বিজয় দিবস সর্বোচ্চ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দিয়ে পালিত হবে
………..জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান
শাহ আলম খান
জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেছেন, মহান বিজয় দিবস সরকারি সব দপ্তরের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে সর্বোচ্চ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দিয়ে পালন করবেন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। আমরা দৈনন্দিন অনেক পরিকল্পনা করি। এর মধ্যে অনেক কাজ বাস্তবায়ন হলেও কিছু কিছু থেকে যায়। আজকে একটি আবেগঘন পরিবেশের বৈঠক। কারণ আমরা যখন বঙ্গবন্ধু, দেশ ও মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে কথা বলি, তখন দেশের প্রতি ভালোবাসা গভীরভাবে সবার হৃদয়ে নাড়া দেয়। আর হৃদয়ে ফুটে উঠার মধ্য দিয়ে একটি জাতির মুক্তি।
গতকাল রোববার সকাল ১০টায় চাঁদপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মহান বিজয় দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা দেখছি প্রধানমন্ত্রী একা দেশকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। জাতির পিতার জন্ম শতবার্ষিকী আমরা চাঁদপুরে যথাযথভাবে পালন করতে চাই। যাতে করে চাঁদপুরের এই আয়োজন সারাদেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম জাকারিয়ার পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি যে কোন অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করতে আমরা সচেষ্ট। এক্ষেত্রে আমরা জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবো। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা পুলিশ রক্তদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। আমরা মহান বিজয় দিবসে রক্তদানের মধ্যে দিয়ে প্রমাণ করতে চাই, আমরা আপনাদের সাথে আছি।
তিনি আরো বলেন, চাঁদপুরের আইন-শৃঙ্খলা ভালো রাখার জন্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা সবসময় কাজ করছেন। গণমাধ্যমের লোকদের কাছে কোন তথ্য থাকলে আমাদের দিবেন। আমরা যে কোন ধরনের নাশকতা ও কিংবা অপরাধমূলক কাজের সংবাদ পেলে ব্যবস্থাগ্রহণ করবো।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ বক্তব্যে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি সোনার দেশ। যার নেতৃত্বে ছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৯ মাসের মুক্তির সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন পতাকা, স্বাধীন দেশও একটি সংবিধান পেয়েছি।
তিনি জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, সরকারি বিভিন্ন দিবসে অনেক সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত থাকেন না। আমি অনুরোধ করবো তারা যেন সরকারি সব গুরুত্বপূর্ণ দিবসের কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকেন।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল বক্তব্যে বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চাঁদপুর জেলা শাখার পক্ষ থেকে অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে ২০টি ঘর উপহার দেয়া হবে। বিজয় দিবস উপলক্ষে চাঁদপুরের যারা আত্মত্যাগ করেছেন এবং যাদের বহু অবদান রয়েছে তাদের তুলে ধরতে হবে। এরই মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ ও দেশকে জানতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, বিজয় দিবসের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর মুক্ত দিবস।
আরো বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এএসএম দেলওয়ার, এনএসআই’র যুগ্ম-পরিচালক আজিজুল হক, জেলা পরিষদের সচিব মো. মিজানুর রহমান, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, প্রেসক্লাব সভাপতি শহীদ পাটওয়ারী, ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবু, সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক কাজী শাহাদাত, বিজয় মেলা কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাড. বদিউজ্জামান কিরণ, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা অজয় কুমার ভৌমিক, কবি ও ছড়াকার ডা. পীযুষ কান্তি বড়ুয়া, সাংবাদিক এমআর ইসলাম বাবু।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা, ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আফরোজ, হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া, মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা হক, চাঁদপুর হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন, বাবুরহাট স্কুল এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোশারফ হোসেনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তর প্রধান ও প্রতিনিধি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মত্যাগকারী শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় জানানো হয়, ১০ জানুয়ারি থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে একশ’ দিনের গণনা শুরু হবে।
