ইলশেপাড় রিপোর্ট
ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তিতে শীঘ্রই শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত ১১ জেলার বিরোধ নিষ্পত্তিতে ভূমিকা পালন করবে কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগ। চিহ্নিত এই ১১ জেলার মাঝে অন্যতম জেলা চাঁদপুর বলে দলটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে।
অপর ১০টি জেলা হচ্ছে- নোয়াখালী, মাদারীপুর, গাজীপুর, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদি, কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া। এই জেলাগুলোতে অবিলম্বে সাংগঠনিক বিরোধ নিষ্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। তারা মনে করছেন, আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই যদি এই জেলাগুলোর নেতৃত্বের বিভক্তি ও অন্তঃকলহ দূর করা না যায়, তাহলে তার প্রভাব নির্বাচনে পড়বে।
এদিকে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রকাশ্য বিভক্তি দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে প্রতিদিনই পক্ষে-বিপক্ষে পাল্টা-পাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আসছে দলটি। এতে ইমেজ সংকটে পড়েছেন দলটির যুগ্ম-সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।
এজন্য চলিত বছরের মধ্যেই দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে হাইকমান্ড থেকে। আর এজন্য ক্ষমতাসীন দলটি প্রয়োজনে কঠোর শুদ্ধি অভিযান পরিচালনার হুমকি দিয়েছে চিহ্নিত রেড জোন জেলাগুলোকে।
দলটির হাইকমান্ড চাঁদপুর জেলার বিরোধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে- শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছে এ জেলার একজন দলীয় সংসদ সদস্য। এছাড়া দলটির জেলা পর্যায়ের শীর্ষ পর্যায়ের আরেক নেতাও বিভক্তি সৃষ্টি করেছেন। এ অবস্থায় চাঁদপুরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক রাজনীতি অনেকটাই এখন টালমাটাল অবস্থায় পরেছে।
তবে কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের এমন অভিমতের সাথে জেলা আওয়ামী লীগ দ্বিমত প্রকাশ করছেন। দলটির সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি করে দলকে বিতর্কিত করা যাবে না। কিন্তু অতিসম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টি জাতীয় গণমাধ্যমে চলে আসে।
জাতীয় গণমাধ্যম সূত্র হিসেবে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক প্রেরিত ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত একটি চিঠির তথ্য ধরেই মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত বলে জেলার শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা মনে করছেন। পাশাপাশি অতিসম্প্রতি শেষ হওয়া পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে বেশ কয়েকটি উপজেলায় আওয়ামী লীগের ভরাডুবিতে সাংগঠনিক ও কেন্দ্রিয় পর্যায়ের কোন নেতার ইশারা ইঙ্গিত ছিলো বলে দলটির তৃণমূল পর্যায়ে চাউর রয়েছে।
এমন সব কর্মকান্ডকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিরোধ এখন প্রকাশ্য রুপ লাভ করেছে। করোনাকালীন এই সময়ে সরকারের বিধিনিষেধ থাকা সত্বেও দলটির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের প্রতিদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রাখায় এ জেলায় বর্তমানে করোনার সংক্রমণও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এজন্য ক্ষমতাসীন দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, যত দ্রুত সম্ভব কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিভেদ দূর করা যাবে, ততই দলটির জন্য মঙ্গল বয়ে আসবে।
পাশাপাশি গত ২০০৮ সালের পর থেকে সমগ্র চাঁদপুর জেলায় ক্ষমতাসীন দলটির যেসব শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অবদানে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত এ জেলাকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে রুপান্তর করছে- সেসব নেতাদের যথাযথ মূল্যায়নেরও তাগিদ দিয়েছে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা।
০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২।
