপরে। সেসময় পাকবাহিনী হামলার জন্য ৪টি স্থাপনাকে বেছে নিয়ে প্রথমেই রাজারবাগে পুলিশ বাহিনীর উপর হামলা চালায়।
শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় পুলিশ লাইনস মিলনায়তনে মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, পাকবাহিনীর ভারী অস্ত্রশস্ত্রের বিরুদ্ধে সেদিন শুধু মাত্র থ্রি-নট-থ্রি রাইফেল নিয়ে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা বীরদর্পে লড়াই করেছিলেন। সেদিন অনেক বীর পুলিশ সদস্য শত্রুর সাথে লড়াই করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাধীন দেশ গড়তে এবং মাটির টানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। যুদ্ধে গিয়ে কেউ ফিরে আসবেন এ চিন্তা করে যুদ্ধে যায়নি তারা। ওনাদের ত্যাগে শোধ করবার মতো নয়।
মিলন মাহমুদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের রাজাকার আলবদরের পেতাত্মারা আজও দেশে আছে। আমরা যেন মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর চেতনা মাথায় না রেখে বুকে ধারণ করি। চেতনা মাথায় রাখলে তা বেশিদিন থাকে না তা হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল খালেক মন্টু একজন মুক্তিযোদ্ধাই নন, তিনি একজন সাংবাদিক ও লেখকও। উনার লিখা একটি বই আগামি বই মেলায় প্রকাশিত হবে, আমি এখানে উপস্থিত সবাইকে বইটি প্রকাশের পর উপহার হিসেবে দেব।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী ১৬ ডিসেম্বর দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এ শপথ।
পুলিশ কনস্টেবলদের চাকরি দেওয়ার প্রসঙ্গে এসপি বলেন, আমি শুধু মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নয় ওনাদের নাতি পুতিদেরও চাকরি দিয়েছি। আমি পুলিশের পোষ্য কোঠায় থাকাদেরও চাকরি দিয়েছি। সব ধরনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতায় এবং ঘুষ ও অনিয়ম ছাড়া যোগ্যতা বলে চাকরি পেয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) সুদীপ্ত রায়ের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা এম এ ওয়াদুদ, মুক্তিযোদ্ধা ইয়াকুব আলী মাস্টার, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, পুলিশ সুপারের গর্বিত বাবা মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক মন্টু।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) সোহেল মাহমুদের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা অবসরপ্রাপ্ত এসআই (নিরস্ত্র) মো. আমির হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কনষ্টেবল (অব.) তোফাজ্জল হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত হাবিলদার মোহন বাঁশি দত্তের ছেলে অজিত দত্ত, মুক্তিযোদ্ধা সুবেদার ইউসুফ আলী, মুক্তিযোদ্ধা আমির হোসেন, অতিরিক্ত আইজিপি মাসুদুল হকের ভাই আনিছুর রহমান।
চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলার ৬৫ জন মুক্তিযোদ্ধা (পুলিশ সদস্য) ও তাদের পরিবারকে উত্তরীয়, সম্মাননা ক্রেস্ট ও উপহার প্রদান করেন প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রশিদ, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হারুনুর রশিদ, হাইমচর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহাবুব মোল্লা, কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মহিউদ্দিন, মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল, মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মহিউদ্দিন, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শহীদ, শাহরাস্তি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোরশেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পুলিশ কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাও. আব্দুল ছালাম ও গীতা পাঠ করেন পুলিশ সদস্য পার্থনাথ দাস। সবশেষে, আমন্ত্রিত ও সংবর্ধিত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা প্রীতিভোজে অংশ নেন।
১৯ ডিসেম্বর, ২০২১।
