খাদ্য সংকটে প্রাণিরা চলে আসছে লোকালয়ে
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে একদল কিশোর ও যুবক মাটি খুড়ে গর্ত থেকে বেড় করে একটি মেছো বাঘের সাবককে ধরতে সক্ষম হয়েছে। চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের রামদাসদী গ্রামের কৈয়ারবিল বাজার এলাকার একটি খেলার মাঠের পাশ থেকে এ মেছোবাঘটি আটক করে এলাকার কিশোর ও যুবকরা।
তবে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মেঘনার চরাঞ্চলের চরে বড় বড় জঙ্গলে খাদ্য সংকটের ফলে প্রানীরা চলে আসছে লোকালয়ে।
এ এলাকায় এর আগেও কয়েকবার এ ধরনের মেছোবাঘ ধরা হয়েছে। পরে চাঁদপুর বন বিভাগে হস্তান্তর করা হয়। এলাকার প্রবীণরা জানান, আমাদের এলাকার পার্শ্ববর্তী স্থান হচ্ছে চর এলাকা। এখানে অনেক বড় বড় জঙ্গল আছে। সেখানে দিনে যেতে ভয় হয়। এসব জঙ্গলে বিভিন্ন প্রাণির বসবাস। শুনেছি এখানে অনেক বড়-বড় বিষধর সাপও রয়েছে। সেখানে এ ধরনের মেছোবাঘও রয়েছে। সে চরে খাবার সংকটের কারণে এসব মেছো বাঘসহ বিভিন্ন প্রাণি নদী পাড় হয়ে বিভিন্ন গ্রাম এলাকায় চলে আসছে বলে আমাদের ধারণা।
গত শুক্রবার বিকেলে মেছোবাঘের সাবককে চাঁদপুর বন বিভাগের সহায়তায় উদ্ধার করে ঢাকা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
খবর নিয়ে জানা যায়, বৃহস্পতিবার শেষ বিকেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের একদল কিশোর মাঠে খেলা করার সময় হঠাৎ দেখতে পায় বিড়াল আকৃতির একটি মেছোবাঘ খেলার মাঠের পাশে উঁচু একটি স্থানে বসে চোখ পাকিয়ে চেয়ে আছে।
কিশোররা এ মেছো বাঘটিকে ধরতে গেলে সেটি পার্শ্ববর্তী একটি মাটির গর্তে ডুকে পড়ে। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কিশোদের সাথে কিছু যুবক একত্রিত হয়ে একই দিন রাতে মাটি খুড়ে একটি গর্ত থেকে মেছোবাঘের সাবককে ধরে রাস্তার উপরে নিয়ে আসে।
এলাকাবাসী জানান, মেছো বাঘটি তখন কোন নড়াচড়া করতে পারছিল না। তখন সবার ধারণা হয়, মেছো বাঘটি অনাহারে থেকে একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। তা’ নাহলে এটিকে এত সহজে ধরা সম্ভব হতো। উপস্থিত সব কিশোর ও যুবক নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ করে স্থানীয় বাজার থেকে মুরগী কিনে এনে মেছোবাঘের সাবককে খেতে দেয়।
সে মুরগীর খেয়ে অনেকটা শক্তি অর্জন করে, নাড়াচাড়া দিতে থাকে। পরে একটি খাচার মেছো বাঘটিকে বন্দি করে রাখা হলে শত-শত উৎসুক এলাকাবাসী এটিকে দেখতে ছুটে আসে লক্ষ্মীপুর বাজারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সফিকুর রহমান সফিক গাজী জানান, এলাকার একদল কিশোর মেছো বাঘটিকে দেখে প্রথমে বন বিড়াল ভেবেছিল। তারা এটিকে নিয়ে হৈ-হুল্লোর করছিল। তখন তাদের হৈ-হুল্লোড় শুনে সেখানে গিয়ে দেখি একটি মেছো বাঘ গর্তে লুকিয়ে আছে।
পরে কিশোরদের সাথে কিছু যুবকসহ তাদের সঙ্গে নিয়ে রাত ৮টায় মেছোটি আটক করে বাঘটি খাঁচায় বন্দি করি। মেছো বাঘটি খুব দুর্বল ছিল, ঠিকমতো নড়াচড়া করতে পারছিল না। পরে দুটি মুরগি কিনে খাওয়ানোর পর নড়াচড়া করতে শুরু করে। পরবর্তীতে চাঁদপুর বন বিভাগকে খবর দেওয়া হয়।
চাঁদপুর বন বিভাগের দায়িত্বে থাকা মো. সফিকুল ইসলাম জানান, এর আগেও এ এলাকা থেকে কয়েকটি এই ইউনিয়ন বিভিন্ন স্থান থেকে স্থানীয়রা মেছো বাঘ আটক করে বন বিভাগে দিয়েছে। এ এলাকার কাছে নদী ও খাল থাকায় চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থান থেকে খাবারের সন্ধানে মেছো বাঘের সাবকরা এখানে চলে আসে খাবার সন্ধানে।
তিনি বলেন, এ মেছো বাঘটি দীর্ঘদিন অনাহারে থেকে অনেক নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। এটিকে পশু চিকিৎসকের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হবে।
২৭ জুন, ২০২১।
