সরকারের উন্নয়নের সব কিছুই দৃশ্যমান করতে হবে
……..প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো. খলিলুর রহমান
সজীব খান
চাঁদপুর জেলায় বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কিত জেলার সব বিভাগের সাথে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. খলিলুর রহমান।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চেষ্টা করছেন আমাদের ভাগ্য পরিবর্তন করতে। মানুষকে একটু স্বস্তি দিতে। মানুষ যাতে একটু নিরাপদে সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। সেজন্য সরকার অনেকভাবে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এজন্য আমাদের যার-যার অবস্থান থেকে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। সরকারের উন্নয়নের সব কিছুই দৃশ্যমান করতে হবে। যেখানে অনিয়ম ও দুর্নীতি রয়েছে সেখানকার তথ্য দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। দেশে আর যেন কোন জিকে শামীম সৃষ্টি হতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সরকার দেশে পরিচালনা করছে। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর। আমাদের দেশের অর্থনীতিক অবস্থা দিন-দিন পরিবর্তন হচ্ছে। সরকারের উন্নয়নের কর্মকা-গুলো সর্বস্তরের মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দেশের মানুষের যাতে শিক্ষা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসহ সব নাগরিক সুবিধা সঠিকভাবে নিশ্চিত হয় সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। কৃষির উন্নয়নের জন্য সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। হাইওয়ে সড়কের পাশের দোকানগুলো উচ্ছেদ করতে হবে। চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। উচ্ছেদের সময় কোন প্রকার বাঁধা আসলে সাথে সাথে প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হবে। নিরাপদ সড়কের জন্য হাইওয়ের সব স্পীড ব্রেকারগুলো ভেঙে ফেলতে হবে। সড়কের পাশে গাছ লাগাতে হবে। মহাসড়কগুলোতে ভারী যানবাহনের লোড কমাতে হবে।
তিনি বলেন, গ্রামীণ ফিডার রোডগুলোর দিকে একটু বেশি নজর দিতে হবে। কোনমতে যাতে গ্রামীণ রাস্তাগুলোতে ৫ টনি যানবাহনগুলো চলাচল করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এসব বিষয়গুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। সরকারি টাকা খরচ করে দেশের গ্রামীণ ফিডার রোডগুলো করা হচ্ছে সেদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটু বেশি খেয়াল রাখতে হবে। সড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করতে হবে। দেশে সঠিকভাবে আইন প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেশি সচেতন হতে হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রশাসনিক সেক্টরে জনবল সংকট থাকলে তাও সরকারকে লিখিতভাবে জানাতে হবে। জনবলের সংকটের কোটাগুলো পূরণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আনতে হবে। একটা ছেলে কিংবা মেয়ের সরকারি চাকরি হওয়া মানে একটি পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন হওয়া। তাই কোন বিষয়ে খামখেয়ালী করা যাবে না। সরকার মহতী উদ্যোগ নিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। এজন্য আমরা যারা দায়িত্বশীল পদে রয়েছি তাদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।
জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. জামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম জাকারিয়া, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রট মোহাম্মদ আল মাহমুদ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের সচিব মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট ওয়ালিদুজ্জামান, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আবু তাহের, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান, সড়ক ও জনপদের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ কবির চৌধুরী, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেন, উপজেলা মেডিক্যাল অফিসার ডা. এম এ গফুর, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী, জেলা শিক্ষা অফিসার শফিউদ্দিন, জেলা সমাজসেবা অফিসের উপ-পরিচালক রজত শুভ্র সরকার, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. জামাল উদ্দিন, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল মতিন প্রমুখ।
এসময় প্রশাসনের প্রতিটি বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
০৭ অক্টোবর, ২০১৯।