স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর শহরের উকিলপাড়া এলাকায় আল-আমিন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রাহিমা বেগম (২২) নামের প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনার প্রায় ৮ ঘণ্টা পর সাড়ে ৩ লাখ টাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের
সাথে রফাদফা করেছেন নিহতের স্বজনরা। গত শুক্রবার বিকেল প্রায় ৩টায় আল আমিন হাসপাতালে গাইনী ডা. শামসুন্নাহার তানিয়া সিজার করার সময় অপারেশন থিয়েটারেই প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ। সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা ৪ ঘণ্টা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে নিহতের স্বজনদের বৈঠক শেষে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় মৃতের দাম নির্ধারণ হয়। রফাদফা শেষে রাত ১১টায় নিহতের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে থাকা একজন জানান, রফদফার বৈঠক চলাকালে চাঁদপুর আল-আমিন হাসপাতালের চেয়ারম্যান শুক্কুর মোস্তান, পরিচালক মোস্তফা কামাল, নতুনবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কামরুজ্জামান, সদর উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি নাজমুল পাটওয়ারী, ইউপি সদস্য কাদিরসহ নিহতের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
রফাদফা চলাকালে প্রসূতির শ্বশুর পুত্রবধূর শোকে জ্ঞান হারিয়ে চেয়ার থেকে নিচে পড়ে যান। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়। নিহতের স্বজনরা প্রথমে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তারা তাদের দোষ নেই বলে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা দিতে রাজি হয়। পরে উভয় পক্ষের দর কষাকষিতে সাড়ে ৩ লাখ টাকায় সমাঝোতা হয়। নিহতের স্বজনদের নগদ ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে বাকি ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করবেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
গৃহবধূর বাবা জয়নাল গাজী জানায়, ৪ বছর আগে পারিবারিকভাবে মনির হোসেনের সাথে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও ডা. তানিয়ার ভুল চিকিৎসায় আমার মেয়ের মৃত্যু। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।
স্বামী মনির হোসেন জানায়, আমার স্ত্রী রাহিমা প্রায় ২ বছর ধরে ডা. শামসুন্নাহার তানিয়ার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়েছে। সেই সূত্রে রাহিমার সিজার করেন গাইনী ডা. শামসুন্নাহার তানিয়া ও এনেসথ্যাসিয়া করেন ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন। শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালে সিজারের জন্য আমার স্ত্রীকে ওটিতে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর ওটি থেকে কন্যা সন্তান হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে প্রায় ১ ঘণ্টা অতিক্রম হয়ে গেলেও আমার স্ত্রী কেমন আছে জানায়নি। পরে আমি জোর করে ওটিতে প্রবেশ করি। তখন আমাকে বলা হয় আমার স্ত্রী মারা গেছে। সিজার করে ডা. তানিয়া চলে গেলেও হাসপাতালের কেউ মৃত্যুর বিষয়ে আমাদের কিছু জানায়নি।
গৃহবধূর শাশুড়ি জানান, ডা. তানিয়া আমার ছেলের বৌ রাহিমারে মেরে ফেলছে।
নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. কামরুজ্জামান জানান, ঘটনার অনেক পরে আমাদের জানানো হয়েছে। আমরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করি এবং কাগজপত্র পর্যালোচনা করেছি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ডা. শামসুন্নাহার তানিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে এর আগে একাধিকবার বিভিন্ন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় নবজাতক ও প্রসূতি মৃত্যুতে ডা. শামসুন্নাহার তানিয়ার নাম রয়েছে। রফাদফার কারণে নিহতের স্বজনরা আইনী ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবার এ ধরনের চিকিৎসকরা পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে জানান বিভিন্ন স্থান থেকে হাসপাতালে আসা লোকজন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার চাঁদপুর শহরের উকিলপাড়া এলাকায় চাঁদপুর আল-আমিন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় অপারেশন থিয়েটারে রাহিমা বেগম নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তবে মা মারা গেলেও সিজারের মাধ্যমে কন্যা শিশুর জন্ম হয়। নিহত রাহিমা বেগম সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের আখনের হাট এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী মনির হোসেনের স্ত্রী।
১০ অক্টোবর, ২০২১।
