চাঁদপুর করোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মাস্কের দাম!

 

এস এম চিশতী
করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চাঁদপুর জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় দোকানগুলোতে মাস্কের দাম বৃদ্ধি করে বিক্রি করতে দেখা যায়। দোকানীরা করোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মাস্কের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি বাড়ানো উচিত!
চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মাস্ক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মাস্ক পরার বিষয়ে সরকারের কড়াকড়ি আরোপের পর থেকেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী মাস্কের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ক্রেতারা আগের চেয়ে বেশি দামে মাস্ক কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি পাইকারি ও খুচরা ঔষধের দোকানে মাস্ক বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বললে তারা স্বীকার করেন, মাস্কের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে করোনা থেকে বাঁচার অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রীর দাম আগের মতোই রয়েছে বলেও জানান তারা।
বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি চাহিদা সার্জিক্যাল মাস্ক এবং এন-৯৫ মাস্কের। বিক্রেতারা জানান, আগে পঞ্চাশটির এক প্যাকেট সার্জিক্যাল মাস্ক ৭০ টাকা, এবং দশটির এন-৯৫ মাস্কের প্যাকেট ২২৫ টাকা পাইকারি ক্রয় মূল্য ছিল। বর্তমানে সার্জিক্যাল মাস্ক ১২৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা এবং এন-৯৫ মাস্ক ২৫০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন।
চাঁদপুর গোলচত্বরের মাস্ক বিক্রেতা রুবেল হোসেন এবং দুলালও স্বীকার করেন বর্তমানে মাস্কের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। তিনি হাসির ছলে বলেন, কিনতে হয় বেশি দামে তাই বিক্রিও করি বেশি দামে। এসময়ে মাস্ক কিনতে আসা ক্রেতা কামরান হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, সার্জিক্যাল, এন-৯৫ এবং কাপড়ের মাস্কসহ প্রতিটা মাস্কের দাম আগের থেকে বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেদিন থেকে সবাইকে মাস্ক পরতে বলছেন, সেদিন থেকেই অসাধু ব্যবসায়ীরা মাস্কের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।
একই চিত্র হাজীগঞ্জ উপজেলায়ও। হাজীগঞ্জ বাজারে রাস্তায় মাস্ক বিক্রি করতে বসে থাকা আবুল হোসেন জানান, সরকার মাস্ক পরার বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। তাই এখন মাস্কের চাহিদা আগের চেয়ে বেড়েছে। আগে ঢাকায় মানুষ বেশি মাস্ক ব্যবহার করতো। কিন্তু বর্তমানে গ্রামে এবং মফস্বল এলাকাতেও মাস্ক পড়ছে। তাই মাস্কের চাহিদা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। চাহিদা বাড়ার কারণে সবাই মাস্কের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
এছাড়া বোগদাদ বাসে ভ্রাম্যমাণ মাস্ক বিক্রেতা রাসেল আহমেদ বলেন, আগে আমি সার্জিক্যাল মাস্ক ৫টা ১০ টাকায় বিক্রি করেছি। এখন ২টা ১০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এন-৯৫ মাস্ক ৮০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করছি। কাপড়ের মাস্ক ৩০ টাকা বিক্রি করতে হচ্ছে। আমাদের কেনা বেশি দামে, তাই বিক্রিও একটু বেশি দামে করতে হচ্ছে। কম দামে কিনতে পারলে আবারও আমরা কম দামে বিক্রি করবো।
মাস্ক ক্রেতাসহ সর্বসাধারণের দাবি, করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে কেউ যেন অবৈধ সুযোগ গ্রহণ না করতে পারে এজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি বাড়াতে হবে।
৩০ নভেম্বর, ২০২০।