প্রেস বিজ্ঞপ্তি
‘স্বাস্থ্যখাতে চাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা’ এই শ্লোগান নিয়ে চাঁদপর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে সনাকের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর ১টায় তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন সনাকের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক ডা. পীযূষ কান্তি বড়–য়া।
মতিবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আনোয়ারুল আজিম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকট প্রকট। জনবল সংকট হলেও আমার সহকর্মীরা সেবা প্রদানে আন্তুরিক। প্রতিটি বিভাগেই রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু পর্যাপ্ত লোকবল নেই। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং থেকে লোক এনে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সাথে সেবা প্রদান করে যাচ্ছি। তিনি সভার সিদ্ধান্তের আলোকে অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে মেয়রের সহযোগিতায় হাসপাতালের পানির সংকট সমাধান হয়েছে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরা নিশ্চিত করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে হাজিরাতে কিছু অনিয়ম হচ্ছে। যা ইতোমধ্যে আমার নজরে এসেছে। আমি এ ব্যাপারে অনিয়মের সাথে জড়িতদের সতর্ক করে দিয়েছি। হাসপাতালের সেবার মান বৃদ্ধিতে সনাকের সহযোগিতা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি।
তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে ইসিজি মেশিন ঠিক করা হয়েছে। তবে হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্যে আনসার নিয়োগের ব্যাপারে সনাকের সহযোগিতা কামনা করছি। সরকারিভাবে যদিও কোন তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তারপরও হাসপাতালে একজন তথ্য কর্মকর্তা রয়েছে। আমি যতক্ষন অফিসে থাকি তথক্ষন পর্যন্ত তথ্যসেবা নিতে আসা সব সেবাগ্রহিতাকে সরাসরি সেবা দিয়ে থাকি। তিনি হাসপাতালের তথ্যসেবা কার্যক্রমকে আরো সমৃদ্ধ করার জন্য সনাকের সহযোগিতা কামনা করেন। হাসপাতালের সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি অ্যাপস্ তৈরির প্রস্তাব আসলে তিনি জানান, প্রস্তাবটা সুন্দর। তবে আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। অ্যাপস তৈরির চেষ্টা করা হবে।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক। ডেঙ্গু আক্রান্ত ৫৪জন রোগী এপর্যন্ত হাসপাতাল থেকে সেবা নিয়েছে। ২১জন রোগী বর্তমানে ভর্তি আছে। তিনি ডেঙ্গুজ¦র বিষয়ে সবাইকে আতঙ্কগ্রস্থ না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। জ¦র হলেই তা ডেঙ্গুজ¦র তা ভাবা ঠিক নয়। সনাক-টিআইবি যেভাবে মাঝে মধ্যে হাসপাতালে এসে সেবার মানোন্নয়নে কর্তৃপক্ষের সাথে সভা করে বিভিন্ন সমস্যা ও পরামর্শ দিয়ে থাকেন এজন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় হাসপাতালের সেবার মান আরো বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।
সনাকের সাবেক সভাপতি ও সদস্য কাজী শাহাদাত বলেন, হাসপাতালের সেবার মান আগের তুলনায় অনেক ভালো। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে কর্মক্ষেত্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এটি একটি ভালো উদ্যোগ। তবে এক্ষেত্রে যেন কেই কোন অনিয়ম না করতে পারে সেজন্যে তিনি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। হাসপাতালে জনবল সংকট, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করাসহ যেকোন সমস্যা নিয়ে কমিউনিটি সাপোর্ট কমিটির সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে সনাক প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। এই হাসপাতালটি জনবান্ধব হাসপাতালে পরিণত হবে এটাই আমরা প্রত্যাশা করছি।
সভাপতির বক্তব্যে সনাকের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির আহ্বায়ক ডা. পীযূষ কান্তি বড়–য়া বলেন, আলোচনার মাধ্যমে যেকোন সমস্যার সমধান সম্ভব। যেকোন সমস্যা সমাধানের জন্যে উভয় পক্ষেরই সহযোগিতা দরকার। হাসপাতালের সেবার মান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেই দৈনিক শতশত রোগী এই হাসপাতাল থেকে সেবা নিতে আসে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সচেতন হতে হবে। সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। হাসপাতালের সেবা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি অ্যাপস তৈরি করতে পারলে হাসপাতাল সম্পর্কিত যেকোন তথ্য মানুষ ঘরে বসেই জানতে পারবে। সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় হাসপাতালের সেবার মান আরও বৃদ্ধি করতে হবে।
টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার মো. মাসুদ রানার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন সনাকের সাবেক সভাপতি ও সদস্য কাজী শাহাদাত।
সভায় বিগত সভার কার্যবিবরণী পাঠ করা হয় এবং সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করা হয়। হাসপাতালের তথ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বিষয়ক পর্যালোচনা যেমনঃ ঔষধ সরবরাহের প্রতিদিনের অবস্থা হালনাগাদ রাখা (দৃশ্যমান), তথ্য ও পরামর্শ বক্স বাস্তবায়ন, তথ্য প্রাপ্তির আবেদন নিস্পত্তি ও তথ্য প্রদান রেজিস্টার হালনাগাদকরণ, হাসপাতালের তথ্যকেন্দ্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, এআই ডেস্ক চলাকালীন সময়ে হাসপাতালের কেন্দ্রীয় সাউন্ড সিস্টেম-এর ব্যবহার ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
হাসপাতালের ঘাটতিসমূহ চিহ্নিতকরণ ও করণীয় সম্পর্কিত পর্যালোচনা যেমনঃ প্রত্যাশিত জনবল, নিরাপদ পানি সরবরাহ, হাসপাতালের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, সেবাদাতাগণের জন্য পরিচিতি কার্ডের দৃশ্যমান বাস্তবায়ন, নারী সেবা/ নারীবান্ধব সেবা বাস্তবায়ন ও ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলটিকে (ওসিসি) দৃশ্যমান করা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
মতবিনিময় সভায় নার্সিং সুপারভাইজার ও সেবিকাবৃন্দ, প্রধান সহকারী মো. সফিউল আলমসহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ, ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্রুপের সদস্যবৃন্দ ও টিআইবি কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
৩০ জুলাই, ২০১৯।