শওকত আলী
চাঁদপুর-ঢাকা নৌ-পথ অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এ পথে বিগত কয়েক বছর যাবৎ খুন, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, মলমপাটির সদস্যরা যাত্রীদের অজ্ঞান করে সর্বস্ব লুটে নেওয়া ঘটনা ঘটেই চলছে। এ পথের লঞ্চে বিগত কয়েক বছর আগে যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রধারী আনসার বাহিনী থাকলেও বর্তমান সময়ে এ পথে হাজার-হাজার যাত্রীর চলাচল থাকলেও যাত্রীদের নিরাপত্তায় কোন প্রকার বাহিনী ও আনসার দেয়া হচ্ছে না।
এতে করে প্রতিদিন এ পথে চলাচলকারী অর্ধশত লঞ্চে হাজার-হাজার যাত্রী তাদের নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। লঞ্চ মালিকরা বিলাসবহুল লঞ্চের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যায় করে ব্যবসা করে গেলেও তারা যাত্রী নিরাপত্তার দিকে তাদের মোটেও নজর পড়ছে না। এ নিরাপত্তা না থাকায় লঞ্চে খুনসহ সবপ্রকার অপরাধমূলক কাজ প্রতিনিয়ত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ভান্ডারিয়াগামী যাত্রীবাহী লঞ্চে মলম পার্টির খপ্পরে পড়ে সান্দু শিকদার (৫৫) ও আব্দুল লতিফ গাজী (৭৫) গুরুতর অসুস্থ হয়। এ ঘটনায় চাঁদপুর নৌ-থানা পুলিশ মলম পার্টি চক্রের ২ সদস্যকে আটক করে। অসুস্থ দুই যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে মলম পার্টির ২ সদস্যকে পুলিশ আদালতে পাঠালে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেয়ার নির্দেশ প্রদান করেন।
গত রোববার দিনগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে আহত দুই যাত্রীকে উদ্ধার ও মলম পার্টি চক্রের সদস্য মো. দুলাল হাওলাদার (৪৭) ও মজিবুর রহমান (৫৫) কে আটক করে পুলিশ।
চাঁদপুর নৌ-পুলিশ জানায়, ঢাকা সদরঘাট থেকে এমভি টিপু-১২ নামক লঞ্চটি ছেড়ে আসলে আনুমানিক রাত ৮টার দিকে মুক্তারপুর ব্রিজের কাছে আসলে মলম পার্টির সদস্যরা যাত্রীদের খাবারে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে এবং শরীরের মলম লাগিয়ে দেয়। এতে করে ওই দুই যাত্রী ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আহত যাত্রীদের মধ্যে আব্দুল লতিফ তার শরীরের অবস্থা অবনতি দেখে লঞ্চের সুপারভাইজর আবুল কাশেমকে জানায়। তিনি তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরে আব্দুল লতিফ সুপারভাইজারকে মলম পার্টি চক্রের ওই দুই সদস্যকে আকার ইঙ্গিতে দেখিয়ে দিলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাদের আটক করে রাখেন।
চাঁদপুর নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো আবু তাহের খান জানান, লঞ্চটি চাঁদপুর ঘাটে আসার পর লঞ্চ স্টাফ ও যাত্রীদের সহায়তায় মলম পার্টির দুই সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে কিছু অজ্ঞান করার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রকার ঔষধ, মলম, দু’টি মোবাইল জব্দ করা হয়। অসুস্থ যাত্রীদের চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপালে নিয়ে ভর্তি করে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
১৭ জুলাই, ২০১৯।