
স্টাফ রিপোর্টার
বর্তমান সময়ে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোরদের নিয়ে অভিভাবকদের কঠিন দুঃশ্চিন্তার নাম কিশোর গ্যাং। সারাদেশের ন্যায় চাঁদপুরেও এই উঠতি বয়সি কিশোররা সিনিয়র-জুনিয়র দাবি, প্রেম ভালোবাসা, ছিনতাই-চাঁদাবাজি, ইভটিজিংসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। এ ধরনের সামাজিক অপরাধ থেকে কিশোরদের রক্ষা করতে চাঁদপুরের পুলিশ প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে নেই। প্রতিদিনই স্কুল-কলেজ চলাকালীন সময়ে ও সন্ধ্যার পরে কোন শিক্ষার্থীকে রাস্তায় আড্ডারত অবস্থায় দেখলেই আটক করছে পুলিশ।
গত ১ সপ্তাহে শতাধিক স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে আটক করেছে মডেল থানা পুলিশ। পরে তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে ভবিষ্যতে ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার মুচলেখা রেখে ছেড়ে দেয়া হয়। সম্প্রতি স্কুল চলাকালীন সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন বখাটে প্রকাশ্য দিবালোকে চাঁদপুর সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের মেধাবী ছাত্র দেলোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনার পর থেকে নড়েচড়ে বসেন পুলিশ প্রশাসন। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করেন পুলিশ। প্রতিদিন সকাল সন্ধ্যায় শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে কিশোর গ্যাং ধরতে অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ।
এ ব্যাপরে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিন জানান, চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের ব্যাপারে অভিভাবক, শিক্ষক ও জনপ্রতিনিধিরা আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে। তারা তাদের সন্তান নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে। আমরা চাঁদপুরকে কিশোর গ্যাং মুক্ত করবো। প্রতিদিন অভিযান হচ্ছে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত গত এক সপ্তাহে শতাধিক স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে পুলিশ আটক করেছে। পরে অভিভাবকদের উপস্থিতিতে মুচলেখা রেখে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। কিশোর গ্যাং রোধে সবার সচেতন হতে হবে, বিশেষ করে অভিভাবকদের। তাদের সন্তান কোথায় যায়, কি করে, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে।
এদিকে পুলিশের এ সাঁড়াশি অভিযানের কারণে শহরে এখন বখাটেদের অনাগোনা অনেকাংশে কমে গেছে। সচেতন মহলের দাবি এ অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার চায়ের স্টলগুলোতেও অভিযান করতে হবে। এই স্টলগুলোতে সন্ধ্যার পর বখাটেদের আড্ডা বসে।
