চাঁদপুর জেলা আ.লীগের সম্মেলন অনিশ্চিত!

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ/সিডিউল না দেয়ায় এমন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে দলটির শীর্ষ নেতাদের সূত্রে। তবে সম্মেলনের অনিশ্চয়তার কারণ সম্পর্কে দলটি এখনো পরিষ্কার কোন বার্তা দেয়নি। তবে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে- দু’টি উপজেলার নির্ধারিত কাউন্সিল শেষ না হওয়ায় জেলা সম্মেলন আপাতত হচ্ছে না।
এদিকে দীর্ঘ বিরতির পর চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিল। এমন সময় জেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে অনিশ্চয়তা অনেকটাই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে জেলার রাজনৈতিক মহলে চাউর হচ্ছে। এমন মতের সাথে দলটির কর্মী-সমর্থকরা একমত নয় বলে জানিয়েছেন। তাদের দাবি জেলা আওয়ামী লীগ আগের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন বেশি শক্তিশালী।
চাঁদপুরের মাঠ পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা দাবি করছেন, নাছির উদ্দিন আহমেদ ও আবু নঈম পাটোয়ারী দুলাল তাদের সাংগঠনিক দক্ষতায় দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সক্ষম হওয়ায় আওয়ামী লীগের কোন অভ্যন্তরীণ প্রকাশ্য কোন্দল নেই। যার কারণে চাঁদপুরে দলীয় ইমেজের কোন ক্ষতি হয়নি।
এদিকে ফরিদগঞ্জ ও মতলব উত্তর উপজেলার নির্ধারিত কাউন্সিল শেষ করতে পারেনি জেলা আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম দেশে না থাকায় মতলব উত্তর উপজেলায় কাউন্সিল করা যায়নি বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। তবে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কাউন্সিল বা সম্মেলন করা যাচ্ছে না মতলব উত্তর উপজেলায়। অপরদিকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ অভ্যন্তরীণ বিরোধে জড়িয়ে থাকায় দলীয় সম্মেলনে একমত হতে পারছে না বলে জানা গেছে। এ উপজেলার সম্মেলনের তারিখ চূড়ান্ত করতে জেলা আওয়ামী লীগ চেষ্টা করলে উপজেলা আওয়ামী লীগে বিভক্তি থাকায় তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
তবে স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছে, শেষ পর্যন্ত যদি কেন্দ্রের নির্দেশে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন-তারিখ নির্ধারণ হয় তাহলে সম্মেলনকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা।
এদিকে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের একটি সূত্র বলছে, ফরিদগঞ্জে বর্তমান সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান, সাবেক জেলা সভাপতি শামছুল হক ভূইয়া ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান রোমানের অবস্থান পরস্পর বিরোধী হওয়ায় ফরিদগঞ্জে দলীয় ঐক্যমত সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না।
এমন পরিস্থিতিতে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ এই ২ উপজেলার সামগ্রিক চিত্র কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগকে জানিয়ে চিঠি দেয় বলে জানা গেছে। পাশাপাশি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করার জন্য চিঠিতে উল্লেখ করেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ। এমন চিঠির পর কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগ কোন বার্তা জেলা আওয়ামী লীগকে না দেয়ায় সম্ভাব্য চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন এখন অনিশ্চয়তায় পরেছে।
তবে জেলা আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা এটাকে অনেকটাই ইতিবচক হিসেবেই দেখছেন বলে জানা গেছে। তারা দাবি করছেন বর্তমান জেলা কমিটি দলীয় ও মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে রাখতে সক্ষম হওয়ায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগও জেলা কমিটির উপর আস্থা রাখতে সক্ষম হয়েছে। যার কারণে চাঁদপুরের মাঠ পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা বর্তমান কমিটির নেতৃত্ব মেনে দলকে শক্তিশালী করতে কাজ করছেন।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগ চাঁদপুর সদর, হাইমচর, কচুয়া, শাহরাস্তি ও হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও পৌর আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করে নতুন কমিটি গঠন করতে সক্ষম হয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরনো নেতৃত্বই স্থান পেয়েছে সদ্যঘোষিত কমিটিতে। যার কারণে সম্মেলন না হওয়া ২টি উপজেলায়ও একই চিত্র বহাল থাকতে পারে বলে দলটির কর্মী-সমর্থকরা জানিয়েছে।
এদিকে গত ১০ ডিসেম্বর চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের দিন তারিখ নির্ধারিত থাকলেও বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সম্মেলনের কারণে তা নির্ধারণ করা হয় ১৯ ডিসেম্বর। জেলা আওয়ামী লীগের চিঠির জবাবে দলটির সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জেলা আওয়ামী লীগকে জানিয়েছেন পরে চাঁদপুরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। দলের সাধারণ সম্পাদকের এমন মনোভাবের কারণেই মূলত এখন চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের জেলা সম্মেলন অনিশ্চিত হয়ে পরেছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৬ সালে কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সাম্পাদক সৈয়দ আশ্রাফ চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহম্মেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটোয়ারী দুলালকে ঘোষণা করেন। সে থেকে এই দুই নেতার নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক দক্ষতায় দলকে জনপ্রিয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।

১৩ ডিসেম্বর, ২০২২।