প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান
শাহ্ আলম খান
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ন্ত্রণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাস্ক না পরে প্রকাশ্যে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থান ও সড়ক, মার্কেট ও জনাসমাগমস্থলে চলা ফেরা করার কারণে পৃথক ৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১শ’ ৪৩ জনকে ১৬ হাজার ২শ’ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোভিড-১৯ সংক্রমণের সম্ভাব্য সেকেন্ড ওয়েভ মোকাবেলায় মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খানের নির্দেশনায় ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের তত্ত্বাবধানে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৪টি স্থানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যবিধির উপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
বাবুরহাট বাজার, ওয়ারলেস মোড়, ইলিশ চত্বর ও হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা হলেন- মো. মেহেদী হাসান মানিক, আজিজুন্নাহার শম্পা, ইমরান মাহমুদ ডালিম ও অলিদুজ্জামান।
অভিযান শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান দৈনিক ইলশেপাড়কে জানান, চাঁদপুরে করোনা সংক্রমণ দ্বিতীয় ঢেউ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। কারণ দেশের অন্যান্য জেলার সাথে সাথে চাঁদপুর জেলায়ও গতকাল আমরা ৬ জন করোনা পজেটিভ রোগী পেয়েছি এবং সারাদেশে মৃত্যু হার আবারো বাড়ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের কেবিনেট ডিভিশন এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশে আমরা আমাদের জেলায় সচেতনমূলক কার্যক্রম শুরু করেছি।
তিনি আরো বলেন, আমরা চাঁদপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৪টি স্থানে বাবুরহাট বাজার, ওয়ারলেস মোড়, ইলিশ চত্বর ও হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সামনে মোট ৪টি জায়গায় ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্টের টিম আমরা মাঠে নামিয়ে মাস্কের উপরে আমরা সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছি। জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুর শহরে যেন মাস্ক ছাড়া কোন মানুষ না থাকে। এছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ বাস্তবায়নের জন্যে আজ থেকে চাঁদপুরে আমরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছি। পৃথক পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৩১টি মামলায় ১৪৩ জনকে ১৬ হাজার ২শ’ টকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা চাই সবাই যেন মাস্ক পরিধান করে। যেহেতু এখন পর্যন্ত করোনার কোন ভ্যাকসিন আবিস্কার হয়নি সেহেতু প্রাথমিকভাবে মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাই ভ্যাকসিন হিসেবে কাজ করছে। এই অভিযানের ফলে মানুষের মধ্যে আরো সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সক্ষম হবো।
চাঁদপুর শহরের হাসান আলী স্কুলের মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুন্নাহার শম্পার নেতৃত্বে স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত পেনাল কোড ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা মোতাবেক ৩১টি মামলায় ৩৩ জনকে ৩ হাজার ৪শ’ টাকা জরিমানা করা হয়।
অপরদিকে শহরের ইলিশ চত্বর এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও এনডিসি মো. মেহেদী হাসান মানিকের নেতৃত্বে একই ধারায় ৫৬টি মামলায় ৫৬ জনকে ৫ হাজার ৯শ’ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ইলিশ চত্বর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত মনিটরিং করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান। শহরের ওয়ারলেছ বাজার এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অলিদুজ্জামানের নেতৃত্বে ২৭টি মামলায় ২৭জনকে একই ধারায় ৩ হাজার ৯শ’ টাকা জরিমানা করা হয়। বাবুরহাট এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান মাহমুদ ডালিমের নেতৃত্বে ১৭টি মামলায় ১৭ জনকে ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। সর্বমোট ১৩১টি মামলায় ১শ’ ৪৩ জনকে ১৬ হাজার ২শ’ টাকা আদায় করা হয়।
নেজারত ডেপুটি কারেক্টর (এনডিসি) মো. মেহেদী হাসান মানিক দৈনিক ইল্শেপাড়কে জানান, একই রশিদে একাধিক ব্যক্তির নাম থাকায় ১৩১টি মামলায় ১৪৩জনকে ১৬ হাজার ২শ’ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এ সময় করোনায় ভয়াবহতা তুলে ধরে পথচারী, গাড়িচালক, যাত্রী ও সর্বসাধারণকে সতর্ক করতে প্রচারণা চালানো হয়। ড্রাইভারকে মাস্ক ছাড়া রাস্তায় বের না হওয়া এবং মাস্কবিহীন যাত্রীদের গাড়িতে না উঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়।
এসময় পুলিশের সদস্য, ব্যাটালিয়ন আনসারের সদস্য, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের পেশকারবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।
১১ নভেম্বর, ২০২০।
