চাঁদপুরে প্রস্তুত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আজ থেকে ক্লাসে ফিরছে শিক্ষার্থীরা

 

 এসএসসি, এইচএসসি ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস হবে প্রতিদিন।

 ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ এবং ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণির সপ্তাহে একদিন।

 প্রাক-প্রাথমিক, নার্সারি ও কেজি শিক্ষার্থীদের স-শরীরে ক্লাস হবে না।

 এ মুহূর্তে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার বিষয়ে কোন নির্দেশনা নেই।

 

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্

দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস পর আজ রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কার্যক্রম। প্রতিদিনই চলবে ক্লাস। তবে শুরুতেই ২০২১ সাল এবং পরের বছর ২০২২ সালে যারা এসএসসি ও এইচএসসি এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ক্লাস হবে নিয়মিত। মাধ্যমিকের ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণি এবং প্রাথমিকের প্রথম, দ্বিতীয় তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস হবে সপ্তাহে একদিন। প্রাক-প্রাথমিক, নার্সারি ও কেজি শিক্ষার্থীদের স-শরীরে ক্লাস হবে না।

গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা শেষে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে সব পর্যায়ের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান শুরু হবে বলে জানান। এর আগে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি চলছে। এই ছুটি শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ছিল।

এদিকে সরকারি নির্দেশনা পেয়ে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করার মধ্য দিয়ে পাঠদান উপযোগী করা হয়েছে। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, স্যানিটাইজ করা, স্কুল চত্বরসহ আশপাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। এছাড়া স্কুলে আসার পর শিক্ষার্থীর হাত ধোয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবহার, মাস্ক পরিধান ও থার্মোমিটার দিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

জানা গেছে, ক্লাসের সময়সূচি সাজাতে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বলা হয়েছে, সময়সূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ, প্রস্থান বা অবস্থানের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট শ্রেণিতে দু’টি করে ক্লাস হবে। যাতে করে শিক্ষার্থীরা স্কুলে কম সময় থাকে এবং স্কুলে খেতে না হয় ও মাস্ক খোলার যেন প্রয়োজন না হয়।

ক্লাসের সময়সূচি এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যেন বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ভিন্ন ভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে এবং বের হয়। সময়সূচির সঙ্গে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহারিক ক্লাসগুলোও নির্ধারণ করা যেতে পারে। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আপাতত প্রাতঃসমাবেশ (অ্যাসেম্বলি) বন্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ক্লাসের সময়সূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয় মেনে চলতে হবে।

সরকারের কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) মোকাবিলা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে এই ১১ দফা নির্দেশনা দেয় মাউশি। এদিকে মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনই আর প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে এক দিন ক্লাসে যেতে হবে।

তবে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার বিষয়ে মাউশি’র কোন নির্দেশনা নেই। এছাড়া পরীক্ষা গ্রহণের জন্য পাঠ্যসূচি পুনর্বিন্যাস (সংক্ষিপ্ত) করা দরকার, যা এখনো হয়নি এবং পরীক্ষার ফরম পূরণ এবং প্রশ্নপত্র তৈরি ও ছাপানোরও কোনো প্রস্তুতি নেই বলেও একটি নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার প্রস্তুতিই নেয়া হয়নি।

অপরদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে সুরক্ষিত রাখার জন্য দৈনিক ভিত্তিতে মনিটরিং করার লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে মনিটরিং চেকলিস্টের তথ্যসমূহ প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে মাউশি। এছাড়া নির্ধারিত ছক অনুযায়ী কেবল সমস্যা চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর।

গতকাল শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে জামালপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, সরকার প্রতিদিনের সংক্রমণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিভিন্ন শ্রেণির জন্য স্কুলের সময় এবং দিনের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। যদি সংক্রমণ বেড়ে যায়, প্রয়োজন হলে আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হবে।

১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১।