চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের শোক সভা

ছাত্রলীগ একটি আদর্শের নাম
………শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি
স্টাফ রিপোর্টার
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত শহীদদের স্মরণে চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনা সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান আলোচকের বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ছাত্রলীগ শুধু ছাত্র সংগঠনের নাম নয়, এটি একটি আদর্শের নাম। কারণ, ছাত্রলীগের ইতিহাস জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে। ছাত্রলীগের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে ভাষার, স্বাধীনতার। দেশের একমাত্র ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ জন্মের পর সব আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দেশের জনগণের পক্ষে অকাতরে জীবন দিয়েছে। আন্দোলন সংগ্রাম, নির্বাচন ও দুর্যোগের এক ভ্যানগার্ডের নাম ছাত্রলীগ।
তিনি আরো বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা শুধু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের বা ক্ষমতার পালাবদলের জন্য নয়। স্বাধীন বাংলাদেশে যখন সাড়ে তিন বছরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিলো, তখন তারা এই দেশকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য এবং আবারো সেই পরাধীন পাকিস্তানীদের মতো অন্ধকার একটি রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্যই সে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলো।
তিনি বলেন, ৭১ এর পরাজিত শক্তিরাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। আর ৭১, ৭৫ ও ২০০৪ সালের খুনিরা একই সূত্রে গাঁথা। তারা এদেশের উন্নয়ন অগ্রগতিতে বিশ্বাস করে না। তারা এদেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে চায়। যেই কারণে জাতির পিতাকে হত্যার কিছুদিন পর জাতীয় ৪ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে এবং ২০০৪ সালে জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর হামলা চালিয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, আজ আমাদের পদ্মা সেতু হচ্ছে, আমরা সমুদ্র বিজয় করেছি, স্থল সীমা চুক্তি বাস্তবায়ন করেছি। এতোকিছু সম্ভব হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার ফলে। কাজেই এদেশের উন্নয়ন অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আবারো ক্ষমতায় আনতে হবে। তাহলেই এদেশ জাতির পিতার সোনার বাংলায় পরিণত হবে।
ডা. দীপু মনি বলেন, জিয়াউর রহমানের গড়া দল বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য মায়াকান্না করে। অথচ এই জিয়াউর রহমানের সময়ে এদেশে পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছিল। সেসময় এদেশে প্রতি রাতে কারফিউ ছিলো, তাহলে সেসময় এদেশে কোন গণতন্ত্র ছিলো?
আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ইতিহাসের প্রত্যেকটি অর্জনে ছাত্রলীগের অবদান রয়েছে। ছাত্রলীগ যেকোনো দুঃসময়ে মানুষের পাশেছিলো ভবিষ্যতেও থাকবে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার সোনার মানুষ গড়ার জন্য ছাত্রলীগ কাজ করবে। এসময় তিনি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের সাথে জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরে তার মরণোত্তর বিচার দাবি করেন।
চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. জহির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম হোসেন খানের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও আসন্ন পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী অ্যাড. জিল্লুর রহমান জুয়েল, জেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান টুটুল, চাঁদপুর সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী বেপারী, শিক্ষামন্ত্রীর চাঁদপুরস্থ প্রতিনিধি ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাড. সাইফুদ্দিন বাবু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি হেলাল হোসাইন, চাঁদপুর সদর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক অ্যাড. হুমায়ন কবির সুমন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক ফেরদৌস মোর্শেদ জুয়েল, চাঁদপুর সরকারি কলেজে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বেপারী, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোহাম্মদ মোতালেব, চাঁদপুর সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবিএম রেজওয়ান, সাধারণ সম্পাদক নাছির গাজী, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মুহাম্মদ সোহেল রানা, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রবিন পাটওয়ারী, হাজিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহন গাজী, হাজীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাব্বি, শাহরাস্তি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমদাদুল হক মিলন, সাধারণ সম্পাদক মুরাদ হোসেন মজুমদার, কচুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সরকার, যুগ্ম-আহ্বায়ক সোহাগ উদ্দিন’সহ জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
আলোচনার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন জেলা ছাত্রলীগ নেতা কাউসার আলম পান্না ও গীতা পাঠ করেন স্বাধীন ঘোষ। পরে সব শহীদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সভায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উপর বিশেষ ডকুমেন্টারি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রদর্শন করা হয়।
১ সেপ্টেম্বর, ২০২০।