শাহ্ আলম খান
চাঁদপুর হরিণা ফেরি ঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পৃথক দু’টি অভিযানে ৩০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল, ১টি জেলে নৌকা ও ১শ’ ২০ কেজি জাটকাসহ ৬ জেলেকে আটক করেছে। গত রোববার (১৮ এপ্রিল) রাতে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বহরিয়া ও ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের সাখুয়া ঘাটের পশ্চিম পাশে মেঘনা নদীতে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এ সময় মেঘনা নদীতে জাটকা নিধন কালে জেলেদের কাছ থেকে ৩০ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ১শ’ ২০ কেজি জাটকা ও একটি জেলে নৌকাসহ ৬ জন জেলেকে আটক করে নৌ-পুলিশ। জব্দকৃত কারেন্ট জালের আনুমানিক মূল্য ৮ কোটি চল্লিশ লাখ টাকা।
এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের পর পুলিশ আটক জেলেদের গতকাল সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠালে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আটক জেলেরা হলেন- জহিরাবাদ এলাকার জাফর আলী খানের ছেলে মো. আরশাদ খান, এখলাছপুরের দক্ষিণ বকচর এলাকার মৃত রাজ্জাক মোল্লার ছেলে দেলয়ার মোল্লা, আনোয়ার মোল্লার ছেলে মো. আল-ইসলাম, মৃত রাজ্জাক মোল্লার ছেলে মো. বাবু মোল্লা। একই এলাকার কুরালি বাড়ির মৃত হাসান আলীর ছেলে রহমত আলী কুড়ালী ও মৃত এরফান মালের ছেলে মো. মামুন মিজি।
হরিণা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরের নৌ-পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের নির্দেশে হরিণাঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম মো. নাসিম হোসেনের নেতৃত্বে এসআই রেদোয়ান, এএসআই আক্কাস আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েক সোহেল রানাসহ অভিযান পরিচালনা করেন। পরে মৎস্য কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে রাতেই জব্দকৃত কারেন্ট জালগুলো আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয় এবং জাটকাগুলো গতকাল সোমবার সকালে হরিণা এলাকার গরিব, অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
হরিণাঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম মো. নাসিম হোসেন জানান, নৌ-পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান নেতৃত্বে আমরা বহরিয়া ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের সাকুয়া গ্রামে পৃথক দু’টি অভিযান পরিচালনা করি এ সময় আমরা জেলেদের কাছ থেকে মালিকবিহীন ৩০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ১শ’ ২০ কেজি জাটকা এবং একটি জেলে নৌকাসহ ৬ জন জেলেকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি।
আটক আসামিদের বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার দুপুরে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মৎস্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
২০ এপ্রিল, ২০২১।
