আহত অর্ধশতাধিক, ৩০ রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ
এস এম সোহেল
চাল, ডাল, তেল ও গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিসহ সীমাহীন দুর্নীতির প্রতিবাদে চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বিক্ষোভ সমাবেশে নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। বুধবার (৯ মার্চ) বিকেলে শহরের নতুনবাজার এলাকার বেগম মসজিদের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, খোলা ট্রাকের উপরে রাস্তা বন্ধ করে অস্থায়ী প্যান্ডেল স্থাপন করে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। পুলিশ যান চলাচলের জন্য রাস্তার উপর থেকে ট্রাক ও নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিতে আসলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়ে নেতাকর্মীরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে প্রায় ৩০ রাউন্ড কাঁদানো গ্যাস ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পুলিশ। এসময় সদর মডেল থানার ওসিসহ ৭ জন পুলিশ সদস্য, বাদশা ভূঁইয়া ও ইব্রাহীম খান নামের দু’সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মী ও পথচারীসহ কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক আহত হয়। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।
এদিকে পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে সংঘর্ষ চলাকালীন এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সামনের বন্ধ দোকান পাটের সার্টারে হামলা চালায় ও বেগম মসজিদের গ্লাসে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ পুলিশ (সদর সার্কেল) আসিফ মহিউদ্দিনের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাসভবনে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিকালে বাড়ির ভিতরে থাকা দু’জনকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসবাদ করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ট্রাকটি জব্দ করা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এদিকে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইব্রাহিম কাজী জুয়েল জানান, শান্তিপূর্ণভাবে আমরা মিছিল শেষে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলাম। পুলিশ এসে নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিত লাঠিচার্জ করে। পরে তারা টিয়ারশেল ও গুলি চালায়। এতে আমাদের ৫০ নেতাকর্মী আহত হয়।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আসিফ মহিউদ্দিন জানান, পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে রাস্তা ছেড়ে দিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের অনুরোধ করে। এতে নেতাকর্মীরা পুলিশের উপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৩০ রাউন্ড সর্টগান ও রাবার বুলেট এবং ১০ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়। হামলায় চাঁদপুর মডেল থানার ওসি, নতুন বাজার ফাঁড়ির ইনচার্জসহ ৭ পুলিশ আহত হয়।
১০ মার্চ, ২০২২।
