স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর সদর উপজেলার বাগাদী ইউনিয়নে মাদক ব্যবসায়ীরা পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে দেয় ইকবাল মাহমুদ খোকন নামে ব্যাবসায়ীকে। ৯ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর সোমবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় এলাকাবাসী এলাকায় বিক্ষোভ করেছে এবং প্রশাসনের কাছে এ হত্যার বিচারের দাবীতে লাশ রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তারা এ ঘটনার সাথে জড়িত মাদক ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন দেলসহ তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি দাবি করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (৮ জুন) নিহত ব্যবসায়ীর গ্রাম পশ্চিম সকদির খান বাড়িতে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে। খোকন আব্বাস খান বাড়ির মৃত রুস্তম খানের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
নিহতের ছেলে মঞ্জুর খান বলেন, তার ফুফুদের সম্পত্তি নিয়ে এলাকার চিহ্নিত ও একাধিক মাদক ব্যবসায়ী দেলোয়ার খান দেলুর বিরোধ চলে আসছিলো। জোরপূর্বক ফুফুদের সম্পত্তি দখল করতে গেলে তার পিতা খোকন বাধা দেয়। গত ৩০ মে সন্ধ্যায় হঠাৎ করে মাদক ব্যবসায়ী দেলুসহ তার সহযোগীরা তার পিতার দোকানে এসে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা এবং পেট্টোল দিয়ে তার দোকান আগুনে জ্বালিয়ে দেয়। এতে তার পিতার শরীরে অধিকাংশ পুড়ে যায়। বাড়ির লোকজন প্রথমে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে ওইদিন রাতেই রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সোমবার সন্ধ্যার পর মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি আরো বলেন, পিতার চিকিৎসার ব্যস্ততার কারণে কোন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি। হত্যার ঘটনায় জড়িতের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নিহতের চাচাত বোন রোকেয়া বেগম বলেন, তার ভাই তাদের সম্পত্তিতে জোরপূর্বক দখলে বাঁধা দিতে গেলে দেলোয়ার খান দেলু গংরা ক্ষিপ্ত হয়। তারা দোকানে এসে খোকনকে শাঁসায়, হুমকি দেয় ও দোকানে হামলা করে এবং জীবন্ত মানুষের গায়ে পেট্টোল দিয়ে আগুন দেয়। এমন লোমহর্ষক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এদিকে জানাযায় অংশগ্রহণকারী এলাকার শত শত মানুষ এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন দেলু ও ঘটনার সাথে জড়িতদের ফাঁসির দাবি করেছেন। তারা বলেন, জীবন্ত মানুষকে পেট্টোল দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার মত জঘণ্য ঘটনা ওই এলাকায় কখনো ঘটেনি।
পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ বলেন, ঘটনাটি আমরা জেনেছি। তবে ওই ব্যাক্তিকে পেট্রোল দিয়ে আগুনে পোড়ানো হয়েছে, তা জানা ছিলো না। কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ দিলে অবশ্যই আমরা ঘটনার সাথে জড়িতের খুব দ্রুত আইনের আওতায় আনবো।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর মডেল থানার এএসআই কাউছার জানান, ইকবালকে আগুন দিয়ে দোকানসহ পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনার সংবাদ পেয়ে গত ৩০ মে রাতে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তখন আমার ডিউটি থাকায় গিয়েছিলাম। যে ঘটনা ঘটেছে, তা’ সত্য। তবে এ ঘটনায় কেউ মামলা না করায় চাঁদপুর মডেল থানার পক্ষ থেকে তখন কোন ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। এখন যদি কেউ মামলা দেয় তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।
উল্লেখ্য, আগুনের ঘটনায় জড়িত দেলু খান একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। সে মাদক মামলায় বহুবার জেল খাটে। কিছুদিন সে গাঢাকা দিয়ে থাকার পর পুনরায় এলাকায় চলে আসে এবং জমি দখল করে।
০৯ জুন, ২০২১।
