এস এম সোহেল
চাঁদপুরে আনন্দঘন পরিবেশে বছরের প্রথমদিন বই উৎসবে মেতেছিল শিক্ষার্থীরা। উৎসবমুখর এবং আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে সারা দেশের মতো চাঁদপুরেও নানা আয়োজনে বই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে সোমবার (১ জানুয়ারি) চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং মাদরাসার প্রায় ২৫৬৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ৩৪ লাখ ৮৬ হাজার বই দেওয়া হয়। এসব বই বছরের প্রথম দিনেই বিতরণ করা হয়েছে।
জেলা শিক্ষা অফিসার ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুর সদরসহ ৮ উপজেলায় সরকারি বেসরকারি মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, ভকেশনাল ও এবতেদায়ী ৫শ’ ১৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১ হাজার ১শ’ ৫৭টি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে, ৬শ’ ১০টি কিন্ডার গার্ডেন ও ২শ’ ৮৪টি নিম্ম মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল ও মাদ্রাসার জন্যে ৬ষ্ঠ হতে নবম শ্রেণি পর্যন্ত নতুন কারিকুলামের জন্যে ৩৪ লাখ ৮৬ হাজার নতুন বই বিতরণ করা হয়।
গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আয়োজনে কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।
এসময় তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বছরের প্রথম দিন ৩ কোটি ৮১লাখ শিক্ষার্থীর মাঝে নতুন বই বিতরণ বিশে^ এটি অনন্য উদাহরণ। বিশে^র কোন দেশেই বিনামূল্যে এভাবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বই দেয়া হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে উৎসবের মাধ্যমে ৩০ কোটি বই পাবে শিক্ষার্থীরা। আর এটি সম্ভব হয়েছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টার কারণে। যে কারণে আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ প্রকাশ করছি।
তিনি আরো বলেন, নতুন বইয়ের ঘ্রান নেয়া এটির আনন্দ খুবই ভিন্ন। আমরা ছোট বেলায় এই আনন্দ পেয়েছি। কিন্তু একটা সময় বই কিনে পড়তে হয়েছে। বর্তমান সরকার এসে বিনামূল্যে বই বিতরণসহ শিক্ষার উন্নয়নে অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ৮০ দশকে নতুন বই দেয়া হত মার্চ-এপ্রিল মাসে। তখন কবে বই দেয়া হবে আমরা খোঁজ রাখতাম। বইগুলো খুবই যত্নসহকারে বিদ্যালয় থেকে বাড়িতে নিয়ে যেতাম।
তিনি বলেন, বছরের প্রথম আমাদের দেশ ও বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে উদযাপন হয়। কিন্তু আমাদের দেশে ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন বই বিতরণ উৎসবে নতুন আনন্দ যোগ হয়েছে। আমাদের জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে সাড়ে ২২ লাখ ৫০ হাজার এবং প্রাথমিক পর্যায়ে ১২ লাখ ৩৬ হাজার বই আজকে দেয়া হবে এবং সারাদেশে আজকে ৩০ কোটি বই দেয়া হচ্ছে বিনামূল্যে। আমরা যখন মাধ্যমিক স্তরে পড়েছে, তখন আমাদের সব বই কিনে পড়তে হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের সরকারের উদ্যোগ ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। তাই অভিভাবকদের বলছি, আপনারা আপনাদের সন্তানদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করে স্মার্ট বাংলাদেশের স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবেন। আপনার সন্তানকে স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে স্মার্ট ফোন থেকে দূরে রাখবেন। স্কুলে এসে তাদের পড়ালেখার খোঁজ-খবর নিবেন। একই সাথে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে মা সমাবেশ করবেন।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বশির আহমেদ, জেলা শিক্ষা অফিসার প্রাণকৃষ্ণসহ সরকারি কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা।
সকাল ১০টায় চাঁদপুর শহরের বাবুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে বই বিতরণ উৎসবে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রধান অতিথি হিসেবে বই বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলাম।
চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোস্তাফিজুর রহমান, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাখওয়াত জামিল সৈকত, বাবুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন।
বাবুরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের পরিচালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হেদায়েত উল্লাহ, চাঁদপুর পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খায়রুল ইসলাম নয়ন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তপন কুমার রায়সহ জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
বেলা ১১টায় চাঁদপুর সরকারি হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বই উৎসবের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।
হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এবং হিসাব কাম অফিস সহকারী কাউসার আহমেদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার প্রাণকৃষ্ণ দেবনাথ।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক শ্যামল কৃষ্ণ পাল ও বিদায়ী শিক্ষক সুলতানা ফেরদৌস আরা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র শিক্ষক রেহানা ইয়াসমিন। শুরুতেই জাতীয় সংগীত ও ফুলের শুভেচ্ছার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয় এবং পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মেহরাজ মিজি তুহিন, গীতা পাঠ করেন নিরব চন্দ্র দাস।
উল্লেখ্য, চাঁদপুর জেলার ৮টি উপজেলার প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং মাদরাসার প্রায় ২৫৬৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ৩৪ লাখ ৮৬ হাজার বই দেওয়া হয়। এসব বই বছরের প্রথম দিনেই বিতরণ করা হয়েছে।
০২ জানুয়ারি, ২০২৪।
