স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর শহরের প্রফেসর পাড়া মোল্লা বাড়ি এলাকায় কয়েকশ’ বিদ্যুৎ গ্রাহকের কাছ থেকে পিলার (খুঁটি) বসানোর কথা বলে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রফেসর পাড়া মোল্লা বাড়ি রোডে মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর হাউজিংয়ে বিদ্যুতের পিলার স্থাপনের কথা বলে ওই এলাকার আলী হোসেন মোল্লার ছেলে নান্নু মোল্লা গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়ার বিষয়ে এলাকাবাসী নিশ্চিত করেছেন। এ ব্যাপারে এলাকার বিদ্যুৎ গ্রাহক ও এলাকায় বসবাসরত সচেতন এলাকাবাসী চাঁদপুর পৌর মেয়র ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থাগ্রহণ করার জন্য এলাকাবাসী জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মোল্লা বাড়ি রোডের মহিউদ্দিন পাওয়ারীর হাউজিংয়ে প্রায় ৪ একর সম্পত্তির মধ্যে ২শ’ গ্রাহকের মতো রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে প্রায় ৫০ জন গ্রাহক বসবাস করছে। এরা কেউ কেউ বিল্ডিং নির্মাণ করে আবার কেউ সেমিপাকা বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছে এবং বাকিরা ক্রয়কৃত ফ্লটে সীমানা প্রাচীর দিয়ে রেখেছেন। বসবাসকারীরা তাদের প্রয়োজনে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য পার্শ্ববর্তী পিলার থেকে বাঁশ দিয়ে ঝুঁকির মধ্য দিয়ে সংযোগ এনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। আবার কেউ কেউ আবেদন করেও বিদ্যুতের খুঁটি না থাকায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি। যার কারণে ওই এলাকায় প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহকের বিদ্যুৎ সুবিধার জন্য প্রায় ৩০টির মতো খুঁটির প্রয়োজন। এরই মধ্যে গ্রাহকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে এবং পুরাতন বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সুবিধার্থে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কার্যালয়ের মাধ্যমে ১০টি খুঁটি স্থাপনের জন্য ওই স্থানে পাঠানো হয়েছে।
ওই স্থানে বসবাসরত এলাকাবাসীর অভিযোগ, এ বিদ্যুতের পিলার (খুঁটি) দেখিয়ে ওই এলাকার আলী হোসেন মোল্লার ছেলে নান্নু মোল্লা প্রতি সংযোগ বাবদ প্রত্যেক গ্রাহকদের কাছ থেকে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বাধ্যতামূলকভাবে হাতিয়ে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করলে জানায়, এ মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে নান্নু মোল্লা দেখাশুনা করে আসছে। তাই বিদ্যুতের টাকা নেয়ার বিষয়টি অসম্ভবের কিছু নয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মসজিদের ইমাম হাফেজ মাও. আহমদ উল্যাহ, প্রবাসী জাকির হোসেন খানের স্ত্রী, নান্নু মোল্লার চাচাতো বোন কামরুন্নাহার ও এলাকায় বসবাসকারী রানাসহ বেশ কয়েকজন বিদ্যুতের পিলার আনার জন্য নান্নু মোল্লা টাকা নেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নান্নু মোল্লা জানান, সরকারি নিয়মে বিদ্যুতের পিলার ও লাইন যাচ্ছে। এতে বসবাসকারি কোন গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নেয়া হচ্ছে না। তবে বিদ্যুতের পিলার বসানোর জন্য ব্যাপক খরচ রয়েছে। এটা এলাকাবাসীকেই তো বহন করতে হবে। যারা আমার বিরুদ্ধে টাকা নেয়ার অভিযোগ দিয়েছে তা মিথ্যা। সরকার দলীয় নেতা ও বিদ্যুৎ শ্রমিক নেতাদের কাছে গ্রাহকরা আবেদনের কথা জানালে তারা ওই পিলারগুলো অফিসের সাথে আলাপ-আলোচনা করে নিয়মতান্ত্রিকভাবেই বসানোর ব্যবস্থা করছে। বর্তমানে এখানে বাঁশের খুটি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে লাইন চলছে। এ লাইন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগই এ স্থানটি পরিদর্শন করে এখানে পিলার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের ওই এলাকার দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, ওই এলাকায় যারা পুরাতন গ্রাহক তারা বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই এলাকায় বিদ্যুতের ১০টি পিলার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেই। যা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে অচিরেই স্থাপন করা হবে।
চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম ইকবাল জানান, নতুন করে কোন সংযোগের জন্য পিলার স্থাপন করা হলে সেখানে সরকারি নিয়ম মোতাবেক গ্রাহকদের সরকারের নির্ধারিত ফি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিয়ে পিলার স্থাপনের বিধান রয়েছে। এছাড়া ওই এলাকায় আমাদের পুরাতন গ্রাহকদের সুবিধার্থে, বর্তমানে ওই এলাকায় লো-ভোল্টেজের কারণে এ পিলারগুলো স্থাপন করা হবে।
এ পিলার স্থাপন করতে গিয়ে কোন টাকা-পয়সা বিদ্যুৎ বিভাগকে দিতে হবে না। যা সম্পূর্ণ সরকারি নিয়মানুযায়ী হবে। এর বাইরে কোন ব্যক্তি পিলার দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করলে সেটা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে করা হবে। আপনারাও অপেক্ষা করুন পিলারগুলো নিয়ামতান্ত্রিকভাবে প্রতিস্থাপন করা হচ্ছে কিনা। যদি অনিয়ম করা হয় তাহলে সেই পিলার তুলে নিয়ে আসা হবে।
২৮ জুলাই, ২০১৯।