চাঁদপুরে লকডাউন বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের ব্যাপক তৎপরতা

শাহ্ আলম খান
শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি’র নির্দেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড -১৯) সংক্রমণ প্রতিরোধে এবং লকডাউন বাস্তবায়নে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যাপক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এসময় পৌরসভার ৬, ১১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যে একটি এলাকা করোনা ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় লকডাইনসহ ৫ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর বাড়িও লকডাউন এবং তাদের মৌসুমী ফল উপহার দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চাঁদপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাজেদুর রহমান খানের ব্যবস্থাপনায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের নেতৃত্বে এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান মাহমুদ ডালিমের উপস্থিতিতে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, গতকাল জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির ভার্চুয়াল মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সে মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয় যে, জেলায় যেসব বাড়ি বা বহুতল ভবনে করোনা রোগী শনাক্ত হবে, শুধু ওই বাড়ি বা ওই ভবনটি লকডাউন করে দেয়া হবে। আর যেসব এলাকাতে একাধিক করানো রোগী শনাক্ত হবে ওই এলাকা লকডাউন করে দেয়া হবে। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করবে জেলা প্রশাসন।
গতকালের মিটিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি’র নির্দেশে ও জেলা কমিটির সিদ্ধান্তে আজ চাঁদপুর পৌরসভার ১১নং ওয়ার্ড দক্ষিণ গুণরাজদী বাগাদী রোডস্থ আ. রশিদ পাটওয়ারী সড়ক ও মরহুম ওয়ারিশ পাটওয়ারী সড়ক এবং মরহুম লুৎফুর রহমান পাটওয়ারীর বাড়ির সামনের রাস্তাসহ সম্পূর্ণ এলাকা লকডাউন ঘোষণা করে লাল নিশানা ও লকডাউনের স্টিকার লাগানো হয়েছে। দক্ষিণ গুণরাজদী আ. রশিদ পাটওয়ারী সড়কে ৪ থেকে ৫টি ভবনে করোনা পজেটিভ রোগী সনাক্ত হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই ২ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি আরো জানান, একই দিনে চাঁদপুর পৌরসভার ১২নং ওয়ার্ডের মাদ্রাসার রোডের মুন্সিবাড়িতে করোনা রোগী থাকার কারণে এই রোগীর পরিবার ও আশেপাশের চারটি পরিবারসহ লাল নিশানা ও স্টিকার লাগিয়ে লকডাউন করা হয়েছে। এছাড়া চাঁদপুর পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ডের স্ট্র্যান্ড রোডে করোনা রোগীর বিল্ডিং লাল নিশানা ও স্টিকার লাগিয়ে লকডাউন করে তার পরিবারকে সতর্ক করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, এসব ওয়ার্ডের করোনা পজিটিভ রোগীদের স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, সামাজিক সমস্যা ও খাদ্য সমস্যা আছে কি-না ইত্যাদি বিষয়ে খোঁজ-খবর নেয়া হয়। একই সাথে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেকের জন্য সহমর্মিতা ও শুভ কামনার নিদর্শন হিসেবে উপহার (বিভিন্ন পদের মৌসুমী ফল) পৌঁছে দেয়া হয়।
অপরদিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান মাহমুদ ডালিম জানান, শহরের বিভিন্ন যানবাহনের চালক, হেলপার, যাত্রী ও পথচারীদের মুখে মাস্ক নেই এরকম ৪ শতাধিক ব্যক্তিকে রিইউজেবল মাস্ক বিতরণ করা হয়। এছাড়া একজন করোনা আক্রান্ত রোগী সরকারের নির্দেশনা অমান্য করায় তাকে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারা মোতাবেক ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে তার দোকান লকডাউন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, শহরের পৌর মার্কেটের দোতালায় একজন সেলুন কর্মীকে নিরাপত্তা সামগ্রী ছাড়া এবং প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে সেলুন খোলা রাখার অপরাধে ১ হাজার টাকা ও মাস্ক ব্যবহার না করার কারনে বিভিন্ন জনকে আরো ২ হাজার ২শ’ টাকা জরিমানা করা হয়।
গত ৯ এপ্রিল চাঁদপুর জেলা লকডাউনের পর থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ চাঁদপুরে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছানো হয় অসহায়দের বাড়িতে।
এছাড়া করোনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা হোম কোয়ারেন্টাইন ও স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করায় শত-শত মানুষকে জরিমানা করে সতর্ক করেন। এসব কার্যক্রম পরিচালনা করার সময় সহযোগিতা করেন বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, আনসার, জেলা প্রশাসনের ভলান্টিয়ার ও সাংবাদিকরা।

১৫ জুন, ২০২০।