চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন গ্রহণে দিনভর বিড়ম্বনা

আল-আমিন একাডেমি কর্তৃপক্ষের গাফলতি

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমি স্কুল এণ্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফলতিতে গতকাল দিনভর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভ্যাকসিন (টিকা) গ্রহণে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে দীর্ঘ লাইন ধরে ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে গিয়ে উপেক্ষিত হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি। অনেক শিক্ষার্থীকেই মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এমনকি ছিলো না কোন সামাজিক দূরত্ব। এতে করে প্রতিষ্ঠানটির ৪টি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের একত্রে উপস্থিতিই এখন অভিভাবক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, চাঁদপুর জেলায় গত ১৬ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন প্রদানের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। এ জেলার চাঁদপুর সদর ও হাজীগঞ্জ উপজেলার দুইটি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য ভ্যানু নির্ধারণ করা হয়। ভ্যানু দুইটি হলো চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমি ও হাজীগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল এণ্ড কলেজ।
বুধবার (২২ ডিসেম্বর) এই দু’টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ১শ’ ২০ জন শিক্ষার্থী ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে। তার মাঝে আল-আমিন একাডেমি কেন্দ্রে ১ হাজার ৩শ’ ২০ জন ও হাজীগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল এণ্ড কলেজ কেন্দ্র ১ হাজার ৮শ’ জন শিক্ষার্থী।
চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমি স্কুল এণ্ড কলেজ কেন্দ্রে গতকাল কেবলমাত্র তাদের শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের নোটিশ প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৪টি ক্যম্পাসের হাজার-হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য যে পরিকল্পনা ও তদারকির প্রয়োজন ছিলো, তা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। এতে করে শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা জানায়, আল-আমিন একাডেমি কর্তৃপক্ষ তাদের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য নোটিশ প্রদান করে। নোটিশে তারা উল্লেখ করে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত বৈশ্বিক অতিমারি নভেল করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ এর টিকা আগামি ২৩ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় প্রধান ক্যাম্পাসের টিকা কেন্দ্রে প্রদান করা হবে। যথাসময়ে উক্ত বয়সের শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থেকে টিকা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া গেল।’
ঐ নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীরা সাথে করে টিকা কার্ড ২ কপি ও জন্ম নিবন্ধনের সনদ ১ কপি সঙ্গে আনতে হবে। এই নোটিশের আলোকে প্রতিষ্ঠানটি কম্পিউটার কম্পোজকৃত টিকা কার্ডের কপি কোথায় হতে সংগ্রহ করতে হবে তা উল্লেখ করেনি। যার কারণে এমন ভোগান্তির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। আর এমন ভোগান্তির দায় কোনভাবে প্রতিষ্ঠানটি এড়াতে পারে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদেরও।
তারা আরো জানান, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যখন ভ্যাকসিন গ্রহণ করছে তখন স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত টিকা কার্ড রেজিস্ট্রেশন ও জন্ম নিবন্ধনের কপি সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীরা সব ধরনের তথ্যদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরবরাহ করেছিলো। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোও শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে নিজ উদ্যোগে তথ্য সরবরাহ করে নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে নিয়ে এসে ক্লাশওয়ারি সিরিয়ালের ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দিয়েছে।
কিন্তু আল-আমিন একাডেমি পুরো প্রক্রিয়াটি শিক্ষার্থীদের উপর ছেড়ে দেয়াসহ কোন ধরনের সহযোগিতা না করায় এমন ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। এতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এখন করোনা আক্রান্তের শঙ্কায় রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির এমন গাফলতির বিষয়ে অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) সাহাদাত হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরে আসতে বলা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কোন কথা শুনছে না।
উল্লেখ্য, ভ্যাকসিন প্রদানে সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধির ব্যবস্থা না করায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ দায় এড়াতে পারে না বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।
২৩ ডিসেম্বর, ২০২১।আল-আমিন একাডেমি কর্তৃপক্ষের গাফলতি
চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন গ্রহণে দিনভর বিড়ম্বনা
ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমি স্কুল এণ্ড কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফলতিতে গতকাল দিনভর হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভ্যাকসিন (টিকা) গ্রহণে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে দীর্ঘ লাইন ধরে ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে গিয়ে উপেক্ষিত হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি। অনেক শিক্ষার্থীকেই মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। এমনকি ছিলো না কোন সামাজিক দূরত্ব। এতে করে প্রতিষ্ঠানটির ৪টি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের একত্রে উপস্থিতিই এখন অভিভাবক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, চাঁদপুর জেলায় গত ১৬ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন প্রদানের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি। এ জেলার চাঁদপুর সদর ও হাজীগঞ্জ উপজেলার দুইটি কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন প্রদানের জন্য ভ্যানু নির্ধারণ করা হয়। ভ্যানু দুইটি হলো চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমি ও হাজীগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল এণ্ড কলেজ।
বুধবার (২২ ডিসেম্বর) এই দু’টি কেন্দ্রে ৩ হাজার ১শ’ ২০ জন শিক্ষার্থী ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে। তার মাঝে আল-আমিন একাডেমি কেন্দ্রে ১ হাজার ৩শ’ ২০ জন ও হাজীগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল এণ্ড কলেজ কেন্দ্র ১ হাজার ৮শ’ জন শিক্ষার্থী।
চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমি স্কুল এণ্ড কলেজ কেন্দ্রে গতকাল কেবলমাত্র তাদের শিক্ষার্থীদের ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের নোটিশ প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৪টি ক্যম্পাসের হাজার-হাজার শিক্ষার্থীদের জন্য যে পরিকল্পনা ও তদারকির প্রয়োজন ছিলো, তা করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি। এতে করে শিক্ষার্থীদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করছে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা জানায়, আল-আমিন একাডেমি কর্তৃপক্ষ তাদের ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য নোটিশ প্রদান করে। নোটিশে তারা উল্লেখ করে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত বৈশ্বিক অতিমারি নভেল করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ এর টিকা আগামি ২৩ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় প্রধান ক্যাম্পাসের টিকা কেন্দ্রে প্রদান করা হবে। যথাসময়ে উক্ত বয়সের শিক্ষার্থীদের উপস্থিত থেকে টিকা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া গেল।’
ঐ নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয়, শিক্ষার্থীরা সাথে করে টিকা কার্ড ২ কপি ও জন্ম নিবন্ধনের সনদ ১ কপি সঙ্গে আনতে হবে। এই নোটিশের আলোকে প্রতিষ্ঠানটি কম্পিউটার কম্পোজকৃত টিকা কার্ডের কপি কোথায় হতে সংগ্রহ করতে হবে তা উল্লেখ করেনি। যার কারণে এমন ভোগান্তির সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ অভিভাবকদের। আর এমন ভোগান্তির দায় কোনভাবে প্রতিষ্ঠানটি এড়াতে পারে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদেরও।
তারা আরো জানান, উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা যখন ভ্যাকসিন গ্রহণ করছে তখন স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত টিকা কার্ড রেজিস্ট্রেশন ও জন্ম নিবন্ধনের কপি সংগ্রহ করেছে। প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীরা সব ধরনের তথ্যদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরবরাহ করেছিলো। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোও শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে নিজ উদ্যোগে তথ্য সরবরাহ করে নির্ধারিত দিনে শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে নিয়ে এসে ক্লাশওয়ারি সিরিয়ালের ভিত্তিতে ভ্যাকসিন দিয়েছে।
কিন্তু আল-আমিন একাডেমি পুরো প্রক্রিয়াটি শিক্ষার্থীদের উপর ছেড়ে দেয়াসহ কোন ধরনের সহযোগিতা না করায় এমন ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। এতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এখন করোনা আক্রান্তের শঙ্কায় রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির এমন গাফলতির বিষয়ে অধ্যক্ষ কর্নেল (অব.) সাহাদাত হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের মাস্ক পরে আসতে বলা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কোন কথা শুনছে না।
উল্লেখ্য, ভ্যাকসিন প্রদানে সামাজিক দূরত্ব, স্বাস্থ্যবিধির ব্যবস্থা না করায় প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ দায় এড়াতে পারে না বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

২৩ ডিসেম্বর, ২০২১।