বঙ্গবন্ধু বাঙালির স্বার্থে কখনো আপোষ করেননি
……………নাছির উদ্দিন আহমেদ
৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার মূলমন্ত্র শুনান
………….আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী
শাহ আলম খান
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা পরিষদের আয়োজনে ১শ’ ৬৩জন মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে চাঁদপুর জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, আজ জেলা পরিষদ মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়েছে সেজন্য ধন্যবাদ জানাই। এদেশের মানুষেরা শোষিত, নির্যাতিত ও নিপীড়িত জাতি ছিল। এ জাতির শান্তির এবং উন্নয়নের জন্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সবসময়ই লড়াই করে গেছেন। তিনি বাঙালি জাতির স্বার্থে কখনো আপোষ করেন নাই। বঙ্গবন্ধু আমাদের জন্যে একটি মানচিত্র এবং ঠিকানা দিয়েছেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত এদেশের জন্যে তিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতকারীরা তাঁর এ স্বপ্ন যেন বাস্তবায়ন না হয় এবং এদেশের যেন উন্নয়ন না হয়, সেজন্যে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যা মানে এদেশের স্বপ্নকে হত্যা করা হয়েছিল। আজ তাঁরই সুযোগ্য কন্যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করার জন্যে এদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আজ প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নত বিশ্বের রোলমডেল।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী। তিনি প্রথমেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, জাতির পিতা ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত অধিকারহারা শোষিত নির্যাতিত বাঙ্গালী জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করে ৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে স্বাধীনতার মূলমন্ত্র
শুনান। জাতির পিতার এই তেইশ বছরের সংগ্রামে প্রায় চৌদ্দটি বছর কারাগারে থাকতে হয়। ৭১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতার প্রথম প্রহরে বাঙালি জাতির কাক্সিক্ষত স্বপ্ন স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতা ঘোষণার পরপরই জাতির পিতাকে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী গ্রেপ্তার করেন। পরবর্তীতে পশ্চিম পাকিস্তানের নির্জন কারাগারে আটকে রাখে। বাঙ্গালী জাতি দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র লড়াই করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করি। আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী (মুজিববর্ষকে) আপনাদের কাছে স্মরণীয় করে রাখার জন্য মুজিববর্ষের মধ্যেই মহান মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বৈশ্বিক মহামারির কারনে আজকের এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অনেকে উপস্থিত হতে পারেন নাই। এছাড়া যারা আজকে আমাদের আমন্ত্রণে এসে উপস্থিত হয়ে জেলা পরিষদকে বাধিত করেছেন। আপনাদের উপস্থিতি আমাদের দেশপ্রেমে আরো উজ্জীবিত করবে।
ওচমান গনি পাটওয়ারী আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত গোষ্ঠী আমাদের মহান চেতনা ও আদর্শ জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙ্গার যে অপতৎপরতায় লিপ্ত আপনারা বীর মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে আছেন, আপনাদেরই এই পরাজিত গোষ্ঠীর বিরুদবধে আরেকটি যুদ্ধ সুসংগঠিত করে বাংলার জনগণকে সাথে নিয়ে এ কুলাঙ্গার গোষ্ঠীকে চিরতরের মতো নিশ্চিহ্ন করে বর্তমান প্রজন্মকে জাতির পিতার আদর্শ ও আপনাদের ত্যাগে উজ্জীবিত করে তাঁদের কাছে এই পবিত্র দেশ আর লাল সবুজের পতাকা রেখে যাবেন।
চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, সহ-সভাপতি আব্দুর রব ভূঁইয়া, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এম এ কুদ্দুস, সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুর আহমেদ প্রমুখ।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণ করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মিয়া মো. জাহাঙ্গীর, মো. আব্দুস ছালাম বীর বিক্রম, বীর প্রতিক শাজাহান কবির, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, বিএলএফ কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা হানিফ পাটওয়ারী, মুক্তিযোদ্ধা আকমত উল্লাহ স্বপন, শহীদ সালাউদ্দিন বীর উত্তমের সহধর্মিণী সালমা আহমেদ প্রমুখ।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি কয়েকটি পর্বে বিভক্ত করা হয়। ১ম পর্বে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী। এরপরই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর সেনানীদের ফুল দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
২য় পর্বে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস ছালামের নেতৃত্বে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর আলোচনা সভা শেষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত ও গীতা পাঠ এবং জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।
২৪ ডিসেম্বর, ২০২০।
