স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর জেলা সদরে ‘কঠোর লকডাউন’ বাস্তবায়নে কঠোর ভূমিকা পালন করছে সদর উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনী। তবে কিছুটা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন একান্ত প্রয়োজনে বের হওয়া যাত্রীরা। লকডাউনের কারণে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় পায়ে হেটেঁই গন্তব্যে যেতে হচ্ছে তাদের। বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) সকাল থেকে চাঁদপুর সদর উপজেলায় কঠোর বিধি-নিষেধ (লকডাউন) পালনে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অঞ্জনা খান মজলিশ নির্দেশনায় সমন্বিতভাবে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা শাহনাজ স্মৃতি ও কুমিল্লা থেকে আগত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলা পরিষদ এলাকার চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে পণ্যবাহী ও জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন ছাড়া বাকি যানবাহন (অটোবাইক ও সিএনজি) গুলো ফিরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। ফলে পায়ে হেটে অনেকেই শহরের দিকে রওনা হয়েছেন।
এদিকে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিপণী বিতান। এছাড়া রাস্তায় চলাচল করতে দেখা যায়নি বড় ধরনের কোন গণপরিবহন। তবে কিছু কিছু সিএনজি, অটোরিক্সা ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে দেখা গেছে।
বাবুরহাট এলাকার বাসিন্দা রাজ্জাক বলেন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল (সদর হাসপাতাল) হাসপাতালে মা চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাই শহরে যাওয়ার জন্য বাবুরহাট স্কুল এন্ড কলেজের সামনে দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। সরাসরি গন্তব্যস্থলে পৌঁছানোর কোন পরিবহন নাই। তাই অর্ধেক পথ পায়ে হেঁটে চলে আসছি।
এদিকে গত দুই দিনে বিভিন্ন যানবাহনকে আর্থিক জরিমানাসহ প্রায় দুই শতাধিক পরিবহনকে জব্দ করেছে ট্রাফিক পুলিশ।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল রশিদ বলেন, লকডাউনের কারণে চাঁদপুরে বন্ধ রয়েছে সব দোকানপাট ও শপিং মল। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে প্রয়োজনীয় পরিবহন ছাড়া বাকি সব পরিবহনকে ঘুরিয়ে দেয়া হচ্ছে। পুলিশ সরকার ঘোষিত লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা শাহনাজ স্মৃতি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধ কঠোরভাবে (লকডাউন) কার্যকর করতে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ স্যারের নির্দেশে সদর উপজেলা প্রশাসন তৎপর। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি ও ব্যাটেলিয়ান আনসার সদস্যসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জনগনকে সচেতন করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, সরকার ঘোষিত বিধি-নিষেধ (লকডাউন) অমান্য করে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে রাস্তায় ঘুরাঘুরি ও মাস্ক না পরার অপরাধে ৮ মামলায় ৮ জন ব্যক্তি কে ২ হাজার ৮শ’ জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই সাথে সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হচ্ছে।
০৪ জুলাই, ২০২১।
