চাঁদপুরে হোম কোয়ারেন্টাইনে ৯৯০


এস এম সোহেল
করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে। এ মহামারি থেকে রক্ষায় চাঁদপুর জেলায় এ পর্যন্ত ৯৯০ জন প্রবাসীকে হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে। গত জানুয়ারি থেকে গতকাল রোববার (২২ মার্চ) পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে চাঁদপুর জেলায় ২ হাজার ১শ’ ৮৫ জন প্রবাসী এসেছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হোম কোয়ারেন্টাইনে যুক্ত হয়েছে ২৬ প্রবাসী।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, হোম কোয়ারেন্টানের রয়েছে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ও পৌরসভায় ২২৭ জন, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় ২১১ জন, কচুয়া উপজেলায় ১৭০ জন, শাহরাস্তি উপজেলায় ১৫৩ জন, হাজীগঞ্জ উপজেলায় ১৫৪ জন, হাইমচর উপজেলায় ২১ জন, মতলব উত্তর উপজেলায় ৫৪ জন ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় ১০০ জন।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে আরো জানা যায়, করোনা প্রতিরোধে উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন, জরুরি মেডিকেল দল, ইউনিয়ন পর্যায়ে মেডিকেল দল, মনিটরিং সেল গঠন, প্রত্যেক উপজেলায় ৭/৮ বেডের আইসলোশেন ওয়ার্ড প্রস্ততকরণসহ চিকিৎসা সেবার জন্য সব প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের শঙ্কায় চাঁদপুর জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ে ১০০ বেডের আইসোলেশন ওয়ার্ড প্রস্তুত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া অতিরিক্ত হিসেবে প্রত্যেক উপজেলায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হোটেল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা এসব লোক অতি সম্প্রতি সৌদি আরব, কাতার, দুবাই, মালয়েশিয়া ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে ফেরত এসেছেন। তাদের ২ সপ্তাহ নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। এখনো চাঁদপুর জেলায় কোন করোনা রোগী সনাক্ত হয়নি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, জানুয়ারি মাস থেকে গতকাল ২২ মার্চ পর্যন্ত সর্বশেষ ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য মতে বতর্মানে চাঁদপুর জেলায় ২ হাজার ১শ’ ৮৫ জন প্রবাসী বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে। তাদের মধ্যে বর্তমানে ৯৯০ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বাকি ১ হাজার ১শ’ ৯৫ জন প্রবাসীকে ১৪ দিনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর স্বাভাবিকভাবে জীবন-যাপন করছেন। তবে তাদেরও সতর্ক অবস্তায় চলাচলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, জেলা প্রশাসনের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব তথ্য সংগ্রহ করছে। করোনা ভাইরাসের বিষয়ে জেলা প্রশাসন সকল প্রকার প্রস্তুতি রয়েছে। জেলার ৮ উপজেলা স্কাউটস্, রেডক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে ৩০জন করে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়েছে। শুধু তাই নয় ইউনিয়নভিত্তিক চেয়ারম্যান, সচিব, পুলিশ, মেম্বার, মাওলানা, শিক্ষক, তহসিলদার ও গ্রাম পুলিশসহ ৩৪জনের টিম প্রস্তুত করা হয়েছে।
সিভিল সার্জন ডা. সাখাওয়াত উল্লাহ জানান, জেলায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এবং আক্রান্ত হয় এমন রোগীদের জন্য ১০০ শয্যার আলাদা বিশেষ ইউনিট খোলা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ৩০টি, বিভিন্ন ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালে ২১টি এবং ৭ উপজেলায় আরো সাতটি করে মোট ৪৯টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।