এস এম সোহেল
স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস চাঁদপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, কেক কাটা এবং মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে দিবসটি পালিত হয়।
গত বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) সকাল ৭টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজে স্থাপিত জাতির পিতার প্রতিকৃতি ম্যুরালে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, জেলা পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, নৌ-পুলিশের পক্ষে পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান, চাঁদপুর পিবিআই, চাঁদপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট।
এরপর পর্যায়ক্রমে চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রশাসন, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ, চাঁদপুর সিভিল সার্জন, চাঁদপুর ২৫০ শয্যা সরকারি জেনারেল হাসপাতাল, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র মো. জিল্লর রহমানের নেতৃত্বে পৌরসভার কর্মকর্তারা, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলনের নেতৃত্বে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ, জেলা আনসার ও ভিডিপি, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট চাঁদপুর নদী কেন্দ্র, চাঁদপুর জেলা মৎস্য অফিস, চাঁদপুর পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগ, চাঁদপুর গণপূর্ত বিভাগ, চাঁদপুর জেলা কারাগার, চাঁদপুর জেলা মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর, চাঁদপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএ, চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিস, চাঁদপুর সড়ক বিভাগ, পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজ, চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি, চাঁদপুর বিআরটিএ, চাঁদপুর বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ, চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এছাড়া সকাল ৮টায় চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য প্রদান করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালের নেতৃত্বে নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া কচুয়া, মতলব উত্তর, মতলব দক্ষিণ, শাহরাস্তি, হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ ও হাইমচর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঘোষিত কর্মসূচি পালন করেন।
এরপর সকাল ৯টায় চাঁদপুর স্টেডিয়ামে মুক্তির উৎসব ও সুবর্ণজয়ন্তী মেলা উদ্বোধন করেন করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশসহ অতিথিরা। এরপর অতিথিরা মেলার স্টল পরিদর্শন করেন। সকাল ১০টায় চাঁদপুর স্টেডিয়াম থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে ৫০টি জাতীয় পতাকা নিয়ে বের হয় সুবর্ণজয়ন্তী র্যালি।
দুপুরে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা, কেক কাটা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পুরস্কার বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন এবং দেশকে পুনর্গঠন করতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের কারণে আমাতের দ্রব্যমূল্য কিছুটা উর্ধ্বগতি হয়েছে। এরজন্যে প্রধানমন্ত্রী দরিদ্র কোটি মানুষের জন্য কমমূল্যে টিসিবি’র দ্রব্যসামগ্রীর ব্যবস্থা করেছেন।
তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসলে দেশকেও ভালোবাসতে হবে। আর তা কাজের মাধ্যমে আপনাকে তা বোঝাতে হবে। আপনারা সচেতন থাকলে আমাদের কাজের অনেক সুবিধা হয়। যেখানে অন্যায়-অপরাধ দেখবেন তাৎক্ষনিক প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। বঙ্গবন্ধুর চেতনা শুধুমাত্র মুখে নয়, বাস্তবেও পরিণত করতে হবে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছি এবং পালনও করছি। এজন্যে আমরা সবার সহযোগিতা পেয়েছি। বিশেষ করে বীর সন্তানরা আমাদের সাথে ছিলেন। এজন্য আমি গর্ববোধ করছি।
দৈনিক সুদীপ্ত চাঁদপুরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাংবাদিক এমআর ইসলাম বাবুর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, সিভিল সার্জন ডা. মোহম্মদ সাহাদাৎ হোসেন, এনএসআই’র উপ-পরিচালক শাহ আরমান আহমেদ, প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি তপন সরকার ও বিশিষ্ট ছড়াকার ডা. পিযুষ কান্তি বড়ুয়া প্রমুখ।
এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিলো সরকারি-বেসরকারি ভবনে আলোকসজ্জা, সব সরকারি-বেসরকারি, সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও জেলা-উপজেলায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ১০টায় স্ব-স্ব বিভাগীয় ও প্রতিষ্ঠানসসূহে আলোচনা সভা, কেক কাটা, রচনা, কবিতা, চিত্রাংকন, কুইজ প্রতিযোগিতা, দেয়ালিকা প্রদর্শনী ও মিষ্টান্ন বিতরণ। মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে মিস্টান্ন ও খাবার বিতরণ করেন। দুপুরে হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, এতিমখানা, সরকারি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্কুলে মিষ্টান্ন বিতরণ ও উন্নতমানের খাবার পরিবেশন। দিনব্যাপী চাঁদপুর লঞ্চঘাট, রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণস্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর নির্মিত তথ্য চিত্র ও ভিডিও ক্লিপস প্রচার করা হয়। জেলার সব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্ট্রারে ২০% হারে ছাড়ে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান। চাঁদপুর ও মতলব সেতু টোল ফ্রি সুবিধা প্রদান। বিকেল ৩টায় জেলা শিক্ষা অফিসের আয়োজনে বই পড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ মার্চের পূর্বাহ্নে ভূমিষ্ঠ হওয়া নবজাতকের জন্যে বিশেষ শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়।
অপরদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্ম বার্ষিকীতে উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো : সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় প্রাঙ্গণে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালসহ নেতাকর্মীরা। এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তর্বক অর্পণ করে জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগসহ অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও কেক কাটা হয়।
২০ মার্চ, ২০২২।
