স্টাফ রিপোর্টার
ডিজিটাল প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে অধিকাংশ কাজে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক লেন-দেন প্রান্তিক পর্যায়ে এখন মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে হচ্ছে। তারাই ধারবাহিকতায় চাঁদপুর জেলা সমাজসেবার আওতায় ডিজিটাল সেবা পাচ্ছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ভাতাভোগী অসহায় ও দুঃস্থ মানুষ।
দেশের এই মহামারী (কোভিড-১৯) এর কারনে লকডাউনেও চাঁদপুর জেলার মানুষের হাতে ভাতার টাকা পৌঁছে দিচ্ছে সমাজসেবা অধিদফতর।
ভাতার টাকা তুলতে এখন আর লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে হবে না কাউকে। এসব টাকা চলে যাচ্ছে সুবিধাভোগীর নিজ নিজ মোবাইলে। আর এই কাজটি করছেন ‘নগদ’ ও ব্যাংক এশিয়ার মাধ্যমে।
সমাজসেবা অধিদফতরের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়নে Govt. to person (G2P) পদ্ধতিতে ভাতা বিতরণ করার সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার।
সেই প্রেক্ষিতে চাঁদপুর জেলার ৪টি উপজেলা (কচুয়া, শাহরাস্তি, মতলব উত্তর এবং মতলব দক্ষিণ) ও চাঁদপুর পৌরসভায় জিটুপি পদ্ধতিতে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার ‘নগদ’ ও ৪টি উপজেলায় (সদর, ফরিদগঞ্জ, হাইমচর ও হাজীগঞ্জ) এজেন্ট ব্যাংকিং ‘ব্যাংক এশিয়া’র মাধ্যমে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯২১ জন বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে ১২৪ কোটি ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ভাতাভোগী অসহায় মানুষ পাচ্ছেন এই সুবিধা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৪ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে সরাসরি ভাতাভোগীর কাছে প্রেরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এত দিন সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচির আওতায় ভাতার টাকা প্রচলিত ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করা হতো। ফলে ভাতাগ্রহীতাদের ব্যাংকে নিজ খরচে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ভাতার টাকা গ্রহণ করতে হতো। এতে ভাতাভোগীরা চরম ভোগান্তি পোহাতেন এবং আর্থিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হতেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বর্তমানে এজেন্ট ব্যাংকিং ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ভাতার অর্থ দেওয়া হচ্ছে। আগামি ৩০ জুনের মধ্যেই সব ভাতাভোগীর টাকা হাতের মুঠোয় পর্যায়ক্রমে পৌঁছে যাবে।
এ কাজটি সম্পাদনের জন্য সমাজসেবা অধিদফতরের ভাতা ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম MIS এ প্রথমে ভাতাভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্র/অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ভেলিডেশনের মাধ্যমে ডাটা এন্ট্রি করা হয়েছে। এরপর ডাটাসমূহ যাচাইবাছাই, ভেলিডেশন, মোবাইলে বা এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাব খোলা এবং সবশেষে পে-রোল প্রেরণ করা হয়েছে। এরপর সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক ই-বিল দাখিল করা হয়েছে। অর্থবিভাগের আইবাস প্লাস প্লাস এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের EFT (Electronic Fund Transfer) এর মাধ্যমে ভাতাভোগীর একাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে ভাতার টাকা।
কাজটি সম্পাদনে জনপ্রতিনিধি, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইউডিসি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আমাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন।
তবে বয়স্ক ভাতার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী যাঁদের বয়স (পুরুষ ৬৫, নারী ৬২) হয়নি অথবা যাঁরা বয়স টেম্পারিং করে এতদিন ভাতা পেয়েছেন তাঁরা সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ পড়ে গেছেন।
আবার একই পরিবারের সদস্য বা নিকটাত্মীয়ের মধ্যে একই মোবাইল নম্বর যাঁরা একাধিক ভাতাভোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন তাঁদের মধ্যে একজন ছাড়া অপর ভাতাভোগীর ভাতা উক্ত মোবাইল নম্বরে যাবে না। সেক্ষেত্রে তাঁকে স্বশরীরে ভাতার বইসহ নিজ নামে নিবন্ধনকৃত মোবাইল সীম নিয়ে অনতিবিলম্বে সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। তখন তিনিও নিজ বাড়ীতে বসে মোবাইলে পেয়ে যাবেন ভাতার টাকা।
চাঁদপুর জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (উপ-পরিচালক) রজত শুভ্র সরকারের তথ্যমতে জেলার ৮টি উপজেলার ভাতাভোগীদের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলোঃ- কচুয়া উপজেলায় মোট ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩২,৯৫৭ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন ১৮,১৮৩, বিধবা ভাতাভোগী ৮,৩৮০, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ৬,২৪২ ও প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছেন ১৫২ জন।
মতলব দক্ষিণ উপজেলার মোট ভাতাভোগী ১৭,৮৫৬ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতাভোগী ১০,৫০০ জন, বিধবা ভাতাভোগী ৫,১৬৫ জন, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ২,১১৮ জন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছেন ৭৩ জন।
মতলব উত্তর উপজেলায় মোট ভাতাভোগী ২৮,৬০৪ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতাভোগী ১৭,২৫৪ জন, বিধবা ভাতাভোগী ৭,৪৫৬ জন, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ৩,৮০৬ জন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি ভাত পাচ্ছেন ৮৮ জন।
শাহরাস্তি উপজেলায় মোট ভাতাভোগী ২১৩৭৫ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতাভোগী ১১,৪৪৯ জন, বিধবা ভাতাভোগী ৫,৭৩৮ জন, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ৩,৯৮৭ জন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছেন ২০১ জন।
চাঁদপুর পৌরসভায় মোট ভাতাভোগী ৫,৩৭৭ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতাভোগী ৩,১১৫ জন, বিধবা ভাতাভোগী ৮২৯ জন, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ১,৩৮৫ জন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছেন ৪৮ জন।
সদর উপজেলায় মোট ভাতাভোগী ১৮,৯৪৩ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতাভোগী ১১,৭২৪ জন, বিধবা ভাতাভোগী ৩,১৭৩ জন, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ৩,৯৪৪ জন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছেন ১০২ জন।
ফরিদগঞ্জ উপজেলায় মোট ভাতাভোগী ২৫,০৫৬ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতাভোগী ১৫,৯৩৩ জন, বিধবা ভাতাভোগী ৪,৩৮০ জন, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ৫,১০৩ জন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছেন ১৮০ জন।
হাইমচর উপজেলায় মোট ভাতাভোগী ১১,২৭০ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতাভোগী ৬,৬৯০ জন, বিধবা ভাতাভোগী ৩,১৬০ জন, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ১,৩৭২ জন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছেন ৪৮ জন।
হাজীগঞ্জ উপজেলায় মোট ভাতাভোগী ২৮,৪৮৩ জন। এর মধ্যে বয়স্ক ভাতাভোগী ১৫,৯৮৮ জন, বিধবা ভাতাভোগী ৮,০৯৬ জন, প্রতিবন্ধী ভাতাভোগী ৪,২৭২ জন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি পাচ্ছেন ১২৭ জন।
০৩ জুন, ২০২১।
