স্টাফ রিপোর্টার
স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের পূণ্য জন্মস্থান চাঁদপুর অযাচক আশ্রম প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী ভাতৃ-দ্বিতিয়া অখন্ড সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। চাঁদপুর অযাচক আশ্রম পরিচালনা পরিষদ, চাঁদপুর অযাচক আশ্রম বোর্ড-অব-ট্রাস্টি এবং বাংলাদেশ সম্মিলিত অখন্ড সংগঠনের আয়োজনে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এই সম্মেলন শুক্রবার শেষ হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচির প্রথম দিন বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় ভাতৃ-দ্বিতিয়া অখন্ড সম্মেলন উপলক্ষে সাংগঠনিক অধিবেশন শুরু হয়।
শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি সকাল সাড়ে ৮টায় ভাতৃ-দ্বিতিয়া অখন্ড সম্মেলন উপলক্ষে বিশেষ সমবেত উপাসনা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারের নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভক্তরা অখণ্ড সম্মেলনে ভক্তরা অংশগ্রহণ করেন। সকাল ১১টায় ভাতৃ-দ্বিতীয়া অখন্ড সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ধর্মের মূল বিষয়টা আচরনের মধ্যে থাকতে হবে। তিনি জগতের সব মানুষের কথা চিন্তা করতেন। সব ধর্মের মানুষ জন্য কল্যাণ কর। চাঁদপুরে এমন এক মহাপুরুষের জন্ম হওয়ায় আমরা গর্ববোধ করছি। আজকের এ ভাতৃ-দ্বিতীয়ার অনুষ্ঠান একের প্রতি অন্যের ভাতৃত্ববোধে সম্প্রসারণের লক্ষ্যে। ভাতৃ মানবতাই হলো ভাতৃত্ববোধ। যার যার ধর্মে সেই বোধ আছে। আমি অন্য ধর্মের হলেও স্বরূপানন্দের বাণীগুলো পড়তাম। তার এ বাণী জগতের সবার উদ্দেশ্যে লিপিবদ্ধ।
তিনি আরো বলেন, ডা. দীপু মনি অত্যান্ত সাফল্যের সাথে মন্দিরের উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা করেছেন। আমি চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র হয়েছি, আমি সব সময় আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করবো। মিথ্যাকেও অজান্তে সত্য রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি আছি কেউ যেনো আশ্রমের বিষয়ে কোন চক্রান্ত করতে না পারে। আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, আমি আপনাদের জন্য কিছু করবো। চাঁদপুর সম্প্রতির শহর। এই শহরের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করবো।
ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক রাধেশ্যাম কুড়ির সভাপতিত্বে এবং অযাচক আশ্রম বোর্ড অব স্ট্রাস্টের সদস্য দুলাল দাসের পরিচালানায় ভারতে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ থেকে মোবাইলে বক্তব্য রাখেন দাদা মনি তপন ব্রক্ষ্মচারী।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা পূজা উদযযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক তমাল কুমার ঘোষ, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অ্যাড. বিণয় ভূষন মজুমদার, জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোপাল সাহা, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লক্ষণ চন্দ্র সূত্রধর, ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মালেক শেখ, ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইউনুস শোয়েব।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর অযাচক আশ্রম বোর্ড অব ট্রাস্টের সদস্য সচিব মৃণাল কান্তি দাস, বাংলাদেশ সম্মিলিত অখণ্ড সংগঠনের সদস্য সচিব সুজিত কুমার দে, পূর্ণ জন্মস্থান চাঁদপুর অযাচক আশ্রম পরিচালনা পরিষদের সচিব তাপস কুমার দাস, বোর্ড অব স্ট্রাস্টের সদস্য গৌতম সাহা।
এসময় বক্তারা বলেন, ১০৫ বছর আগে স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব এমন একটি দিন গঠন করতেই চরিত্র গঠন আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন ঘোড়ামারার মাঠে। আজকে আমরা এখানে আনন্দের মাঝে ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া অখণ্ড সম্মেলন হচ্ছে। কিন্তু যিনি এ মন্দিরের জন্য কাজ করে গেছেন তিনি হলেন অধ্যক্ষ কবিরাজ সুখরঞ্জন ব্রক্ষ্মচারী। তিনি আজ আমাদের মাঝে নেই। তিনি মানব সেবায় ব্রত ছিলেন। এখানে দেশ বিদেশের বহু ভক্ত এসেছে। একটি কুচক্রি মহল স্বরূপানদের পূন্য জন্মস্থান দখলের পাঁয়তারা করছে। বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি জানেন। আমাদের চাঁদপুরের সম্পদ, অন্য জেলাকে কিছুতেই দেয়া -যাবে না। আজ ভাতৃ দ্বিতীয়া সম্মেলন করা হচ্ছে সেই সময় আমরা পৌর মেয়রের কাছে আহ্বান করবো স্বরূপানন্দের মন্দির যেন এ পূন্য জন্মস্থান যেন করা হয়। ভাই-বোনকেই ভাতৃ দ্বিতীয়া বলে। সবার সাথে ভাতৃত্ব বন্ধন। স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব সবার সথে বন্ধুত্ব গঠন করেছেন তাই তার পূর্ণ জন্মভূমিতে এ সম্মেলন করা হচ্ছে। এখানে ৫/৭টি ঘর ছিল ভাষানদের। গাঙ্গুলী পাড়ায় স্বামী স্বরূপানন্দের জন্মস্থান। রোকেয়া বেগম দখলে ছিল। তার কাছ থেকে জায়গা উদ্ধার করা হলো। জেলা প্রশাসক ছিলেন খালিদ আনোয়ার। তিনি এনডিসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন সর্বাত্রক সহযোগিতা করার জন্য। রহিমপুরে মন্দির কেন করা হবে, চাঁদপুরের জন্মভূমিতে মন্দির করা হবে, সেমতে মন্দির করার কাজ শুরু। ঐ চক্রটি এখন আবার রহিমানগরে মন্দির করার পাঁয়তারা করছে।
অখণ্ডা সংগীতা পাঠ করেন অরুন কুমার ঘোষ, অখণ্ড সংগীত পরিবেশন করেন মানিক রায়।
২২ নভেম্বর, ২০২০।
- Home
- চাঁদপুর
- চাঁদপুর সদর
- চাঁদপুর অযাচক আশ্রমে ভাতৃ-দ্বিতীয়া অখন্ড সম্মেলন অনুষ্ঠিত
Post navigation
