স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ বাস্তবায়ন ও অবহিতকরণ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (৩০ অক্টোবর) সকাল ৯টায় জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সম্পদ আপনি অর্জন করতে পারেন। আপনি কারো ক্ষতি করেন তার প্রমাণ আপনি এমনিতেই পাবেন। ব্যবসা হলো সেবা। প্রতিদিন লাভ করতে পারবেন না, লাভ-লস হবেই।
তিনি আরো বলেন, আগামিকাল আমার চাঁদপুরে ৫ মাস পূর্ণ হবে। নামজারির জন্য আপনাকে হোল্ডিং নম্বর জানা থাকতে হবে। আমার ইউনিয়নের, উপজেলার ভূমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা ভূমির জন্য বেশি টাকা নেয় তার দায়-দায়িত্ব আমি নেব না, সেই কর্মকর্তাকেই নিতে হবে। ভোক্তা আমরা সবাই। আমারা সবাই গ্রাহক। জাতিসংঘ বলেছে ভোক্তার ৮টি অধিকার রয়েছে। ২০০৯ সালের যে ভোক্তার আইন। ক্যাব ১০/১২ বছর ধরে কাজ করছে। ক্যাব এ আইনের আওয়তায়। ভোক্তা চলতি বছরে চাঁদপুরে ১১ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছে। তার জরিমানা করার দায়িত্ব না, সতর্ক করাই মূল লক্ষ্য। মূল্য তালিকার প্রতি লক্ষ্য রাখবেন। যখনই পণ্য ক্রয় করবেন তার সাথে রসিদ সংগ্রহ করবেন।
নেজারত ডেপুটি কালেক্টর কাজী মেশকাতুল ইসলামের পরিচালনায় সেমিনারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চাঁদপুরের সহকারী পরিচালক নুর হোসেন ভোক্তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
অন্য বক্তারা বলেন, আমরা ব্যবসায়ী পরে, আগে কিন্তু আমার সবাই ভোক্তা। আমরা কি খাচ্ছি, সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। করোণার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিতে আছে, তারা ঋণগ্রস্ত আছে। স্বচ্ছতার জন্য মূল্যতালিকা প্রয়োজন। এখন ফলের দোকান আর মিষ্টির দোকানে ক্রেতা প্রতারিত হচ্ছে। তারা যে প্যাকেটে পণ্য দেয়া হয় তার ওজন বেশি। তাতে বিক্রেতার কাছে ক্রেতা প্রতারিত হচ্ছে। সরকার কোনো পণ্য মূল্য বৃদ্ধি করে না। বৃদ্ধি করে ব্যবসায়ীরা। ভোক্তা বাজার মনিটরিং অভিযান পরিচালনা করায় চাঁদপুরে বিস্কেট ও রুটির ওজন কিছুটা সহনশীল হয়েছে। আমাদের বিবেককে জাগ্রত করা প্রয়োজন। বিভিন্ন ব্যবসায় সিন্ডিকেট রয়েছে। নকল পণ্য রিক্সা ভ্যানযোগে চাঁদপুর শহরে বিক্রি করে থাকে। নকল পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ বা বন্ধ না করলে ক্রেতা প্রতারণা বন্ধ হবে না। স্বাধীন দেশে আগে ভোক্তা অধিকার আইন ছিল না। আমরা এ সব মানি না বিধায় সরকার বাধ্য হয়ে এ আইন প্রণয়ন করেছে। ভোক্তা অধিকার আইন সাধারণ জনগণ জানে না। তাই তারা প্রতারিত হচ্ছে।
সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ নাছির উদ্দীন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যাক্ষ মোশারফ হোসেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন, রোটা. ডা. পীযুষ কান্তি বড়ুয়া, জেলা ক্যাব দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব সরকার, চেম্বার পরিচালক রোটা. গোপাল সাহা প্রমুখ।
৩১ অক্টোবর, ২০২২।
