চাঁদপুরে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধী সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তির প্রতিবাদে

স্টাফ রিপোর্টার
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বিরোধী সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তির সংবিধান বিরোধী বক্তৃতার প্রতিবাদে চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও চাঁদপুর সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্রের যৌথ আয়োজনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে চাঁদপুর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কস্থ মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাস্কর্য অঙ্গীকার সম্মুখে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি তপন সরকারের সভাপতিত্বে এবং স্বরলিপি নাট্য দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এম.আর ইসলাম বাবুর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ইয়াকুব আলী মাস্টার, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাফাজ্জল হোসেন পাটওয়ারী এসডু, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার চেয়ারম্যান অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরন, বিজয় মেলার মহাসচিব হারুন আল রশীদ, চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ফরিদা ইলিয়াছ সহ আরো অনেকে।
প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে চাঁদপুরের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও নাট্য সংগঠনের সংগঠক ও শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে এদেশ স্বাধীন হতো না। বঙ্গবন্ধুর খুনী ও প্রেতাত্মারা বাংলাদেশে ৬৪টি জেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে নানা কথা বলে। আজকে তারই প্রতিবাদে অঙ্গীকার পাদদেশে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করা হচ্ছে। মৌলবাদ সাম্প্রদায়িক চক্র মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা স্বাধীনতাকে নিয়ে পতুয়া দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর কারণে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ সুখী সমৃদ্ধশালী ও উন্নতশালী দেশ হিসেবে গড়ে উঠেছে। যারা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে বিরোধিতা করছে আমরা সাংস্কৃতিক কর্মীরা তাদের বিষ দাঁত ভেঙ্গে দিব। বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে আমরা এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারতাম না। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য করতে হলে প্রয়োজনে আমরা মুক্তিযুদ্ধের ন্যায় আবারও রক্ত দিব, তবুও ৬৪টি জেলায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ করব। ভাষা বিরোধী শক্তি ও স্বাধীনতার পরাজিতদেরকে যেমনিভাবে আমরা রুখে দিয়েছিলাম তেমনি আবারও এই মৌলবাদ শক্তিকে রুখে দিব। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে স্বাধিকার আন্দোলনে এ দেশ স্বাধীন করেছি। আজকে সারা বাংলাদেশে যে নেতার মাধ্যমে এ দেশ স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে সেই নেতার ভাস্কর্য নিয়ে মৌলবাদী চক্ররা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। যে ভাস্কর্য করা হবে তিনি কে? তিনি হলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য একটি ইতিহাস। সংবিধান বিরোধী যারা বক্তব্য দেয় তাদেরকে আমরা জবাব দিব। বঙ্গবন্ধুর মুর‌্যাল ও ভাস্কর্য কোথায় করা হবে তার সিদ্ধান্ত আমরা দেশবাসী দিব। আমরা কারো বাধা শুনবো না। মাহমুদুল হক ভাস্কর্য নিয়ে যে বিরোধিতা করেছে তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর খুনী ও স্বাধীনতা বিরোধীদের ফাঁসির মঞ্চে এনে বিচার করেছে। তেমনি এ মৌলবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হোক।
০৬ ডিসেম্বর, ২০২০।