চাঁদপুরে সাড়ে ৩ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাবে

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সাংবাদিক ওরিয়েন্টেশন

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩ লাখ ৫১ হাজার ২৮৮ শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৩ উপলক্ষে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে চাঁদপুরে সাংবাদিক ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়।
কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন বলেন, জেলায় গত রাউন্ডে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন এর ৬-১১ মাস বয়সী শিশুর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮,৩৬৬ জন। ভিটামিন ‘এ’ প্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ৩৭,৯৮২ জন। অর্জনের হার ৯৯.০৭ ভাগ। এছাড়া গত রাউন্ডে ১২-৫৯ বয়সী শিশুর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩,১২,৯৪১ জন। ভিটামিন এ প্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ৩,০৯,৭৪৩ জন। অর্জনের হার ৯৮.৯৭ ভাগ।
তিনি আরো বলেন, ১২ ডিসেম্বর জেলার ৮ উপজেলার ২ হাজার ৩৩২টি কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। কেউ যেন কোন ধরনের অপপ্রচার না করতে পারে সেজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। কোন শিশু যদি অসুস্থ ও জ্বর থাকে সেই শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। সেই শিশু সুস্থ হলে পরবর্তীতে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। অসুস্থ ছাড়া সব বাচ্চাই ‘এ’ প্লাস ভিটামিন ক্যাপসুল খেতে পারবে। এর কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব বাচ্চাই ‘এ’ প্লাস ভিটামিনটি খেতে পারবে। এটা খুবই ভালমানের। এটা রেনেটা কোম্পানীর জার্মানী থেকে আসে। ‘এ’ ভিটামিনের গুরুত্ব সবাইকে বুঝাতে হবে।
তিনি বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে, শিশুর শারীরিক বিকাশে সাহায্য করে, ভিটামিন এ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল ভরা পেটে খেলে ভালো হয়। ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফল করতে আমরা একটি মোবাইল টিম গঠন করছি।
ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শতভাগ সফল করতে সিভিল সার্জন কার্যালয় বদ্ধপরিকর। এজন্য গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহাদাত হোসেন।
এছাড়া সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাহাদাৎ হোসেন সবাইকে সতর্ক করে আরো বলেন, বর্তমানে খেজুরের রস থেকে নিপা ভাইরাস ছড়াচ্ছে। গাছা থেকে নামিয়ে খেজুরের রস খেয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছেন। এ ব্যাপারে সতর্ক না হলে অনেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পরবেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. শাখাওয়াত হোসেনের পরিচালনায় কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এএইচএম আহসান উল্লাহ ও দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন শান্ত।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, গিয়াস উদ্দিন মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, রিয়াদ ফেরদৌস, দৈনিক ইল্শেপাড়ের প্রধান সম্পাদক মাহবুবুর রহমান সুমন, দৈনিক সংবাদের সম্পাদক ও প্রকাশক আব্দুর রহমান, দৈনিক প্রথম আলোর চাঁদপুর প্রতিনিধি আলম পলাশ, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক কাদের পলাশ, সময় টেলিভিশন চাঁদপুর প্রতিনিধি ফারুক আহমেদ, মাই টিভির চাঁদপুর প্রতিনিধি মুনাওয়ার কানন, একুশে টেলিভিশনের চাঁদপুর প্রতিনিধি নেয়ামত হোসেন, এখন টেলিভিশনের চাঁদপুর প্রতিনিধি তালহা জুবায়ের, চাঁদপুর জেলা ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শাওন পাটওয়ারী, সহ-সভাপতি এস এম সোহেল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক কেএম মাসুদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম অনিক ও শরিফুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভায় মোট ৩ লাখ ৫১ হাজার ২শ’ ৮৮ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী মোট ৩৮ হাজার ৩শ’ ৩৯ জন শিশু এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী মোট ৩ লাখ ১২ হাজার ৯শ’ ৪৯ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। জেলার মোট ২৩৩২টি কেন্দ্রে ৫ হাজার ১শ’ ৬৯ জন তদারককারী ও স্বেচ্ছোসেবী নিয়োজিত থাকবে। ১২ ডিসেম্বর সকাল ৮টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম চলাবে।
আরো জানা যায়, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে, শিশুর শারীরিক বিকাশে সাহায্য করে, ভিটামিন এ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। ১২ ডিসেম্বর ১ দিনব্যাপী সারাদেশে জাতীয় ভিটমিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উদযাপিত হবে। ওইদিন ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (১০০০০০ আইইউ) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুকে একটি লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল (২০০০০০ আইইউ) খাওয়ানো হবে। গত রাউন্ডে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন এর ৬-১১ মাস বয়সী শিশুর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮,৩৬৬ জন। ভিটামিন এ প্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ৩৭৯৮২ জন। অর্জনের হার ৯৯.০৭ ভাগ। এছাড়া গত রাউন্ডে ১২-৫৯ বয়সী শিশুর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩,১২,৯৪১ জন। ভিটামিন ‘এ’ প্রাপ্ত শিশুর সংখ্যা ৩,০৯,৭৪৩ জন। অর্জনের হার ৯৮.৯৭ ভাগ।

১২ ডিসেম্বর, ২০২৩।