চাঁদপুরে জুডিশিয়াল কনফারেন্স জেলা জজ
শুনানির ক্ষেত্রে এজলাসে আসামির উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে ৩য় ত্রৈমাসিক জুডিশিয়াল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা জজশীপের সম্মেলন কক্ষে গতকাল শনিবার সকালে সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ও দায়রা জজ মো. জুলফিকার আলী খাঁন।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জামিন শুনানিসহ যে কোন শুনানির ক্ষেত্রে এজলাসে আসামির উপস্থিত নিশ্চিত করতে হবে। বিচারের ক্ষেত্রে গুণগত মান রাখতে হবে। পুলিশ বিভাগের সঠিক তদন্তসহ আইনজীবীদের মেধার মাধ্যমে যদি সব ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায়, তাহলে বিচার কার্যক্রম আরো দ্রুত এগিয়ে নেয়া যাবে। থানায় মামলা দাখিল করার সময় কোন বিচারপ্রার্থী যদি এমসি সময়মতো না দিতে পারে তাহলে এই ক্ষেত্রে মামলায় আইওকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এমসি সংগ্রহ করে তা মামলার সাথে জমা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, পুলিশের কাছ থেকে সমন ও এনবিডব্লিউ ঠিকমতো আসে না। এর কারণে আদালত অনেক কিছু জানতে পারে না। অন্ধকার থেকে আলোতে আসতে হলে এ বিষয়ে সবার খেয়াল রাখতে হবে। পুলিশ, পিবিআই ও মাদ্রকদ্রব্য কর্মকতাদের রিপোর্ট প্রদানের ক্ষেত্রে সঠিক সময় ব্যবহার করতে হবে। দেওয়ানী ও ফৌজধারী মামলার নকলের ক্ষেত্রে নকলখানায় নতুন ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যুগ্ম জেলা দায়রা জজ-১ শাহেদুল করিমের পরিচালনায় কনফারেন্সে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ সরওয়ার আলম, চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরে আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ অরুন পাল, অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ কায়সার মোশারফ, ল্যান্ড সার্ভ টাইবুন্যালের বিচারক ফারহানা ইসলাম, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল আলম, কামাল হোসাইন, হাসান জামান, কফিলউদ্দিন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার শুভা চক্রবর্তী, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কার্তিক ঘোষ, সিনিয়র সহকারী জজ (সদর) শামসাদ জাহান খান, সহকারী জজ আলী নুর ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, মিথিলা রানী দাস, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. শেখ জহিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শাহাদাত হোসেন, জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাড. আমানউল্লাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাড. হাবিবুল ইসলাম তালুকদার, জেলার আবু মুছা, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি ডা. সাজেদা বেগম, পিআইবি পুলিশ পরিদর্শক কবির আহমেদ, কোর্ট ইন্সেপেক্টর মহিউদ্দিন মিয়া প্রমুখ।
কনফারেন্সে জানা যায়, গত ৩ মাসে চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে দেওয়ানী ও ফৌজদারীসহ ৭শ’ ৯০টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব মামলা নিষ্পত্তি হয়। এর মধ্যে দেওয়ানী মামলার নিষ্পত্তি হয় ৮৯টি এবং ফৌজদারী মামলা ৭শ’ ১টি।
গতকাল শনিবার চাঁদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ত্রৈমাসিক বিচারকার্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করা প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেওয়ানী মামলা নিষ্পত্তি হয় ৮৯টি। এর মধ্যে গত ৩ মাসে নিষ্পত্তি হয় ২৭টি দেওয়ানী আপিল মামলা, ২৭টি অর্পিত আপীল মামলা, ১টি মানী আপিল মামলা, ৭টি পারিবারিক আপিল মামলা, বিবিধ আপিল মামলা ১৪টি, সিভিল রিভিশন মামলা ১১টি ও বিবিধ মামলা ২টি।
ফৌজদারি মামলা নিষ্পত্তি হয় ৭০১টি। এর মধ্যে এসসি ২৮টি, এসটিসি ১টি, ফৌজদারী আপিল মামলা ১২৩টি, ফৌজদারী রিভিশন ৯৬টি, ফৌজদারি বিবিধ মামলা ৪৩৫টি। বর্তমানে দেওয়ানী মামলা বিচারাধীন রয়েছে ৬৭৪টি এবং ফৌজদারী মামলা বিচারাধীন রয়েছে ২ হাজার ৬শ’ ৩টি।
