চাঁদপুরে যুবক হত্যায় আটক ৮

লাশ নিয়ে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

এস এম সোহেল
ঢাকা সদরঘাট থেকে লঞ্চে চাঁদপুরে আসার সময় আসনে বসাকে কেন্দ্র করে সুমন গাজী (৩৩) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে আটক করেছে নৌ-পুলিশ। বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
হত্যার শিকার সুমন গাজী চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী গ্রামের স্বপন গাজীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফার্নিচারের রং মিস্ত্রি। বিবাহিত জীবনে তার কোন সন্তান নেই।
আটকরা হলেন- মতলব উত্তর উপজেলার ছেঙ্গারচর পৌরসভা এলাকার বাসিন্দা একেএম সাহাবুদ্দিনের ছেলে বাবু আহমেদ ওরফে সুমন (২২), চাঁদপুর শহরের উত্তর শ্রীরামদীর হাসান আলীর ছেলে সবুজ প্রধানিয়া (২৩), একই এলাকার খোকন মোল্লার ছেলে সাজ্জাদ মোল্লা (২৩), শহরের ট্রাক রোড এলাকার নাছির উদ্দিন মাঝির ছেলে সাজ্জাদ হোসেন আপন (২২) ও রহমতপুর আবাসিক এলাকার বিল্লাল খানের ছেলে সবুজ খান (২১), শহরের দক্ষিণ গুণরাজদীর আমির হোসেন বেপারীর ছেলে হাসান মাহমুদ সোহাগ (২১), একই এলাকার মধ্য ইচলী গ্রামের গাজী বাড়ির খালেক গাজীর ছেলে রাকিব হোসেন গাজী (২২) ও একই গ্রামের দেলোয়ার হোসেন বেপারীর ছেলে ইয়ামিন (২২)।
বিকেলে শহরের বিআইডব্লিউটিএ’র মোড়ে চাঁদপুর অঞ্চল নৌ-পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস বিফ্রিংয়ে আটকের বিষয়ে জানান পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামান। এসময় তিনি বলেন, এ ঘটনায় সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে বিকেলে হত্যা মামলা করা হয়েছে। পুলিশ স্থানীয় ব্যক্তিদের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে পাঁচজনকে এবং লঞ্চের সিসি ক্যামেরা দেখে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত সুমনের বড় ভাই শরীফ গাজী বলেন, আমার ভাই রাতে লঞ্চে ঢাকা থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। লঞ্চের মধ্যে বাবু নামে যাত্রীর সাথে লঞ্চের আসনে বসা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। লঞ্চে থাকা অবস্থায় বাবু তার সহযোগীদের ফোন করে ঘাটে আনে। আমার ভাই লঞ্চ থেকে নামলে তারা ৭/৮ জন মিলে দেশীয় অস্ত্র ও ছুরি দিয়ে কুপিয়ে আমার ভাইকে গুরুতর আহত করে।
এদিকে বিকেল পাঁচটার দিকে হাসপাতাল থেকে সুমনের লাশ হস্তান্তর করা হয়। পরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে লাশ নিয়ে পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশ থেকে সুমনের হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান।
চাঁদপুর নৌ থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে ঢাকার সদরঘাট থেকে এমভি সোনার তরী-৩ লঞ্চে চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হন সুমন। লঞ্চে তাঁর পাশের আসনে ছিলেন মতলব উত্তরের ছেঙ্গারচর এলাকার বাসিন্দা বাবু আহমেদ। আসনে বসা নিয়ে সুমনের সঙ্গে বাবুর কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সুমনকে হুমকি-ধমকি দেন বাবু এবং লঞ্চটি চাঁদপুরের কাছাকাছি পৌঁছলে বাবু মুঠোফোনে কল করে তার বন্ধুদের লঞ্চঘাটে আসতে বলে। রাত সোয়া ১১টার দিকে লঞ্চটি চাঁদপুর ঘাটে পৌঁছালে বাবু ও তার বন্ধুরা সুমনের ওপর চড়াও হন। তারা সুমনকে ব্যাপক মারধর ও ছুরিকাঘাত করে। মারামারির ঘটনা শুনে ঘটনাস্থল থেকে সুমন গাজীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানে সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সোয়া ৫টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সকালে আটক ৫ জনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি ৩ জনকে আটক করা হয়।
তিনি আরো বলেন, সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার বিকেলে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত বাবু আহমেদসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে হাতেনাতে পাঁচজনকে এবং লঞ্চের সিসি ক্যামেরা দেখে বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

১৫ ডিসেম্বর, ২০২২।