বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা

ইলশেপাড় রিপোর্ট
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চাঁদপুরের হাট-বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে গেছে। এ সুযোগে ব্যবসায়ীরা অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। পণ্যের বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন অনেকটাই হার্ডলাইনে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কয়েকটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানাসহ সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
এদিকে চাঁদপুরের জনসাধারণ জিনিসপত্রের সংকট হবে ভেবে বাজারগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। গতকাল মঙ্গলবারও দিনভর শহরের পালবাজার ও বিপণীবাগ বাজারে ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যবসায়ীরা চরম ব্যস্ত সময় পার করেছে। পণ্য সংকটের আশংকায় লোকজন ২/৩ গুণ পণ্যসামগ্রী কিনে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যাপ্ত পণ্য তাদের কাছে আছে। কিন্তু পরিবহন ও পাইকারী ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধি করায় তাদের কিছুটা বাড়তি দামে জিনিস বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে গত শুক্রবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে ফরিদগঞ্জে উপজেলা সদরের মধ্য বাজারে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে কয়েকটি মুদি দোকান ও পোল্ট্রি দোকানিকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আক্তার।
মতলব দক্ষিণ উপজেলায় গত শুক্রবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা হক। তিনি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বেশি মূল্যে দ্রব্য বিক্রির জন্য ২৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
গত বুধবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান মানিকের নেতৃত্বে চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ ও পালবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় বিপণীবাগ বাজারে তাহের ট্রেডার্সকে ৫ হাজার টাকা এবং ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফাকে ২ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করে। পাল বাজারে সাহা ট্রেডার্সকে ২ হাজার টাকা এবং মেঘনা ট্রেডার্সকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করে ঐ ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অপরদিকে মতলব উত্তর উপজেলার ছেঙ্গারচর বাজার, নতুন বাজার, আমিরাবাদ বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএম জহিরুল হায়াত। আদালত এ সময় সাড়ে ৩৭ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আদায় করে ৫ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হতে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনাভাইরাস রোধে লকডাউন ঘোষণা ও দূরপাল্লার যানবাহন বন্ধের ঘোষণা দেয়ার সাথে-সাথে সাধারণ মানুষ নির্ধারিত চাহিদার বিপরীতে অতিরিক্ত নিত্যপণ্য ক্রয় করার জন্য বাজারে ভিড় করতে থাকে। ফলে সাময়িক সময়ের মধ্যে বাজারে নিত্যপণ্যের সংকট সৃষ্টি হলে পাইকারী বাজার আর আড়ৎদাররা অতিরিক্ত চাহিদার পণ্য সরবরাহ করতে হিমশিম খায়। এতে করে দ্রব্যমূল্য হঠাৎ করেই বেড়ে যায়।
অপরদিকে বাজারে চালের দর ঠিক রাখতে সরকার ব্যবসায়ী ও মিল মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করে দিয়েছে। এজন্য ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সঙ্গে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে একযোগে অভিযান পরিচালনা করবে। এজন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে মাঠ প্রশাসনকে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এমন খবরেই আতঙ্কে মানুষ চালসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্য বেশি পরিমাণে কিনে মজুদ করতে শুরু করে। এই সুযোগে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা কেজিপ্রতি চালের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে খাদ্য মন্ত্রণালয় অভিযান পরিচালনা ছাড়াও ওএমএসের (খোলা বাজারে বিক্রি) চাল বিক্রি শুরু করছে। এছাড়া করোনার কারণে চালের সংকট দেখা দিলে চাল আমদানির সিদ্ধান্তও নেয়া হবে।
খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দেশে চালের কোনো সঙ্কট নেই। ওএমএস ডিলারদের চাল নিয়ে বাজারে বিক্রি করার জন্য বলা হয়েছে। আগামি রোববার থেকে ডিলারদের বলা হবে তিনদিনের মধ্যে চাল তুলে খোলা বাজারে বিক্রি করার জন্য অন্যথায় ডিলারশিপ বাতিল করে নতুন ডিলার নিয়োগ দেয়া হবে।
খাদ্যমন্ত্রী আরো জানান, হতদরিদ্রদের জন্য ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চলমান থাকবে। চালের দাম বেড়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। একেবারে অযৌক্তিকভাবে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। যারা দাম বাড়িয়েছে তাদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা শুরু হয়ে গেছে।
সরকারের খাদ্যশস্যের মজুত সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে সরকারি গুদামে সাড়ে ১৭ লাখ টনের মতো খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এরমধ্যে ১৫ লাখ টনের মতো চাল রয়েছে।’
সরকার কমমূল্যে খোলা বাজারে পণ্য বিক্রি করার জন্য জরুরিভিত্তিতে আরও ৪৫টি ডিলার নিয়োগ দিয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।
টিসিবি শিগগিরই আসন্ন রমজান ও করোনাভাইরাসকালীন সময়ে সংকট মোকাবিলায় পণ্য নিয়ে মাঠে নামবে। এ কার্যক্রমের আওতায় প্রতিজন ভোক্তা ৫০ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ ৪ কেজি চিনি, ৮০ টাকা প্রতি লিটার দরে ৫ লিটার সয়াবিন তেল, ৫০ টাকা কেজি দরে ২ কেজি মশুর ডাল এবং ৩৫ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনতে পারবে।
এদিকে চাঁদপুরের চালের বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রকারভেদে দাম বেড়েছে ৫ টাকা পর্যন্ত। বাজারে ২৮-৩০ টাকা কেজির গুটি চাল হঠাৎ ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা হয়েছে। ৩২-৩৩ টাকার পারিজা ৪০-৪২ টাকা, ৪০-৪২ টাকার জিরা চাল ৫৫ টাকা, ৪৮ টাকার চিকন চাল জহুরা মিনিকেট এখন ৫৫ টাকা।
চালের বাজার মনিটরিং করতে আসা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন জানান, চাঁদপুরের কোথাও যেনো করোনাভাইরাসকে কেন্দ্র করে অস্বাভাবিকভাবে দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি বা মজুতদারি করা না হয়। এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়েছে।
